ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ফরিদপুর-৪ এ তিন দশক পর ধানের শীষের প্রত্যাবর্তন, সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় বাবুলের


শেখ হাচান
শেখ হাচান ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফরিদপুর-৪ এ তিন দশক পর ধানের শীষের প্রত্যাবর্তন, সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় বাবুলের
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে প্রায় তিন দশক পর নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বিপুল ভোটে জয় লাভ করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।

ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাবুল পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট। ফলে ৫১ হাজার ৬৮৩ ভোটের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় তার। ফরিদপুর জেলার চারটি আসনের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ব্যবধানের ফলাফল।

এই আসনে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সরোয়ারজান মিয়া জয়ী হয়েছিলেন। এরপর টানা চার নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা পরাজিত হন এবং জামানতও হারান। দীর্ঘ সেই বিরতির পর এবার আবারও ধানের শীষের প্রত্যাবর্তন ঘটল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফল কেবল একটি আসনের বিজয় নয়- এটি স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকায় এমন ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, তুলনামূলকভাবে নতুন রাজনৈতিক পরিসরে আসলেও অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন শহিদুল ইসলাম বাবুল। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে ভূমিকা রাখা, নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা এবং ভিন্ন মতের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ- এসবই তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে প্রার্থী হওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং নিজের সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন চান। মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি, সরলতা ও নম্র আচরণ সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বিজয়ের পরদিন ভাঙ্গায় এসে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমি কৃষক পরিবারের সন্তান। শূন্য হাতে আপনাদের কাছে এসেছিলাম। আপনারা আমাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আপনাদের পাশে থাকব।” পাশাপাশি উন্নয়ন ও শান্তির স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সচেতন মহলের ধারণা, এই জয় শুধু একজন প্রার্থীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং ফরিদপুর-৪ এর রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আগামী দিনে এই পরিবর্তন জেলার রাজনীতিতে আরও বিস্তৃত প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ফরিদপুর-৪ এ তিন দশক পর ধানের শীষের প্রত্যাবর্তন, সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় বাবুলের

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে প্রায় তিন দশক পর নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বিপুল ভোটে জয় লাভ করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।

ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাবুল পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট। ফলে ৫১ হাজার ৬৮৩ ভোটের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় তার। ফরিদপুর জেলার চারটি আসনের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ব্যবধানের ফলাফল।

এই আসনে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সরোয়ারজান মিয়া জয়ী হয়েছিলেন। এরপর টানা চার নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা পরাজিত হন এবং জামানতও হারান। দীর্ঘ সেই বিরতির পর এবার আবারও ধানের শীষের প্রত্যাবর্তন ঘটল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফল কেবল একটি আসনের বিজয় নয়- এটি স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকায় এমন ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, তুলনামূলকভাবে নতুন রাজনৈতিক পরিসরে আসলেও অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন শহিদুল ইসলাম বাবুল। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে ভূমিকা রাখা, নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা এবং ভিন্ন মতের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ- এসবই তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে প্রার্থী হওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং নিজের সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন চান। মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি, সরলতা ও নম্র আচরণ সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বিজয়ের পরদিন ভাঙ্গায় এসে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমি কৃষক পরিবারের সন্তান। শূন্য হাতে আপনাদের কাছে এসেছিলাম। আপনারা আমাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আপনাদের পাশে থাকব।” পাশাপাশি উন্নয়ন ও শান্তির স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সচেতন মহলের ধারণা, এই জয় শুধু একজন প্রার্থীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং ফরিদপুর-৪ এর রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আগামী দিনে এই পরিবর্তন জেলার রাজনীতিতে আরও বিস্তৃত প্রভাব ফেলতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ