গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে বাস্তব সংখ্যা অনেক বেশি—ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা মরদেহ এবং ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে অনেক মৃত্যুর তথ্য নথিবদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ-এ প্রকাশিত ‘গাজা মর্টালিটি সার্ভে’ অনুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৭৫,২০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এটি গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩.৪ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবের চেয়ে ৩৪.৭ শতাংশ বেশি।
নিহতদের মধ্যে ৫৬.২ শতাংশ নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, অবরোধ ও মানবেতর পরিস্থিতির কারণে আরও ১৬,৩০০ জন অ-সহিংস কারণে মারা গেছেন; এর মধ্যে ৮,৫৪০ জন চিকিৎসা সেবার অভাব ও জীবনযাত্রার মানের অবনতি নিয়ে মারা গেছেন।
চিকিৎসা অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে আহতদের অবস্থাও শোচনীয়। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আহতের সংখ্যা ১ লাখ ১৬,০২০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২৯ থেকে ৪৬ হাজার মানুষকে জটিল পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার করতে হবে। যুদ্ধের আগে ২২ লাখ জনসংখ্যার এই অঞ্চলে মাত্র ৮ জন বোর্ড-প্রত্যয়িত প্লাস্টিক সার্জন ছিল, ফলে অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ করতে ১০ বছরের বেশি সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
গাজার ৩৬টি হাসপাতালে মাত্র ১২টি আংশিক সচল রয়েছে। যুদ্ধের আগে যেখানে ৩,০০০ শয্যা ছিল, এখন তা ২,০০০-এর নিচে নেমে এসেছে। বিশেষায়িত চিকিৎসা যেমন মাইক্রোসার্জারির সুযোগ নেই। ইসরায়েলি হামলায় দগ্ধ ও হাড় ভেঙে যাওয়া হাজার হাজার রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্ব ও সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
২০২৫ সালের আগস্টে উত্তর গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়। ইসরায়েলি বাহিনীর জোরপূর্বক উচ্ছেদের কারণে গাজার ৮০ শতাংশ মানুষ গৃহহীন। বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধবিরতি এবং বিশাল আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তার মাধ্যমে মানবিক বিপর্যয় রোধের আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য: এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতিই যথেষ্ট নয়; গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন ও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা জরুরি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে বাস্তব সংখ্যা অনেক বেশি—ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা মরদেহ এবং ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে অনেক মৃত্যুর তথ্য নথিবদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ-এ প্রকাশিত ‘গাজা মর্টালিটি সার্ভে’ অনুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৭৫,২০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এটি গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩.৪ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবের চেয়ে ৩৪.৭ শতাংশ বেশি।
নিহতদের মধ্যে ৫৬.২ শতাংশ নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, অবরোধ ও মানবেতর পরিস্থিতির কারণে আরও ১৬,৩০০ জন অ-সহিংস কারণে মারা গেছেন; এর মধ্যে ৮,৫৪০ জন চিকিৎসা সেবার অভাব ও জীবনযাত্রার মানের অবনতি নিয়ে মারা গেছেন।
চিকিৎসা অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে আহতদের অবস্থাও শোচনীয়। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আহতের সংখ্যা ১ লাখ ১৬,০২০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২৯ থেকে ৪৬ হাজার মানুষকে জটিল পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার করতে হবে। যুদ্ধের আগে ২২ লাখ জনসংখ্যার এই অঞ্চলে মাত্র ৮ জন বোর্ড-প্রত্যয়িত প্লাস্টিক সার্জন ছিল, ফলে অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ করতে ১০ বছরের বেশি সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
গাজার ৩৬টি হাসপাতালে মাত্র ১২টি আংশিক সচল রয়েছে। যুদ্ধের আগে যেখানে ৩,০০০ শয্যা ছিল, এখন তা ২,০০০-এর নিচে নেমে এসেছে। বিশেষায়িত চিকিৎসা যেমন মাইক্রোসার্জারির সুযোগ নেই। ইসরায়েলি হামলায় দগ্ধ ও হাড় ভেঙে যাওয়া হাজার হাজার রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্ব ও সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
২০২৫ সালের আগস্টে উত্তর গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়। ইসরায়েলি বাহিনীর জোরপূর্বক উচ্ছেদের কারণে গাজার ৮০ শতাংশ মানুষ গৃহহীন। বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধবিরতি এবং বিশাল আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তার মাধ্যমে মানবিক বিপর্যয় রোধের আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য: এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতিই যথেষ্ট নয়; গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন ও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন