চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ফেউ’-এর মার্শাল কিংবা ‘গুলমোহর’-এর রানা তালুকদার চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচিত অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এবার প্রথমবারের মতো ক্যামেরার পেছনে। অভিনয়ে সাফল্যের পর নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন তিনি। তার পরিচালনায় নির্মিত প্রথম কনটেন্ট ‘জ্বীনের বাচ্চা’ মুক্তি পাচ্ছে দেশের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি-তে। চরকি এক্সক্লুসিভ এই কনটেন্টটি দেখা যাবে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে, অর্থাৎ ১৯ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে।
অভিনয় থেকে নির্মাণে আসার প্রসঙ্গে ইমরান জানান, অভিনয় তাকে তৃপ্তি দিলেও ভেতরে সবসময় গল্প বলার এক অদম্য তাড়না কাজ করেছে। তার ভাষায়, এটি এক ধরনের ‘স্টোরিটেলিং ক্রেভিং’, যা তাকে ক্যামেরার সামনে থেকে পেছনে নিয়ে এসেছে। প্রথম নির্মাণের আগে নানা গল্প নিয়ে ভাবলেও ‘জ্বীনের বাচ্চা’র গল্প তাকে এতটাই নাড়া দেয় যে, তা ফ্রেমবন্দি না করে শান্তি পাননি।
নামের মধ্যেই কৌতূহল জাগানো ‘জ্বীনের বাচ্চা’ মূলত মাতৃত্বের গল্প বলে জানান নির্মাতা। তার বিশ্বাস, এই জগৎ কিংবা অন্য কোনো জগৎ—মাতৃত্বের ভাষা সর্বত্র একই। সেই সার্বজনীন অনুভূতিকেই পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই গল্প সম্পূর্ণ কল্পনাভিত্তিক হলেও এতে রয়েছে ম্যাজিক রিয়ালিজমের ছোঁয়া, যা বাস্তব ও অবাস্তবের সীমারেখাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝাপসা করে দেয়।
কনটেন্টটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদ। তার সঙ্গে রয়েছেন সরকার রওনক রিপন, আজাদ আবুল কালাম, অদ্রিজিৎ মন্ডল, আনোয়ারুল হক ও রিবন খন্দকার। ইতোমধ্যে প্রকাশিত ট্রেলার দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়েছে। সেখানে দেখা যায়, মৌসুমী হামিদের চরিত্রটি বাকপ্রতিবন্ধী ও নিঃসন্তান। এই দুই বাস্তবতাকে ঘিরে তার দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনে তৈরি হয় অস্থিরতা। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অবহেলা এবং প্রতিবেশীদের কটূক্তির মধ্যে তাকে লড়াই করতে হয় নিঃসঙ্গভাবে।
ট্রেলারের একাংশে গ্রামবাংলার প্রচলিত জ্বীন তাড়ানোর কবিরাজি বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের দৃশ্য উঠে এসেছে, যা গল্পে রহস্য ও সামাজিক বাস্তবতাকে রূপকের মাধ্যমে প্রকাশ করে। অধিকাংশ সময়জুড়ে দেখা যায় সংকটে জর্জরিত এক নারীর জীবনসংগ্রাম। নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে মৌসুমী হামিদ বলেন, এটি কেবল মাতৃত্বের গল্প নয়, গভীর বেদনার গল্পও। তার ভাষায়, চরিত্রটিতে কষ্ট ছাড়া কিছু নেই, তবে যখন সে নিজেকে কোনো এক শিশুর মা হিসেবে কল্পনা করে, তখনই তার যন্ত্রণা কিছুটা লাঘব হয়।
অভিনয়ের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংলাপবিহীন অভিব্যক্তিনির্ভর অভিনয় ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। চরিত্রে ডুবে যেতে নির্মাতা তাকে টানা তিন দিন সেটে কথা বলতে দেননি। সেই নীরবতার অভিজ্ঞতাই চরিত্রে বাস্তব বেদনার ছাপ এনে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে নির্মাতা হিসেবে ইমরানের সংবেদনশীলতা ও নিবেদনকে প্রশংসা করেন অভিনেত্রী।
গল্পটি লিখেছেন স্বাক্ষর কুন্ডু দীপ এবং চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন রাজীব হোসেন। নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘জ্বীনের বাচ্চা’ শুধু রহস্যঘন কনটেন্ট নয়, বরং সামাজিক বাস্তবতা ও অন্তর্গত বেদনার এক মর্মস্পর্শী উপস্থাপনা হতে যাচ্ছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ফেউ’-এর মার্শাল কিংবা ‘গুলমোহর’-এর রানা তালুকদার চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচিত অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এবার প্রথমবারের মতো ক্যামেরার পেছনে। অভিনয়ে সাফল্যের পর নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন তিনি। তার পরিচালনায় নির্মিত প্রথম কনটেন্ট ‘জ্বীনের বাচ্চা’ মুক্তি পাচ্ছে দেশের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি-তে। চরকি এক্সক্লুসিভ এই কনটেন্টটি দেখা যাবে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে, অর্থাৎ ১৯ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে।
অভিনয় থেকে নির্মাণে আসার প্রসঙ্গে ইমরান জানান, অভিনয় তাকে তৃপ্তি দিলেও ভেতরে সবসময় গল্প বলার এক অদম্য তাড়না কাজ করেছে। তার ভাষায়, এটি এক ধরনের ‘স্টোরিটেলিং ক্রেভিং’, যা তাকে ক্যামেরার সামনে থেকে পেছনে নিয়ে এসেছে। প্রথম নির্মাণের আগে নানা গল্প নিয়ে ভাবলেও ‘জ্বীনের বাচ্চা’র গল্প তাকে এতটাই নাড়া দেয় যে, তা ফ্রেমবন্দি না করে শান্তি পাননি।
নামের মধ্যেই কৌতূহল জাগানো ‘জ্বীনের বাচ্চা’ মূলত মাতৃত্বের গল্প বলে জানান নির্মাতা। তার বিশ্বাস, এই জগৎ কিংবা অন্য কোনো জগৎ—মাতৃত্বের ভাষা সর্বত্র একই। সেই সার্বজনীন অনুভূতিকেই পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই গল্প সম্পূর্ণ কল্পনাভিত্তিক হলেও এতে রয়েছে ম্যাজিক রিয়ালিজমের ছোঁয়া, যা বাস্তব ও অবাস্তবের সীমারেখাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝাপসা করে দেয়।
কনটেন্টটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদ। তার সঙ্গে রয়েছেন সরকার রওনক রিপন, আজাদ আবুল কালাম, অদ্রিজিৎ মন্ডল, আনোয়ারুল হক ও রিবন খন্দকার। ইতোমধ্যে প্রকাশিত ট্রেলার দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়েছে। সেখানে দেখা যায়, মৌসুমী হামিদের চরিত্রটি বাকপ্রতিবন্ধী ও নিঃসন্তান। এই দুই বাস্তবতাকে ঘিরে তার দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনে তৈরি হয় অস্থিরতা। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অবহেলা এবং প্রতিবেশীদের কটূক্তির মধ্যে তাকে লড়াই করতে হয় নিঃসঙ্গভাবে।
ট্রেলারের একাংশে গ্রামবাংলার প্রচলিত জ্বীন তাড়ানোর কবিরাজি বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের দৃশ্য উঠে এসেছে, যা গল্পে রহস্য ও সামাজিক বাস্তবতাকে রূপকের মাধ্যমে প্রকাশ করে। অধিকাংশ সময়জুড়ে দেখা যায় সংকটে জর্জরিত এক নারীর জীবনসংগ্রাম। নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে মৌসুমী হামিদ বলেন, এটি কেবল মাতৃত্বের গল্প নয়, গভীর বেদনার গল্পও। তার ভাষায়, চরিত্রটিতে কষ্ট ছাড়া কিছু নেই, তবে যখন সে নিজেকে কোনো এক শিশুর মা হিসেবে কল্পনা করে, তখনই তার যন্ত্রণা কিছুটা লাঘব হয়।
অভিনয়ের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংলাপবিহীন অভিব্যক্তিনির্ভর অভিনয় ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। চরিত্রে ডুবে যেতে নির্মাতা তাকে টানা তিন দিন সেটে কথা বলতে দেননি। সেই নীরবতার অভিজ্ঞতাই চরিত্রে বাস্তব বেদনার ছাপ এনে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে নির্মাতা হিসেবে ইমরানের সংবেদনশীলতা ও নিবেদনকে প্রশংসা করেন অভিনেত্রী।
গল্পটি লিখেছেন স্বাক্ষর কুন্ডু দীপ এবং চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন রাজীব হোসেন। নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘জ্বীনের বাচ্চা’ শুধু রহস্যঘন কনটেন্ট নয়, বরং সামাজিক বাস্তবতা ও অন্তর্গত বেদনার এক মর্মস্পর্শী উপস্থাপনা হতে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন