ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

যুদ্ধবিরতির পরও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে কম্বোডিয়ার ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুদ্ধবিরতির পরও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে কম্বোডিয়ার ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, সীমান্ত যুদ্ধবিরতির পরও থাইল্যান্ডের সৈন্যরা কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডে গভীরভাবে অবস্থান করছে এবং কিছু এলাকায় শিপিং কন্টেইনার ও কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সাক্ষাৎকারে তিনি সীমান্ত পরিস্থিতিকে ‘ভঙ্গুর’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং থাইল্যান্ডকে দ্রুত যৌথ সীমানা কমিশন বা জেবিসি কাজ শুরু করার আহ্বান জানান।

হুন মানেত অভিযোগ করেন, থাইল্যান্ডের এই পদক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে এবং এটি কম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত। তিনি বলেন, এটি নিছক অভিযোগ নয়, মাঠ পর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি।

থাইল্যান্ড শুরু থেকেই এই দাবিকে অস্বীকার করে এসেছে। তাদের মতে, সীমান্তে সেনা মোতায়েন শান্তি বজায় রাখার অংশ এবং কোনো ভূখণ্ড দখলের পরিকল্পনা নেই। গত বছর জুলাইয়ে দুই দেশের ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। পরে অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় দুই দফা অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

হুন মানেত আশা প্রকাশ করেছেন, ৮ ফেব্রুয়ারির থাই নির্বাচন শেষ হওয়ার পর কারিগরি পর্যায়ে দুই দেশের সীমানা মাপজোকের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। ২০২৩ সালে তার বাবা হুন সেনের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণের পর কম্বোডিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনরায় উষ্ণ হতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট পয়েন্টে শিক্ষা গ্রহণ করা মানেত চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেও আমেরিকার সঙ্গে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী।

সাক্ষাৎকারে হুন মানেত মানবাধিকার রক্ষা, সাইবার প্রতারণা দমন এবং অনলাইন প্রতারণা চক্র বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়নসহ অপরাধীদের দেশান্তরের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়েও আলোকপাত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির টেকসইতা এখন পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


যুদ্ধবিরতির পরও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে কম্বোডিয়ার ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, সীমান্ত যুদ্ধবিরতির পরও থাইল্যান্ডের সৈন্যরা কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডে গভীরভাবে অবস্থান করছে এবং কিছু এলাকায় শিপিং কন্টেইনার ও কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সাক্ষাৎকারে তিনি সীমান্ত পরিস্থিতিকে ‘ভঙ্গুর’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং থাইল্যান্ডকে দ্রুত যৌথ সীমানা কমিশন বা জেবিসি কাজ শুরু করার আহ্বান জানান।

হুন মানেত অভিযোগ করেন, থাইল্যান্ডের এই পদক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে এবং এটি কম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত। তিনি বলেন, এটি নিছক অভিযোগ নয়, মাঠ পর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি।

থাইল্যান্ড শুরু থেকেই এই দাবিকে অস্বীকার করে এসেছে। তাদের মতে, সীমান্তে সেনা মোতায়েন শান্তি বজায় রাখার অংশ এবং কোনো ভূখণ্ড দখলের পরিকল্পনা নেই। গত বছর জুলাইয়ে দুই দেশের ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। পরে অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় দুই দফা অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

হুন মানেত আশা প্রকাশ করেছেন, ৮ ফেব্রুয়ারির থাই নির্বাচন শেষ হওয়ার পর কারিগরি পর্যায়ে দুই দেশের সীমানা মাপজোকের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। ২০২৩ সালে তার বাবা হুন সেনের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণের পর কম্বোডিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনরায় উষ্ণ হতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট পয়েন্টে শিক্ষা গ্রহণ করা মানেত চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেও আমেরিকার সঙ্গে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী।

সাক্ষাৎকারে হুন মানেত মানবাধিকার রক্ষা, সাইবার প্রতারণা দমন এবং অনলাইন প্রতারণা চক্র বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়নসহ অপরাধীদের দেশান্তরের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়েও আলোকপাত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির টেকসইতা এখন পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ