ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

'মার্কিন রণতরি ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ইরান': খামেনির হুঁশিয়ারি


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

'মার্কিন রণতরি ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ইরান': খামেনির হুঁশিয়ারি

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চলমান থাকলেও ওয়াশিংটনের প্রতি নিজের কঠোর অবস্থানে অটল রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। একদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চুক্তির 'নির্দেশনামূলক নীতি' নিয়ে সমঝোতার কথা জানালেও অন্যদিকে খামেনি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা বিষয়ে চরম হতাশাবাদী সুর ব্যক্ত করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা উৎখাতের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে খামেনি বলেন, "এটি একটি ভালো স্বীকারোক্তি। কিন্তু আপনারা ভবিষ্যতেও এটি করতে পারবেন না।"

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন হবে 'সবচেয়ে ভালো ঘটনা'। খামেনি তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে বর্তমান মার্কিন নেতাদের 'দুর্নীতিবাজ' হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করার ঘোষণা দেন। পরমাণু শক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা আলোচনার কথা বলে মূলত আমাদের পরমাণু শক্তি কেড়ে নিতে চায়। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যের কোঠায় নামানোর মতো 'বোকামি' দাবি মেনে নিয়ে প্রকৃত আলোচনা সম্ভব নয়।

খামেনির এই কঠোর বার্তার কয়েক ঘণ্টা আগে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা শেষে ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত দফার তুলনায় এবার অত্যন্ত গম্ভীর ও গঠনমূলক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে এবং চুক্তির নির্দেশনামূলক নীতি নির্ধারিত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই একটি খসড়া নথি তৈরি করা সম্ভব হবে।

ওমানের মধ্যস্থতায় চলা এই আলোচনায় তেহরান মূলত ২০১৮ সালে ট্রাম্প কর্তৃক বাতিল করা পরমাণু চুক্তির পর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের ওপর জোর দিচ্ছে। এর বিপরীতে ইরান ইউরেনিয়াম লঘুকরণ এবং সম্ভাব্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক অংশীদার করার প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদ ঘানবারি পরামর্শ দিয়েছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে জ্বালানি সরবরাহ বা মার্কিন বিমান ক্রয় করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করতে হবে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে হবে এবং লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে। তবে ইরান এসব দাবি 'রেড লাইন' বা সীমালঙ্ঘন হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান আরও কমে এক ডলারের বিপরীতে ১৬.৩ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় রেকর্ড নিম্নমুখী। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের পরিচালক আলি ভায়েজ বলেছেন, এত দ্রুত শেষ হওয়া আলোচনা নিয়ে আশাবাদী হওয়া কঠিন।

এদিকে মাঠপর্যায়ে সামরিক উত্তেজনাও কমেনি। পারস্য উপসাগরে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্দেশ পেলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশ বহনকারী এই জলপথ বন্ধ করে দিতে তারা প্রস্তুত। মঙ্গলবার মহড়া চলাকালীন কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হয়েছিল।

তেহরানের সংবাদপত্রগুলোতেও পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটেছে। 'হামশাহরি' পত্রিকা শিরোনাম করেছে— 'জেনেভা থেকে হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত শক্তি প্রদর্শন'। তবে কোনো পক্ষই অদূর ভবিষ্যতে বড় কোনো চুক্তির সম্ভাবনা দেখছে না।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


'মার্কিন রণতরি ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ইরান': খামেনির হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চলমান থাকলেও ওয়াশিংটনের প্রতি নিজের কঠোর অবস্থানে অটল রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। একদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চুক্তির 'নির্দেশনামূলক নীতি' নিয়ে সমঝোতার কথা জানালেও অন্যদিকে খামেনি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা বিষয়ে চরম হতাশাবাদী সুর ব্যক্ত করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা উৎখাতের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে খামেনি বলেন, "এটি একটি ভালো স্বীকারোক্তি। কিন্তু আপনারা ভবিষ্যতেও এটি করতে পারবেন না।"

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন হবে 'সবচেয়ে ভালো ঘটনা'। খামেনি তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে বর্তমান মার্কিন নেতাদের 'দুর্নীতিবাজ' হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করার ঘোষণা দেন। পরমাণু শক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা আলোচনার কথা বলে মূলত আমাদের পরমাণু শক্তি কেড়ে নিতে চায়। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যের কোঠায় নামানোর মতো 'বোকামি' দাবি মেনে নিয়ে প্রকৃত আলোচনা সম্ভব নয়।

খামেনির এই কঠোর বার্তার কয়েক ঘণ্টা আগে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা শেষে ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত দফার তুলনায় এবার অত্যন্ত গম্ভীর ও গঠনমূলক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে এবং চুক্তির নির্দেশনামূলক নীতি নির্ধারিত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই একটি খসড়া নথি তৈরি করা সম্ভব হবে।

ওমানের মধ্যস্থতায় চলা এই আলোচনায় তেহরান মূলত ২০১৮ সালে ট্রাম্প কর্তৃক বাতিল করা পরমাণু চুক্তির পর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের ওপর জোর দিচ্ছে। এর বিপরীতে ইরান ইউরেনিয়াম লঘুকরণ এবং সম্ভাব্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক অংশীদার করার প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদ ঘানবারি পরামর্শ দিয়েছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে জ্বালানি সরবরাহ বা মার্কিন বিমান ক্রয় করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করতে হবে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে হবে এবং লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে। তবে ইরান এসব দাবি 'রেড লাইন' বা সীমালঙ্ঘন হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান আরও কমে এক ডলারের বিপরীতে ১৬.৩ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় রেকর্ড নিম্নমুখী। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের পরিচালক আলি ভায়েজ বলেছেন, এত দ্রুত শেষ হওয়া আলোচনা নিয়ে আশাবাদী হওয়া কঠিন।

এদিকে মাঠপর্যায়ে সামরিক উত্তেজনাও কমেনি। পারস্য উপসাগরে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্দেশ পেলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশ বহনকারী এই জলপথ বন্ধ করে দিতে তারা প্রস্তুত। মঙ্গলবার মহড়া চলাকালীন কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হয়েছিল।

তেহরানের সংবাদপত্রগুলোতেও পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটেছে। 'হামশাহরি' পত্রিকা শিরোনাম করেছে— 'জেনেভা থেকে হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত শক্তি প্রদর্শন'। তবে কোনো পক্ষই অদূর ভবিষ্যতে বড় কোনো চুক্তির সম্ভাবনা দেখছে না।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ