ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দাবি ট্রাম্পের

ইরানে শাসক পরিবর্তনই সেরা সমাধান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইরানে শাসক পরিবর্তনই সেরা সমাধান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট - ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানোই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শিগগিরই ‘‘অসাধারণ ক্ষমতা’’ লক্ষ্য করা যাবে। এদিকে, ইরানে চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে পেন্টাগন।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিতর্কের মধ্যেই ট্রাম্পের এই কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি এসেছে। খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের সঙ্গে এক বৈঠকে বসবেন মার্কিন কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। বৈঠকে ওমানের প্রতিনিধি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।

সাংবাদিকদের ইরানে শাসন পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্নে ট্রাম্প বলেছেন, “মনে হয়, এটাই সবচেয়ে ভালো বিষয়; যা ঘটতে পারে।” শাসন পরিবর্তন হলে দেশটি কারা নিয়ন্ত্রণ করবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “লোকজন আছে।” নর্থ ক্যারোলিনায় সামরিক এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, “৪৭ বছর তারা শুধু কথা বলছে। এসময় আমরা অনেক জীবন হারিয়েছি; মানুষ পা, হাত, মুখও হারিয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন এগোচ্ছি।”

ওয়াশিংটন চায়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা বন্ধ এবং সরকারের দমন-পীড়ন পারমাণবিক আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হোক। তেহরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণ চায়, তবে ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়টি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকার করেছে।

ট্রাম্প বলেছেন, কোনও চুক্তি না হলে তিনি ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারেন। তেহরানও পাল্টা হামলার হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এখন যা বাকি আছে তা কেবল ‘‘ধুলোবালু’’; হামলা হলে এটি মিশনের সবচেয়ে ছোট অংশ হবে, এবং ইরানের হাতে যা বাকি আছে তার সব ধ্বংস করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সামরিক বাহিনী সরানোর প্রক্রিয়া জটিল হলেও বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম লিনকন ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হবে। সঙ্গে থাকবে বিভিন্ন ধরনের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান। জেরাল্ড আর. ফোর্ড সম্প্রতি ওই অঞ্চলে মোতায়েন হয়েছে এবং এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার হিসেবে ইতোমধ্যেই ভেনেজুয়েলা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে অভিযান সম্পন্ন করেছে।

ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, “চুক্তি না হলে এটি প্রয়োজন। দরকার হলে আমরা প্রস্তুত রাখব।” নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ক্যারিয়ারটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরানে শাসক পরিবর্তনই সেরা সমাধান

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানোই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শিগগিরই ‘‘অসাধারণ ক্ষমতা’’ লক্ষ্য করা যাবে। এদিকে, ইরানে চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে পেন্টাগন।


ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিতর্কের মধ্যেই ট্রাম্পের এই কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি এসেছে। খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের সঙ্গে এক বৈঠকে বসবেন মার্কিন কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। বৈঠকে ওমানের প্রতিনিধি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।


সাংবাদিকদের ইরানে শাসন পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্নে ট্রাম্প বলেছেন, “মনে হয়, এটাই সবচেয়ে ভালো বিষয়; যা ঘটতে পারে।” শাসন পরিবর্তন হলে দেশটি কারা নিয়ন্ত্রণ করবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “লোকজন আছে।” নর্থ ক্যারোলিনায় সামরিক এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, “৪৭ বছর তারা শুধু কথা বলছে। এসময় আমরা অনেক জীবন হারিয়েছি; মানুষ পা, হাত, মুখও হারিয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন এগোচ্ছি।”


ওয়াশিংটন চায়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা বন্ধ এবং সরকারের দমন-পীড়ন পারমাণবিক আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হোক। তেহরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণ চায়, তবে ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়টি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকার করেছে।


ট্রাম্প বলেছেন, কোনও চুক্তি না হলে তিনি ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারেন। তেহরানও পাল্টা হামলার হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এখন যা বাকি আছে তা কেবল ‘‘ধুলোবালু’’; হামলা হলে এটি মিশনের সবচেয়ে ছোট অংশ হবে, এবং ইরানের হাতে যা বাকি আছে তার সব ধ্বংস করা হবে।


যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সামরিক বাহিনী সরানোর প্রক্রিয়া জটিল হলেও বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম লিনকন ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হবে। সঙ্গে থাকবে বিভিন্ন ধরনের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান। জেরাল্ড আর. ফোর্ড সম্প্রতি ওই অঞ্চলে মোতায়েন হয়েছে এবং এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার হিসেবে ইতোমধ্যেই ভেনেজুয়েলা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে অভিযান সম্পন্ন করেছে।


ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, “চুক্তি না হলে এটি প্রয়োজন। দরকার হলে আমরা প্রস্তুত রাখব।” নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ক্যারিয়ারটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ