ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জামায়াতের উত্থানে উদ্বেগ প্রকাশ করছে ভারতীয় গণমাধ্যম


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জামায়াতের উত্থানে উদ্বেগ প্রকাশ করছে ভারতীয় গণমাধ্যম

ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মঙ্গলবার)—বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ধারাবাহিকভাবে জামায়াতের নির্বাচনী সাফল্য নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, যেখানে এ উত্থানকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জামায়াত একটি শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে দলটির ভালো ফলাফল ভারতের জন্য উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুক্ত হয়ে ৭৭টি আসন নিয়ে বিরোধী জোট হিসেবে জাতীয় সংসদে অবস্থান নিতে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে আস্থায় রেখে জামায়াতের ওপর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর পরামর্শও উঠে এসেছে।

ইন্ডিয়া টুডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত ও এনসিপির সীমান্ত অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি ভারতের নিরাপত্তা হিসাবকে জটিল করে তুলতে পারে এবং সীমান্ত এলাকায় কৌশলগত ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সীমান্ত অঞ্চলে জামায়াত-এনসিপি জোটের শক্ত অবস্থান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ইস্টার্ন কমান্ডের সাবেক জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানাপ্রতাপ কলিতা ইন্ডিয়া টুডেকে বলেন, সীমান্তবর্তী গ্রামীণ অঞ্চলে ভারতবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে জামায়াত উল্লেখযোগ্য ফলাফল অর্জন করেছে, যা ভারতের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে জামায়াত ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে, যার বড় অংশ সীমান্ত এলাকায়। প্রতিবেদনে দলটিকে ঐতিহাসিক ও আদর্শগতভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করে ভারতের নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে সীমান্ত অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত জেলাগুলোতে জামায়াতের সাফল্যকে ভারতীয় বিশ্লেষকরা নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জামায়াত ও তাদের মিত্ররা প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবং লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, মেহেরপুর ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন সীমান্ত জেলায় উল্লেখযোগ্য ফলাফল করেছে। এসব অঞ্চলে চীনের উপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিবেদনে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথাও বলা হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের এসব প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীতে জামায়াত ১৯৯১ সালে ১৮টি, ২০০১ সালে ১৭টি, ২০০৮ সালে ২টি এবং ২০২৬ সালে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে দলটির সাম্প্রতিক উত্থানকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


জামায়াতের উত্থানে উদ্বেগ প্রকাশ করছে ভারতীয় গণমাধ্যম

প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মঙ্গলবার)—বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ধারাবাহিকভাবে জামায়াতের নির্বাচনী সাফল্য নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, যেখানে এ উত্থানকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জামায়াত একটি শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে দলটির ভালো ফলাফল ভারতের জন্য উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুক্ত হয়ে ৭৭টি আসন নিয়ে বিরোধী জোট হিসেবে জাতীয় সংসদে অবস্থান নিতে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে আস্থায় রেখে জামায়াতের ওপর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর পরামর্শও উঠে এসেছে।

ইন্ডিয়া টুডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত ও এনসিপির সীমান্ত অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি ভারতের নিরাপত্তা হিসাবকে জটিল করে তুলতে পারে এবং সীমান্ত এলাকায় কৌশলগত ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সীমান্ত অঞ্চলে জামায়াত-এনসিপি জোটের শক্ত অবস্থান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ইস্টার্ন কমান্ডের সাবেক জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানাপ্রতাপ কলিতা ইন্ডিয়া টুডেকে বলেন, সীমান্তবর্তী গ্রামীণ অঞ্চলে ভারতবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে জামায়াত উল্লেখযোগ্য ফলাফল অর্জন করেছে, যা ভারতের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে জামায়াত ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে, যার বড় অংশ সীমান্ত এলাকায়। প্রতিবেদনে দলটিকে ঐতিহাসিক ও আদর্শগতভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করে ভারতের নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে সীমান্ত অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত জেলাগুলোতে জামায়াতের সাফল্যকে ভারতীয় বিশ্লেষকরা নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জামায়াত ও তাদের মিত্ররা প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবং লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, মেহেরপুর ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন সীমান্ত জেলায় উল্লেখযোগ্য ফলাফল করেছে। এসব অঞ্চলে চীনের উপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিবেদনে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথাও বলা হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের এসব প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীতে জামায়াত ১৯৯১ সালে ১৮টি, ২০০১ সালে ১৭টি, ২০০৮ সালে ২টি এবং ২০২৬ সালে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে দলটির সাম্প্রতিক উত্থানকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ