নয়াদিল্লিতে আয়োজিত বিশ্ব এআই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বের নেতাদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বৈপ্লবিক এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কেবল অল্প কিছু দেশ বা গুটিকয়েক ধনকুবেরের ‘খামখেয়ালি বা মর্জির’ ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। গুতেরেসের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এআই বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
প্রযুক্তি জগতের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে গুতেরেস এআই-এর সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারের একটি ‘গ্লোবাল ফান্ড অন এআই’ বা বৈশ্বিক এআই তহবিল গঠনের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বিশাল অংকের অর্থ অনেক বড় প্রযুক্তি কোম্পানির বার্ষিক আয়ের মাত্র এক শতাংশের চেয়েও কম। এই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা না হলে অনেক উন্নয়নশীল দেশ এআই বিপ্লব থেকে ছিটকে পড়বে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এআই-এর ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এটি চিকিৎসা, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বড় সংকট মোকাবিলায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তিনি এর নেতিবাচক দিকগুলো নিয়েও হুঁশিয়ারি দেন। তিনি সতর্ক করেন যে, অনিয়ন্ত্রিত এআই পক্ষপাতিত্ব উসকে দিতে পারে এবং সাধারণ মানুষকে শোষণের মুখে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো শিশুই যেন এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক বস্তুতে পরিণত না হয়।
এছাড়া এআই প্রযুক্তির কারণে পানি ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি ডেটা সেন্টারগুলোতে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর জোর দেন, যাতে সাধারণ মানুষের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না হয়। এই প্রযুক্তির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক সুরক্ষাকবচ তৈরি করতে ইতোমধ্যে জাতিসংঘ একটি বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে বলেও তিনি সম্মেলনে জানান।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লিতে আয়োজিত বিশ্ব এআই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বের নেতাদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বৈপ্লবিক এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কেবল অল্প কিছু দেশ বা গুটিকয়েক ধনকুবেরের ‘খামখেয়ালি বা মর্জির’ ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। গুতেরেসের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এআই বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
প্রযুক্তি জগতের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে গুতেরেস এআই-এর সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারের একটি ‘গ্লোবাল ফান্ড অন এআই’ বা বৈশ্বিক এআই তহবিল গঠনের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বিশাল অংকের অর্থ অনেক বড় প্রযুক্তি কোম্পানির বার্ষিক আয়ের মাত্র এক শতাংশের চেয়েও কম। এই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা না হলে অনেক উন্নয়নশীল দেশ এআই বিপ্লব থেকে ছিটকে পড়বে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এআই-এর ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এটি চিকিৎসা, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বড় সংকট মোকাবিলায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তিনি এর নেতিবাচক দিকগুলো নিয়েও হুঁশিয়ারি দেন। তিনি সতর্ক করেন যে, অনিয়ন্ত্রিত এআই পক্ষপাতিত্ব উসকে দিতে পারে এবং সাধারণ মানুষকে শোষণের মুখে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো শিশুই যেন এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক বস্তুতে পরিণত না হয়।
এছাড়া এআই প্রযুক্তির কারণে পানি ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি ডেটা সেন্টারগুলোতে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর জোর দেন, যাতে সাধারণ মানুষের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না হয়। এই প্রযুক্তির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক সুরক্ষাকবচ তৈরি করতে ইতোমধ্যে জাতিসংঘ একটি বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে বলেও তিনি সম্মেলনে জানান।

আপনার মতামত লিখুন