ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। জর্ডানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন যুদ্ধবিমান ও সমরাস্ত্র মোতায়েনের প্রমাণ পাওয়ায় এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রাপ্ত সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জর্ডানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ‘মুয়াফফাক সালতি’ বিমান ঘাঁটিতে ৬০টিরও বেশি অত্যাধুনিক আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। এই সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত রবিবার থেকে অন্তত ৬৮টি কার্গো বিমান ওই ঘাঁটিতে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছে। উপগ্রহচিত্রে শনাক্ত হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম ‘এফ-৩৫’ স্টেলথ ফাইটার জেট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও ঘাঁটিতে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মূল রানওয়ের বাইরে বিশেষ ছাউনির নিচে আরও গোপন সমরাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ওই ঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। জর্ডানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রণসজ্জা কেবল চুক্তির অংশ নয়, বরং ইরানকে লক্ষ্য করে ওয়াশিংটনের একটি কঠোর ও সরাসরি সতর্কবার্তা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ইরানকে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে বাধ্য করতে দেশটিতে ‘সীমিত সামরিক হামলার’ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে তার প্রশাসন। ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং জর্ডানের মতো স্পর্শকাতর স্থানে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বিশ্বনেতারা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতির দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে গেলে যেকোনো সময় শুরু হতে পারে বিধ্বংসী যুদ্ধ। এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ব ভূ-রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। জর্ডানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন যুদ্ধবিমান ও সমরাস্ত্র মোতায়েনের প্রমাণ পাওয়ায় এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রাপ্ত সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জর্ডানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ‘মুয়াফফাক সালতি’ বিমান ঘাঁটিতে ৬০টিরও বেশি অত্যাধুনিক আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। এই সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত রবিবার থেকে অন্তত ৬৮টি কার্গো বিমান ওই ঘাঁটিতে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছে। উপগ্রহচিত্রে শনাক্ত হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম ‘এফ-৩৫’ স্টেলথ ফাইটার জেট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও ঘাঁটিতে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মূল রানওয়ের বাইরে বিশেষ ছাউনির নিচে আরও গোপন সমরাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ওই ঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। জর্ডানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রণসজ্জা কেবল চুক্তির অংশ নয়, বরং ইরানকে লক্ষ্য করে ওয়াশিংটনের একটি কঠোর ও সরাসরি সতর্কবার্তা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ইরানকে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে বাধ্য করতে দেশটিতে ‘সীমিত সামরিক হামলার’ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে তার প্রশাসন। ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং জর্ডানের মতো স্পর্শকাতর স্থানে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বিশ্বনেতারা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতির দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে গেলে যেকোনো সময় শুরু হতে পারে বিধ্বংসী যুদ্ধ। এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ব ভূ-রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন