ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই কিউবার তেল শোধনাগারে আগুন


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই কিউবার তেল শোধনাগারে আগুন


কিউবার রাজধানী হাভানার একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, কমিউনিস্ট পার্টিশিপেটেড এই দ্বীপ দেশটি যখন তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে ভুগছে, তখন এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার হাভানার নিকো লোপেজ শোধনাগার থেকে গাঢ় কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

কিউবার জ্বালানিমন্ত্রী এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে জানিয়েছেন, কেউ হতাহত হয়নি এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। শোধনাগারের কাছে হাভানা বে-তে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার নোঙর করা অবস্থায় ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে কিউবায় ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দ্বীপটিতে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত মাসের শুরুতে মার্কিন সেনারা সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস থেকে অপহরণ না করা পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন কিউবায় গড়ে ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল পাঠাতো বলে ধারণা করা হয়। একই সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলার তেলের ট্যাঙ্কারও জব্দ করা হচ্ছে, যা কিউবায় জ্বালানি সরবরাহ আরও সীমিত করেছে।

ভেনেজুয়েলা থেকে তেল ও অর্থের প্রবাহ বন্ধ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কিউবান নেতাদের সতর্ক করেছেন, হয় ‘চুক্তিতে পৌঁছাও’, নয়তো পরিণতি ভোগ করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে কিউবায় লোডশেডিং মারাত্মক আকার নিয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, রোগীদের ডায়ালাইসিস এবং পাম্পিং স্টেশনগুলোতে এর প্রভাব পড়ছে। এছাড়া, কিউবায় উড়োজাহাজের জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার কারণে অনেক বিমান সংস্থা দ্বীপে তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ নাগরিকদের ‘প্রয়োজন ছাড়া’ কিউবা ভ্রমণ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

তেল নিষেধাজ্ঞার ফলে কিউবার জনগণের দৈনন্দিন জীবন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুযোগ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার মধ্যে বৃহস্পতিবার হাভানা বে-তে ৮০০ টন ত্রাণ নিয়ে পৌঁছেছে মেক্সিকোর দুটি জাহাজ। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘একতরফা অর্থনৈতিক জবরদস্তির চরম রূপ’ হিসেবে দেখছেন। মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক কিউবার ক্রমবর্ধমান সঙ্কট নিয়ে ‘ব্যাপক উদ্বিগ্ন’।

১৯৬০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা চালাচ্ছে। সম্প্রতি এই চাপ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। তবুও কিউবার নেতারা জানিয়েছেন, তারা এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে লড়াই চালিয়ে যাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই কিউবার তেল শোধনাগারে আগুন

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


কিউবার রাজধানী হাভানার একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, কমিউনিস্ট পার্টিশিপেটেড এই দ্বীপ দেশটি যখন তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে ভুগছে, তখন এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার হাভানার নিকো লোপেজ শোধনাগার থেকে গাঢ় কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

কিউবার জ্বালানিমন্ত্রী এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে জানিয়েছেন, কেউ হতাহত হয়নি এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। শোধনাগারের কাছে হাভানা বে-তে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার নোঙর করা অবস্থায় ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে কিউবায় ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দ্বীপটিতে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত মাসের শুরুতে মার্কিন সেনারা সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস থেকে অপহরণ না করা পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন কিউবায় গড়ে ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল পাঠাতো বলে ধারণা করা হয়। একই সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলার তেলের ট্যাঙ্কারও জব্দ করা হচ্ছে, যা কিউবায় জ্বালানি সরবরাহ আরও সীমিত করেছে।

ভেনেজুয়েলা থেকে তেল ও অর্থের প্রবাহ বন্ধ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কিউবান নেতাদের সতর্ক করেছেন, হয় ‘চুক্তিতে পৌঁছাও’, নয়তো পরিণতি ভোগ করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে কিউবায় লোডশেডিং মারাত্মক আকার নিয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, রোগীদের ডায়ালাইসিস এবং পাম্পিং স্টেশনগুলোতে এর প্রভাব পড়ছে। এছাড়া, কিউবায় উড়োজাহাজের জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার কারণে অনেক বিমান সংস্থা দ্বীপে তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ নাগরিকদের ‘প্রয়োজন ছাড়া’ কিউবা ভ্রমণ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

তেল নিষেধাজ্ঞার ফলে কিউবার জনগণের দৈনন্দিন জীবন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুযোগ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার মধ্যে বৃহস্পতিবার হাভানা বে-তে ৮০০ টন ত্রাণ নিয়ে পৌঁছেছে মেক্সিকোর দুটি জাহাজ। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘একতরফা অর্থনৈতিক জবরদস্তির চরম রূপ’ হিসেবে দেখছেন। মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক কিউবার ক্রমবর্ধমান সঙ্কট নিয়ে ‘ব্যাপক উদ্বিগ্ন’।

১৯৬০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা চালাচ্ছে। সম্প্রতি এই চাপ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। তবুও কিউবার নেতারা জানিয়েছেন, তারা এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে লড়াই চালিয়ে যাবেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ