ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বিঘ্ন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট গ্রহণে ব্যাপক ব্যবস্থাপনা নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ঘোষণা করেছেন যে যেকোনো ধরনের অনিয়ম শক্তভাবে তদারকি করা হবে, এবং নির্বাচনের সময় বা পরে কোনো ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহিংসতা বা অনৈতিক আচরণ সহ্য করা হবে না।
ইসির আরেক জন দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার অবিল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেছেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ইসি সন্তোষজনক মনে করছে। ভোটগ্রহণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো বিস্তৃত ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে যার মধ্যে ড্রোন, বডি‑ক্যাম ও সিসিটিভি ক্যামেরা করোনা গেছে এবং দেশের ৪২,৯৫৮টি পোলিং কেন্দ্রের অধিকাংশে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উপস্থিত নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, ভোটারদের সুরক্ষায় প্রায় ৯,৫৮,০০০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে পুলিশ, সীমানা রক্ষী বাহিনী ও আনসার‑ভিডিপি অংশগ্রহণ করছে। প্রতিটি কেন্দ্রেই তিন‑স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হবে স্থির সেনা, মোবাইল টিম ও জরুরি অবস্থায় প্রতিক্রিয়া বাহিনী প্রতিদিন সক্রিয় থাকবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭:৩০টা থেকে বিকাল ৪:৩০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ও গণভোট হিসাবে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্র ও ভোটার অংশ নেবে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সমস্ত বলট পেপার ইতোমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে, এবং পোলিং কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে নির্বাচনে প্রায় ৫৬,০০০ জন পর্যবেক্ষক মনোনীত হয়েছে যার মধ্যে লোকাল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক উভয়ই রয়েছেন। ইসি সূত্রে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষকরা ভোট প্রদানের প্রতিটি ধাপ নজরদারি করবেন।
রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতা সম্পর্কে তাদের মত প্রকাশ করেছে। বিএনপি‑এর স্থায়ী কমিটির সদস্য নাজরুল ইসলাম খান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, ভোটার লোভ প্রদানের মতো অনৈতিক আচরণ, ভ্রান্ত তথ্য ও প্রতিকৃত ব্যালট ইস্যুর মতো ঘটনাগুলো সম্পর্কে ইসিকে তৎপর হতে। তিনি বলেছেন এসব বিষয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কমিশনের মনিটরিং দ্বারা দ্রুত সমাধান করা উচিত।
কিন্তু নির্বাচনের আগাম সময় থেকে সহিংসতা ও সংঘর্ষের কিছু ঘটনাও দেখা গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অন্যদলীয় সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ, প্রচারণা‑বিরোধ, অবরোধ এবং সহিংস ঘটনায় ৪১১ টির বেশি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কিছু এলাকায় নিহত ও বহু আহত হয়েছে। এসব ঘটনায় ইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতা দেখাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
আইজিপি বাহারুল আলম স্পষ্টভাবে বলেছেন, যদি কোথাও “মব” বা গ্রুপ অভিমুখী সহিংসতার মাধ্যমে ভোটপ্রক্রিয়া বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে শুধু ওই কেন্দ্র নয়, বরং পুরো নির্বাচনী আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসি‑র বক্তব্য অনুযায়ী, ভোট পরিবেশ ইতিবাচক ও উৎসবমুখর; জনগণ উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিতে আগ্রহী, এবং ভোটের ফলাফলের সম্পূর্ণ ঘোষণা আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটি ইসির ডিজিটাল ও প্রক্রিয়াগত কর্মসূচির কারণে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনার অংশ বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বিঘ্ন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট গ্রহণে ব্যাপক ব্যবস্থাপনা নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ঘোষণা করেছেন যে যেকোনো ধরনের অনিয়ম শক্তভাবে তদারকি করা হবে, এবং নির্বাচনের সময় বা পরে কোনো ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহিংসতা বা অনৈতিক আচরণ সহ্য করা হবে না।
ইসির আরেক জন দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার অবিল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেছেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ইসি সন্তোষজনক মনে করছে। ভোটগ্রহণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো বিস্তৃত ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে যার মধ্যে ড্রোন, বডি‑ক্যাম ও সিসিটিভি ক্যামেরা করোনা গেছে এবং দেশের ৪২,৯৫৮টি পোলিং কেন্দ্রের অধিকাংশে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উপস্থিত নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, ভোটারদের সুরক্ষায় প্রায় ৯,৫৮,০০০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে পুলিশ, সীমানা রক্ষী বাহিনী ও আনসার‑ভিডিপি অংশগ্রহণ করছে। প্রতিটি কেন্দ্রেই তিন‑স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হবে স্থির সেনা, মোবাইল টিম ও জরুরি অবস্থায় প্রতিক্রিয়া বাহিনী প্রতিদিন সক্রিয় থাকবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭:৩০টা থেকে বিকাল ৪:৩০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ও গণভোট হিসাবে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্র ও ভোটার অংশ নেবে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সমস্ত বলট পেপার ইতোমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে, এবং পোলিং কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে নির্বাচনে প্রায় ৫৬,০০০ জন পর্যবেক্ষক মনোনীত হয়েছে যার মধ্যে লোকাল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক উভয়ই রয়েছেন। ইসি সূত্রে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষকরা ভোট প্রদানের প্রতিটি ধাপ নজরদারি করবেন।
রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতা সম্পর্কে তাদের মত প্রকাশ করেছে। বিএনপি‑এর স্থায়ী কমিটির সদস্য নাজরুল ইসলাম খান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, ভোটার লোভ প্রদানের মতো অনৈতিক আচরণ, ভ্রান্ত তথ্য ও প্রতিকৃত ব্যালট ইস্যুর মতো ঘটনাগুলো সম্পর্কে ইসিকে তৎপর হতে। তিনি বলেছেন এসব বিষয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কমিশনের মনিটরিং দ্বারা দ্রুত সমাধান করা উচিত।
কিন্তু নির্বাচনের আগাম সময় থেকে সহিংসতা ও সংঘর্ষের কিছু ঘটনাও দেখা গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অন্যদলীয় সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ, প্রচারণা‑বিরোধ, অবরোধ এবং সহিংস ঘটনায় ৪১১ টির বেশি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কিছু এলাকায় নিহত ও বহু আহত হয়েছে। এসব ঘটনায় ইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতা দেখাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
আইজিপি বাহারুল আলম স্পষ্টভাবে বলেছেন, যদি কোথাও “মব” বা গ্রুপ অভিমুখী সহিংসতার মাধ্যমে ভোটপ্রক্রিয়া বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে শুধু ওই কেন্দ্র নয়, বরং পুরো নির্বাচনী আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসি‑র বক্তব্য অনুযায়ী, ভোট পরিবেশ ইতিবাচক ও উৎসবমুখর; জনগণ উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিতে আগ্রহী, এবং ভোটের ফলাফলের সম্পূর্ণ ঘোষণা আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটি ইসির ডিজিটাল ও প্রক্রিয়াগত কর্মসূচির কারণে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনার অংশ বলে জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন