ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করছেন। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ নতুন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদেরও শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে।
বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-এমপিদের বেতন ও সুবিধা ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ১৯৭৩ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এর আদেশে এ অধ্যাদেশ জারি হয় এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১২ মে সংশোধনী আনা হয়েছে।
দেশে সর্বোচ্চ বেতন পান রাষ্ট্রপতি, মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রীর মাসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, যা ব্যক্তিগত ও সরকারি সব ব্যয়সহ সরকার বহন করে। প্রধানমন্ত্রী বাড়িভাড়া হিসেবে ১ লাখ টাকা পান (সরকারি বাসভবনে থাকলে প্রযোজ্য নয়), দৈনিক ভাতা ৩ হাজার টাকা, বিমান ভ্রমণের জন্য ২৫ লাখ টাকার বিমা কভারেজ এবং ১.৫ কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল পান।
জাতীয় সংসদের স্পিকারের বেতন ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। প্রধান বিচারপতি মাসে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পান। মন্ত্রীরা পান ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও বিরোধীদলীয় নেতা ৯২ হাজার টাকা, উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং সাধারণ সংসদ সদস্যদের (এমপি) বেতন ৫৫ হাজার টাকা।
বেতনের বাইরে মন্ত্রী-এমপিরা বিভিন্ন খাতে ভাতা পান। এর মধ্যে আছে আপ্যায়ন, চিকিৎসা, পরিবহন, ভ্রমণ, অফিস পরিচালনা ও টেলিফোন বিল। সংসদ সদস্যরা বিমা সুবিধার আওতায় থাকেন।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি পান। সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ পান। জ্বালানি বাবদ দৈনিক ১৮ লিটার সমপরিমাণ অর্থ, পরিবহন ভাতা মাসে ৭০ হাজার টাকা এবং নির্বাচনি এলাকায় যাতায়াতের জন্য মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা পান।
সংসদ সদস্যরা সরকারি প্লট পান। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি বাসভবন পান; বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন বিল সরকার বহন করে। সরকারি বাসায় না থাকলে মন্ত্রীরা মাসে ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীরা ৭০ হাজার টাকা বাড়িভাড়া পান। সরকারি বাসা সাজাতে মন্ত্রীরা বছরে ৫ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা ৪ লাখ টাকা পান। নিজস্ব বা ভাড়া বাসায় থাকলে তিন মাসের বাড়িভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ দেওয়া হয়।
নির্দিষ্ট ভাতার মধ্যে মাসে ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা, টেলিফোন ভাতা ৭ হাজার ৮০০ টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ বাবদ ৬ হাজার টাকা অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনি এলাকার অফিস পরিচালনায় এমপিরা মাসে ১৫ হাজার টাকা পান। আপ্যায়ন ভাতা একজন মন্ত্রী ১০ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৭ হাজার ৫০০ টাকা, উপমন্ত্রী ও এমপি ৫ হাজার টাকা।
দাতব্য তহবিল হিসেবে মন্ত্রীরা বছরে ১০ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৭.৫ লাখ, উপমন্ত্রী ৫ লাখ এবং সংসদ সদস্যরা ৫ লাখ টাকা পান। এছাড়া বার্ষিক ৫ লাখ টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিলও রয়েছে।
বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প থেকে সুবিধা পাওয়া যায়। মন্ত্রীরা একজন একান্ত সচিব (পিএস), একজন সহকারী একান্ত সচিব ও নিজ পছন্দের একজন সহকারী একান্ত সচিব পান। এছাড়া দুইজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, একজন জমাদার, একজন আরদালি, দুইজন অফিস সহায়ক ও একজন পাচক থাকেন। প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা একজন একান্ত সচিব, একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন জমাদার, একজন আরদালি ও একজন অফিস সহায়ক পান। সব এমপি, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর জন্য একটি করে সরকারি মোবাইল ফোনের সুবিধাও রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করছেন। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ নতুন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদেরও শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে।
বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-এমপিদের বেতন ও সুবিধা ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ১৯৭৩ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এর আদেশে এ অধ্যাদেশ জারি হয় এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১২ মে সংশোধনী আনা হয়েছে।
দেশে সর্বোচ্চ বেতন পান রাষ্ট্রপতি, মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রীর মাসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, যা ব্যক্তিগত ও সরকারি সব ব্যয়সহ সরকার বহন করে। প্রধানমন্ত্রী বাড়িভাড়া হিসেবে ১ লাখ টাকা পান (সরকারি বাসভবনে থাকলে প্রযোজ্য নয়), দৈনিক ভাতা ৩ হাজার টাকা, বিমান ভ্রমণের জন্য ২৫ লাখ টাকার বিমা কভারেজ এবং ১.৫ কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল পান।
জাতীয় সংসদের স্পিকারের বেতন ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। প্রধান বিচারপতি মাসে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পান। মন্ত্রীরা পান ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও বিরোধীদলীয় নেতা ৯২ হাজার টাকা, উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং সাধারণ সংসদ সদস্যদের (এমপি) বেতন ৫৫ হাজার টাকা।
বেতনের বাইরে মন্ত্রী-এমপিরা বিভিন্ন খাতে ভাতা পান। এর মধ্যে আছে আপ্যায়ন, চিকিৎসা, পরিবহন, ভ্রমণ, অফিস পরিচালনা ও টেলিফোন বিল। সংসদ সদস্যরা বিমা সুবিধার আওতায় থাকেন।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি পান। সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ পান। জ্বালানি বাবদ দৈনিক ১৮ লিটার সমপরিমাণ অর্থ, পরিবহন ভাতা মাসে ৭০ হাজার টাকা এবং নির্বাচনি এলাকায় যাতায়াতের জন্য মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা পান।
সংসদ সদস্যরা সরকারি প্লট পান। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি বাসভবন পান; বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন বিল সরকার বহন করে। সরকারি বাসায় না থাকলে মন্ত্রীরা মাসে ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীরা ৭০ হাজার টাকা বাড়িভাড়া পান। সরকারি বাসা সাজাতে মন্ত্রীরা বছরে ৫ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা ৪ লাখ টাকা পান। নিজস্ব বা ভাড়া বাসায় থাকলে তিন মাসের বাড়িভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ দেওয়া হয়।
নির্দিষ্ট ভাতার মধ্যে মাসে ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা, টেলিফোন ভাতা ৭ হাজার ৮০০ টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ বাবদ ৬ হাজার টাকা অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনি এলাকার অফিস পরিচালনায় এমপিরা মাসে ১৫ হাজার টাকা পান। আপ্যায়ন ভাতা একজন মন্ত্রী ১০ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৭ হাজার ৫০০ টাকা, উপমন্ত্রী ও এমপি ৫ হাজার টাকা।
দাতব্য তহবিল হিসেবে মন্ত্রীরা বছরে ১০ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৭.৫ লাখ, উপমন্ত্রী ৫ লাখ এবং সংসদ সদস্যরা ৫ লাখ টাকা পান। এছাড়া বার্ষিক ৫ লাখ টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিলও রয়েছে।
বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প থেকে সুবিধা পাওয়া যায়। মন্ত্রীরা একজন একান্ত সচিব (পিএস), একজন সহকারী একান্ত সচিব ও নিজ পছন্দের একজন সহকারী একান্ত সচিব পান। এছাড়া দুইজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, একজন জমাদার, একজন আরদালি, দুইজন অফিস সহায়ক ও একজন পাচক থাকেন। প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা একজন একান্ত সচিব, একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন জমাদার, একজন আরদালি ও একজন অফিস সহায়ক পান। সব এমপি, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর জন্য একটি করে সরকারি মোবাইল ফোনের সুবিধাও রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন