ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বাহুবল উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম-দুর্নীতির মহোৎসব



বাহুবল উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম-দুর্নীতির মহোৎসব
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যসেবার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, চিকিৎসক সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নিম্নমানের খাবার সরবরাহের কারণে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

স্থানীয়রা জানান, এসব কারণে সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা দ্রুত কমে যাচ্ছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯৮৪ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে চালু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও আধুনিক সরঞ্জাম নিশ্চিত না হওয়ায় সেবার মান বাড়েনি। বরং সময়ের সঙ্গে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সার্জারি যন্ত্রপাতির ঘাটতি, ওয়ার্ডে পানি-বিদ্যুৎ সমস্যা, বাথরুমে দুর্গন্ধ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্যাথলজি বিভাগের সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরে পাঠাতে হচ্ছে, ফলে বাড়ছে অতিরিক্ত ব্যয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পর্যাপ্ত এমবিবিএস চিকিৎসক না থাকার কারণে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার দায়িত্ব মূলত ম্যাটস (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল) ইন্টার্নদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন প্রদান ও রোগ নির্ণয় করার কারণে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি বাড়ছে। রোগী ও স্বজনরা জানান, অনেক সময় স্টাফই ওষুধ লিখে দেন, তারা পূর্ণাঙ্গ ডাক্তার নন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশিক্ষণার্থীদের দ্বারা চিকিৎসা করানো আইনগত ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। হাসপাতালের কেবিনগুলো প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রভাব খাটাতে পারলে কেবিন পাওয়া যায়। সরকারি খরচে খাবার ও বিনামূল্যের ওষুধ মানসম্মত না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হয়। যন্ত্রপাতি ও ওষুধ কেনায় অনিয়ম, বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দাম এবং নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগ ও বদলিতে প্রভাব-বাণিজ্য এবং চিকিৎসকদের অফিস সময়েও ব্যক্তিগত চেম্বারে ব্যস্ত থাকা বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত সংস্কার, পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ, দালাল চক্র নির্মূল এবং কঠোর তদারকি ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারিও জরুরি।

বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহ হেল মারুফ ফারকী-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


বাহুবল উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম-দুর্নীতির মহোৎসব

প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যসেবার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, চিকিৎসক সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নিম্নমানের খাবার সরবরাহের কারণে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

স্থানীয়রা জানান, এসব কারণে সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা দ্রুত কমে যাচ্ছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯৮৪ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে চালু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও আধুনিক সরঞ্জাম নিশ্চিত না হওয়ায় সেবার মান বাড়েনি। বরং সময়ের সঙ্গে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সার্জারি যন্ত্রপাতির ঘাটতি, ওয়ার্ডে পানি-বিদ্যুৎ সমস্যা, বাথরুমে দুর্গন্ধ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্যাথলজি বিভাগের সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরে পাঠাতে হচ্ছে, ফলে বাড়ছে অতিরিক্ত ব্যয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পর্যাপ্ত এমবিবিএস চিকিৎসক না থাকার কারণে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার দায়িত্ব মূলত ম্যাটস (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল) ইন্টার্নদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন প্রদান ও রোগ নির্ণয় করার কারণে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি বাড়ছে। রোগী ও স্বজনরা জানান, অনেক সময় স্টাফই ওষুধ লিখে দেন, তারা পূর্ণাঙ্গ ডাক্তার নন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশিক্ষণার্থীদের দ্বারা চিকিৎসা করানো আইনগত ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। হাসপাতালের কেবিনগুলো প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রভাব খাটাতে পারলে কেবিন পাওয়া যায়। সরকারি খরচে খাবার ও বিনামূল্যের ওষুধ মানসম্মত না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হয়। যন্ত্রপাতি ও ওষুধ কেনায় অনিয়ম, বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দাম এবং নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগ ও বদলিতে প্রভাব-বাণিজ্য এবং চিকিৎসকদের অফিস সময়েও ব্যক্তিগত চেম্বারে ব্যস্ত থাকা বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত সংস্কার, পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ, দালাল চক্র নির্মূল এবং কঠোর তদারকি ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারিও জরুরি।

বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহ হেল মারুফ ফারকী-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ