চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের বকশিপুর গ্রামে একই সময়ে তিনটি পান বরজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে বকশিপুর স্কুলপাড়া মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি অনুযায়ী আনুমানিক দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
একই মাঠে একাধিক বরজে একযোগে আগুন লাগার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বকশিপুর গ্রামের মাতাফের ছেলে আব্দুল হান্নানের মাঠে থাকা দুটি বড় পান বরজ এবং একই এলাকার মৃত আরশিদের ছেলে রুপচানের একটি পান বরজে হঠাৎ আগুন লাগে। বরজগুলো বড় আকারের হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নেয়। তিনটি বরজ প্রায় ৩০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় আগুন লাগার ধরন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
কেউ কেউ ধারণা করছেন, প্রথমে আব্দুল হান্নানের দুটি বরজে আগুন লাগে এবং পরে তা রুপচানের বরজে ছড়িয়ে পড়ে। আবার পৃথকভাবে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে এলাকাবাসী মসজিদের মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করেন এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা মাঠের ডিপ টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে তিনটি বড় পান বরজের মধ্যে প্রায় ৬-৭ কাঠা বরজ পুড়ে গেছে এবং এতে আনুমানিক প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল হান্নান দাবি করেন, তাঁর প্রায় সাড়ে ১৭ কাঠা জমিতে থাকা দুটি বড় পান বরজের বড় অংশ পুড়ে গেছে এবং এতে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে কেউ আগুন দিয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী করি, সে কারণেও কেউ আগুন দিতে পারে। এর আগেও আমার বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করবো।” অপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রুপচান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তিনি তাঁর বরজে আগুন জ্বলতে দেখেন। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে বা কারা দিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কাউকে দেখেননি এবং নির্দিষ্ট করে কাউকে সন্দেহও করতে পারছেন না। স্থানীয় ব্যক্তি খবির আলী বলেন, এটি রাজনৈতিক কোনো ঘটনা বলে তাঁর মনে হয় না।
তিনি জানান, আব্দুল হান্নান জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সেক্রেটারি এবং রুপচান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ওয়ার্ড সেক্রেটারি হলেও বিষয়টি দলীয় বিরোধজনিত নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় একই মাঠে থাকা অন্য কৃষকরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এলাকাবাসী প্রত্যাশা করছেন।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের বকশিপুর গ্রামে একই সময়ে তিনটি পান বরজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে বকশিপুর স্কুলপাড়া মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি অনুযায়ী আনুমানিক দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
একই মাঠে একাধিক বরজে একযোগে আগুন লাগার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বকশিপুর গ্রামের মাতাফের ছেলে আব্দুল হান্নানের মাঠে থাকা দুটি বড় পান বরজ এবং একই এলাকার মৃত আরশিদের ছেলে রুপচানের একটি পান বরজে হঠাৎ আগুন লাগে। বরজগুলো বড় আকারের হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নেয়। তিনটি বরজ প্রায় ৩০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় আগুন লাগার ধরন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
কেউ কেউ ধারণা করছেন, প্রথমে আব্দুল হান্নানের দুটি বরজে আগুন লাগে এবং পরে তা রুপচানের বরজে ছড়িয়ে পড়ে। আবার পৃথকভাবে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে এলাকাবাসী মসজিদের মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করেন এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা মাঠের ডিপ টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে তিনটি বড় পান বরজের মধ্যে প্রায় ৬-৭ কাঠা বরজ পুড়ে গেছে এবং এতে আনুমানিক প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল হান্নান দাবি করেন, তাঁর প্রায় সাড়ে ১৭ কাঠা জমিতে থাকা দুটি বড় পান বরজের বড় অংশ পুড়ে গেছে এবং এতে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে কেউ আগুন দিয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী করি, সে কারণেও কেউ আগুন দিতে পারে। এর আগেও আমার বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করবো।” অপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রুপচান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তিনি তাঁর বরজে আগুন জ্বলতে দেখেন। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে বা কারা দিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কাউকে দেখেননি এবং নির্দিষ্ট করে কাউকে সন্দেহও করতে পারছেন না। স্থানীয় ব্যক্তি খবির আলী বলেন, এটি রাজনৈতিক কোনো ঘটনা বলে তাঁর মনে হয় না।
তিনি জানান, আব্দুল হান্নান জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সেক্রেটারি এবং রুপচান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ওয়ার্ড সেক্রেটারি হলেও বিষয়টি দলীয় বিরোধজনিত নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় একই মাঠে থাকা অন্য কৃষকরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এলাকাবাসী প্রত্যাশা করছেন।

আপনার মতামত লিখুন