ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

গাজায় ইসরায়েলের ভয়াবহ মারণাস্ত্র: বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে হাজারো ফিলিস্তিনির দেহ


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গাজায় ইসরায়েলের ভয়াবহ মারণাস্ত্র: বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে হাজারো ফিলিস্তিনির দেহ


গাজ্জায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ পর্যন্ত খুঁজে না পাওয়ার মর্মান্তিক সত্য উঠে এসেছে আল জাজিরা আরবির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনিকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যাদের দেহের কোনো চিহ্নই পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে হামলার স্থানে কেবল রক্তের ছিটা বা সামান্য মাংসপিণ্ড ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মূল কারণ হলো আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্রের ব্যবহার। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব অস্ত্রে অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও টাইটানিয়ামের মতো ধাতব গুঁড়া ব্যবহৃত হয়, যা বিস্ফোরণের সময় তাপমাত্রা মুহূর্তের মধ্যে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে দেয়। মানবদেহের সিংহভাগই পানি হওয়ায় এই প্রচণ্ড তাপে দেহের তরল অংশ বাষ্পীভূত হয়ে যায় এবং হাড়-মাংস মুহূর্তের মধ্যে ভস্মে পরিণত হয়। চিকিৎসকরা একে বৈজ্ঞানিকভাবে ‘টিস্যু বাষ্পীভবন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গাজ্জার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ প্রতিটি হামলার পর নিখোঁজদের তালিকা তৈরিতে ‘বিয়োজন পদ্ধতি’ অনুসরণ করে। কোনো ভবনে থাকা মোট সদস্য সংখ্যা থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা বিয়োগ করে যদি কাউকে খুঁজে না পাওয়া যায় এবং ধ্বংসস্তূপেও তার অস্তিত্ব না মেলে, তবেই তাকে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। আল-তাবিন স্কুলে হামলার মতো অসংখ্য ঘটনায় স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের একটি আঙুল বা দেহের ক্ষুদ্র অংশও খুঁজে পাননি।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বিশেষ কিছু বোমা ব্যবহারের ফলে ভবনের বাইরের কাঠামো অনেক সময় ঠিক থাকলেও ভেতরে থাকা মানুষগুলো পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসামরিক এলাকায় এ ধরনের নির্বিচার ধ্বংস ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র ব্যবহার করা স্পষ্টত যুদ্ধাপরাধ। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বা অপরাধ আদালতের কোনো নির্দেশনাই এই সহিংসতা থামাতে পারছে না, যা বর্তমান বৈশ্বিক বিচারব্যবস্থার চরম ব্যর্থতাকেই নির্দেশ করছে। স্বজন হারানো ফিলিস্তিনিদের কাছে এসব আইনি বিতর্ক কেবল সংখ্যা আর শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়, তাদের আর্তনাদ কেবল একটিই— ‘প্রিয়জনরা কোথায় হারিয়ে গেল?’

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


গাজায় ইসরায়েলের ভয়াবহ মারণাস্ত্র: বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে হাজারো ফিলিস্তিনির দেহ

প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


গাজ্জায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ পর্যন্ত খুঁজে না পাওয়ার মর্মান্তিক সত্য উঠে এসেছে আল জাজিরা আরবির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনিকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যাদের দেহের কোনো চিহ্নই পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে হামলার স্থানে কেবল রক্তের ছিটা বা সামান্য মাংসপিণ্ড ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মূল কারণ হলো আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্রের ব্যবহার। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব অস্ত্রে অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও টাইটানিয়ামের মতো ধাতব গুঁড়া ব্যবহৃত হয়, যা বিস্ফোরণের সময় তাপমাত্রা মুহূর্তের মধ্যে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে দেয়। মানবদেহের সিংহভাগই পানি হওয়ায় এই প্রচণ্ড তাপে দেহের তরল অংশ বাষ্পীভূত হয়ে যায় এবং হাড়-মাংস মুহূর্তের মধ্যে ভস্মে পরিণত হয়। চিকিৎসকরা একে বৈজ্ঞানিকভাবে ‘টিস্যু বাষ্পীভবন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গাজ্জার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ প্রতিটি হামলার পর নিখোঁজদের তালিকা তৈরিতে ‘বিয়োজন পদ্ধতি’ অনুসরণ করে। কোনো ভবনে থাকা মোট সদস্য সংখ্যা থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা বিয়োগ করে যদি কাউকে খুঁজে না পাওয়া যায় এবং ধ্বংসস্তূপেও তার অস্তিত্ব না মেলে, তবেই তাকে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। আল-তাবিন স্কুলে হামলার মতো অসংখ্য ঘটনায় স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের একটি আঙুল বা দেহের ক্ষুদ্র অংশও খুঁজে পাননি।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বিশেষ কিছু বোমা ব্যবহারের ফলে ভবনের বাইরের কাঠামো অনেক সময় ঠিক থাকলেও ভেতরে থাকা মানুষগুলো পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসামরিক এলাকায় এ ধরনের নির্বিচার ধ্বংস ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র ব্যবহার করা স্পষ্টত যুদ্ধাপরাধ। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বা অপরাধ আদালতের কোনো নির্দেশনাই এই সহিংসতা থামাতে পারছে না, যা বর্তমান বৈশ্বিক বিচারব্যবস্থার চরম ব্যর্থতাকেই নির্দেশ করছে। স্বজন হারানো ফিলিস্তিনিদের কাছে এসব আইনি বিতর্ক কেবল সংখ্যা আর শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়, তাদের আর্তনাদ কেবল একটিই— ‘প্রিয়জনরা কোথায় হারিয়ে গেল?’


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ