ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

‘চিকেন্স নেক’-এ ভারতের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘চিকেন্স নেক’-এ ভারতের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা
চিত্র : সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরু স্থলপথ ‘চিকেন্স নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একইসঙ্গে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে দীর্ঘ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণের প্রকল্পও কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদন দিয়েছে।

শিলিগুড়ি করিডরে ভূগর্ভস্থ রেলপথের জন্য পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ি হয়ে রাঙাপাণি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব রেলের মুখপাত্র কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, প্রকল্প প্রস্তুত হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও আসেনি। তবে কেন্দ্রীয় বাজেটের পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রকল্পের কথা উল্লেখ করায় অনুমোদন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে।

গড়ে মাত্র ২০–২২ কিলোমিটার চওড়া শিলিগুড়ি করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলপথ। পূর্বে বাংলাদেশ, উত্তরে চীন, পশ্চিমে নেপাল ও ভুটানের সান্নিধ্যে থাকা এই এলাকা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনেও এই করিডর ব্যবহৃত হয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৫.৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথে সমান্তরাল দুটি সুড়ঙ্গ থাকবে। টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সুড়ঙ্গ নির্মাণ করা হবে এবং বিদ্যমান দুই লাইনের রেলপথকে চার লাইনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাচক্রে, বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন বিহারের কিশানগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন দুটি ঘাঁটি নির্মাণ হচ্ছে, যার পাশ দিয়েই প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গপথ যাবে। তৃতীয় ঘাঁটি আসামের ধুবড়িতে স্থাপিত হবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি ভারতীয় টাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোটা কংক্রিট কাঠামোর সুড়ঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও সহ্য করতে সক্ষম হবে।

এদিকে, ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বৈত সুড়ঙ্গ নির্মাণে অনুমোদন দেয়। সমান্তরাল দুটি সুড়ঙ্গের একটিতে ট্রেন এবং অন্যটিতে চার লেনের সড়ক থাকবে, যা গোহপুর ও নুমালিগড়কে সংযুক্ত করবে। বর্তমানে দুই স্থানের মধ্যে ২৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে; নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

মোট ৩৩.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ ব্যবস্থার মধ্যে প্রায় ১৫.৭৯ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ ব্রহ্মপুত্রের নিচ দিয়ে যাবে। এই সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বনাথ ঘাট ও তেজপুর যুক্ত হবে। পাশাপাশি তেজপুর ও অরুণাচল প্রদেশের ইটানগর বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। সরকারি দাবি, এই সুড়ঙ্গ প্রকল্প কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়াও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


‘চিকেন্স নেক’-এ ভারতের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরু স্থলপথ ‘চিকেন্স নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একইসঙ্গে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে দীর্ঘ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণের প্রকল্পও কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদন দিয়েছে।


শিলিগুড়ি করিডরে ভূগর্ভস্থ রেলপথের জন্য পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ি হয়ে রাঙাপাণি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব রেলের মুখপাত্র কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, প্রকল্প প্রস্তুত হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও আসেনি। তবে কেন্দ্রীয় বাজেটের পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রকল্পের কথা উল্লেখ করায় অনুমোদন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে।


গড়ে মাত্র ২০–২২ কিলোমিটার চওড়া শিলিগুড়ি করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলপথ। পূর্বে বাংলাদেশ, উত্তরে চীন, পশ্চিমে নেপাল ও ভুটানের সান্নিধ্যে থাকা এই এলাকা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনেও এই করিডর ব্যবহৃত হয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৫.৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথে সমান্তরাল দুটি সুড়ঙ্গ থাকবে। টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সুড়ঙ্গ নির্মাণ করা হবে এবং বিদ্যমান দুই লাইনের রেলপথকে চার লাইনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


ঘটনাচক্রে, বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন বিহারের কিশানগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন দুটি ঘাঁটি নির্মাণ হচ্ছে, যার পাশ দিয়েই প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গপথ যাবে। তৃতীয় ঘাঁটি আসামের ধুবড়িতে স্থাপিত হবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি ভারতীয় টাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোটা কংক্রিট কাঠামোর সুড়ঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও সহ্য করতে সক্ষম হবে।


এদিকে, ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বৈত সুড়ঙ্গ নির্মাণে অনুমোদন দেয়। সমান্তরাল দুটি সুড়ঙ্গের একটিতে ট্রেন এবং অন্যটিতে চার লেনের সড়ক থাকবে, যা গোহপুর ও নুমালিগড়কে সংযুক্ত করবে। বর্তমানে দুই স্থানের মধ্যে ২৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে; নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।


মোট ৩৩.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ ব্যবস্থার মধ্যে প্রায় ১৫.৭৯ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ ব্রহ্মপুত্রের নিচ দিয়ে যাবে। এই সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বনাথ ঘাট ও তেজপুর যুক্ত হবে। পাশাপাশি তেজপুর ও অরুণাচল প্রদেশের ইটানগর বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। সরকারি দাবি, এই সুড়ঙ্গ প্রকল্প কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়াও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ