মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠি হলো নির্বাচিত সরকারের সদিচ্ছা। তিনি জানান, যদিও অর্থ পাচারকারীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই কাজ সম্পন্ন করেছে, বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় তাদের অবস্থান এবং পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে যথাযথ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ব্যাংক খাতে কিছুটা আস্থা ফিরে এসেছে, তবে তা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসের কাজের মূল্যায়ন করে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি এমনভাবে দৃঢ় হয়েছে যে, পরবর্তী সরকার চাইলে দ্রুত উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে পারবে।
তিনি উল্লেখ করেন, উপদেষ্টা পরিষদের সম্পদের বিবরণী শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রকাশ হতে পারে। স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার চাইলে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড বা কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারবে। নিজের কাজের মূল্যায়নে তিনি নিজেকে ১০০-এর মধ্যে ৭০ নম্বর দিয়েছেন এবং স্বীকার করেছেন যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার সম্পূর্ণ করতে না পারা একটি আক্ষেপ।
ড. সালেহউদ্দিন ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার বিষয়েও মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও স্বাধীনতা চাইছে এবং সরকার ইতিবাচকভাবে সেই অনুরোধ বিবেচনা করছে। বিশেষ করে পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো এখন পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সেবা নিয়েও তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো একক কোম্পানি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করবে না। বিদ্যালয়গুলো নিজেরাই গ্রামীণফোন, রবি বা বাংলালিংকের মধ্যে পছন্দসই সেবা গ্রহণ করতে পারবে।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুনরায় সরকারের অংশ হবেন কি না তা নিশ্চিত নয়, তবে শিক্ষকতায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী ভিত্তিতে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই সংস্কারের ধারাকে ধরে রাখার দায়িত্ব এখন নির্বাচিত সরকারের। দেশের আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাই ছিল সরকারের প্রধান লক্ষ্য, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা সফল হয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠি হলো নির্বাচিত সরকারের সদিচ্ছা। তিনি জানান, যদিও অর্থ পাচারকারীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই কাজ সম্পন্ন করেছে, বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় তাদের অবস্থান এবং পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে যথাযথ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ব্যাংক খাতে কিছুটা আস্থা ফিরে এসেছে, তবে তা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসের কাজের মূল্যায়ন করে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি এমনভাবে দৃঢ় হয়েছে যে, পরবর্তী সরকার চাইলে দ্রুত উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে পারবে।
তিনি উল্লেখ করেন, উপদেষ্টা পরিষদের সম্পদের বিবরণী শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রকাশ হতে পারে। স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার চাইলে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড বা কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারবে। নিজের কাজের মূল্যায়নে তিনি নিজেকে ১০০-এর মধ্যে ৭০ নম্বর দিয়েছেন এবং স্বীকার করেছেন যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার সম্পূর্ণ করতে না পারা একটি আক্ষেপ।
ড. সালেহউদ্দিন ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার বিষয়েও মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও স্বাধীনতা চাইছে এবং সরকার ইতিবাচকভাবে সেই অনুরোধ বিবেচনা করছে। বিশেষ করে পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো এখন পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সেবা নিয়েও তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো একক কোম্পানি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করবে না। বিদ্যালয়গুলো নিজেরাই গ্রামীণফোন, রবি বা বাংলালিংকের মধ্যে পছন্দসই সেবা গ্রহণ করতে পারবে।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুনরায় সরকারের অংশ হবেন কি না তা নিশ্চিত নয়, তবে শিক্ষকতায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী ভিত্তিতে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই সংস্কারের ধারাকে ধরে রাখার দায়িত্ব এখন নির্বাচিত সরকারের। দেশের আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাই ছিল সরকারের প্রধান লক্ষ্য, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা সফল হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন