জেরুসালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শায়েখ ইকরিমা সাবরি জানিয়েছেন, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশাধিকারের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শায়েখ ইকরিমা সাবরি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝিতে শুরু হতে যাওয়া রমজান মাসে মুসল্লিদের আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সাবরির মতে, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমে মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেদকে নতুন পুলিশ কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থী নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ এ প্রসঙ্গে লিখেছে, বেন-গাভির পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
শায়েখ সাবরি বলেন, রমজান মাসকে মুসলমানরা শাবান মাসের শেষে আশাবাদ ও প্রস্তুতির সঙ্গে স্বাগত জানায়। কিন্তু জেরুসালেমের ক্ষেত্রে মুসল্লিদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বহু তরুণকে আল-আকসায় প্রবেশে বাধা দিয়েছে এবং পশ্চিম তীর থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য রমজানে কোনো শিথিলতা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে আল-আকসায় মুসল্লির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।
শায়েখ সাবরির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সামরিক চেকপয়েন্টে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে, ফলে পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের জেরুসালেমে প্রবেশ সীমিত হয়ে পড়েছে। গত দুই বছরে খুব কম সংখ্যক মানুষ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দেওয়া পারমিট পেয়েছেন এবং এ বছর রমজান উপলক্ষে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়নি।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব জেরুসালেমের শত শত ফিলিস্তিনি বাসিন্দার বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রমজানে তাদের আল-আকসায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার কিছু ছয় মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।
এই পদক্ষেপগুলো এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন যে, আল-আকসা প্রাঙ্গণের দীর্ঘদিনের “স্থিতাবস্থা” নীতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকে ইসরায়েলি পুলিশ একতরফাভাবে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছে, যদিও ইসলামিক ওয়াক্ফ কর্তৃপক্ষ বারবার এ ধরনের অনুপ্রবেশ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
শায়েখ সাবরি বলেন, ইসরায়েলি সরকার আল-আকসা মসজিদে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামিক ওয়াক্ফের কর্তৃত্ব সীমিত করার লক্ষ্য নিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি জানান, আল-আকসার আশপাশের ফিলিস্তিনি পাড়াগুলোতে বাড়িঘর ভাঙার কার্যক্রমও চলছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আরব ও মুসলিম বিশ্বের জনগণকে জেরুসালেম ও আল-আকসা মসজিদের প্রতি ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জেরুসালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শায়েখ ইকরিমা সাবরি জানিয়েছেন, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশাধিকারের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শায়েখ ইকরিমা সাবরি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝিতে শুরু হতে যাওয়া রমজান মাসে মুসল্লিদের আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সাবরির মতে, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমে মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেদকে নতুন পুলিশ কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থী নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ এ প্রসঙ্গে লিখেছে, বেন-গাভির পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
শায়েখ সাবরি বলেন, রমজান মাসকে মুসলমানরা শাবান মাসের শেষে আশাবাদ ও প্রস্তুতির সঙ্গে স্বাগত জানায়। কিন্তু জেরুসালেমের ক্ষেত্রে মুসল্লিদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বহু তরুণকে আল-আকসায় প্রবেশে বাধা দিয়েছে এবং পশ্চিম তীর থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য রমজানে কোনো শিথিলতা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে আল-আকসায় মুসল্লির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।
শায়েখ সাবরির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সামরিক চেকপয়েন্টে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে, ফলে পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের জেরুসালেমে প্রবেশ সীমিত হয়ে পড়েছে। গত দুই বছরে খুব কম সংখ্যক মানুষ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দেওয়া পারমিট পেয়েছেন এবং এ বছর রমজান উপলক্ষে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়নি।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব জেরুসালেমের শত শত ফিলিস্তিনি বাসিন্দার বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রমজানে তাদের আল-আকসায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার কিছু ছয় মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।
এই পদক্ষেপগুলো এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন যে, আল-আকসা প্রাঙ্গণের দীর্ঘদিনের “স্থিতাবস্থা” নীতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকে ইসরায়েলি পুলিশ একতরফাভাবে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছে, যদিও ইসলামিক ওয়াক্ফ কর্তৃপক্ষ বারবার এ ধরনের অনুপ্রবেশ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
শায়েখ সাবরি বলেন, ইসরায়েলি সরকার আল-আকসা মসজিদে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামিক ওয়াক্ফের কর্তৃত্ব সীমিত করার লক্ষ্য নিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি জানান, আল-আকসার আশপাশের ফিলিস্তিনি পাড়াগুলোতে বাড়িঘর ভাঙার কার্যক্রমও চলছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আরব ও মুসলিম বিশ্বের জনগণকে জেরুসালেম ও আল-আকসা মসজিদের প্রতি ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন