ফিলিস্তিনের গাজা পুনর্গঠন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত 'শান্তি পরিষদ' বা 'বোর্ড অব পিস' নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোড়জোড় চলছে, ঠিক তখনই একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। ফাঁস হওয়া নথির বরাতে জানানো হয়েছে, শান্তি পরিষদের আড়ালে গাজায় ৩৫০ একর জায়গাজুড়ে একটি বিশাল সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের গোপন পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই ঘাঁটিটি হবে মূলত 'আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর' (আইএসএফ) একটি অপারেশনাল বেস। প্রায় ৫ হাজার সেনাসদস্যের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই ঘাঁটিটি দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতল এলাকায় নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যার নকশায় ১৪০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১১০০ মিটার প্রস্থের একটি বিশাল কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকাটি কাঁটাতারের বেষ্টনীতে ঘেরা থাকবে এবং এতে থাকবে ২৬টি অত্যাধুনিক সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার, বাঙ্কার, সামরিক সরঞ্জামের গুদাম ও ছোট অস্ত্রের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বিশেষ করে উন্নত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা সম্পন্ন বাঙ্কারগুলোর নকশা করা হয়েছে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় আশ্রয়ের উপযোগী করে।
নথিতে আরও দেখা গেছে, ঘাঁটি নির্মাণের আগে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ বা ফাঁকা জায়গা শনাক্ত করতে ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা হামাসের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কের প্রতি ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণকাজের সময় মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেলে বিশেষ প্রোটোকল মেনে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশও রয়েছে নথিতে। উল্লেখ্য, গাজার সিভিল ডিফেন্সের তথ্য মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে।
এই পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিনি-কানাডীয় আইনজীবী ডায়ানা বুত্তু একে ‘সরাসরি দখলদারিত্ব’ হিসেবে অভিহিত করে প্রশ্ন তুলেছেন, ফিলিস্তিনিদের অনুমতি ছাড়া কার মদতে এই ঘাঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করলেও এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন যে মার্কিন কোনো সেনা গাজায় নামবে না। তবে নথির সত্যতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি হোয়াইট হাউস।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফিলিস্তিনের গাজা পুনর্গঠন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত 'শান্তি পরিষদ' বা 'বোর্ড অব পিস' নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোড়জোড় চলছে, ঠিক তখনই একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। ফাঁস হওয়া নথির বরাতে জানানো হয়েছে, শান্তি পরিষদের আড়ালে গাজায় ৩৫০ একর জায়গাজুড়ে একটি বিশাল সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের গোপন পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই ঘাঁটিটি হবে মূলত 'আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর' (আইএসএফ) একটি অপারেশনাল বেস। প্রায় ৫ হাজার সেনাসদস্যের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই ঘাঁটিটি দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতল এলাকায় নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যার নকশায় ১৪০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১১০০ মিটার প্রস্থের একটি বিশাল কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকাটি কাঁটাতারের বেষ্টনীতে ঘেরা থাকবে এবং এতে থাকবে ২৬টি অত্যাধুনিক সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার, বাঙ্কার, সামরিক সরঞ্জামের গুদাম ও ছোট অস্ত্রের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বিশেষ করে উন্নত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা সম্পন্ন বাঙ্কারগুলোর নকশা করা হয়েছে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় আশ্রয়ের উপযোগী করে।
নথিতে আরও দেখা গেছে, ঘাঁটি নির্মাণের আগে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ বা ফাঁকা জায়গা শনাক্ত করতে ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা হামাসের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কের প্রতি ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণকাজের সময় মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেলে বিশেষ প্রোটোকল মেনে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশও রয়েছে নথিতে। উল্লেখ্য, গাজার সিভিল ডিফেন্সের তথ্য মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে।
এই পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিনি-কানাডীয় আইনজীবী ডায়ানা বুত্তু একে ‘সরাসরি দখলদারিত্ব’ হিসেবে অভিহিত করে প্রশ্ন তুলেছেন, ফিলিস্তিনিদের অনুমতি ছাড়া কার মদতে এই ঘাঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করলেও এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন যে মার্কিন কোনো সেনা গাজায় নামবে না। তবে নথির সত্যতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি হোয়াইট হাউস।

আপনার মতামত লিখুন