বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্চের প্রথম সপ্তাহে (৬–৯ মার্চ) মার্কিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুরকে ঢাকা সফরে পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
প্রধানত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কজোরক বৈঠক, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাড়ানো এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য বলা হচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত রবিবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসাইন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আলম সিয়াম-এর সঙ্গে বৈঠকে পল কাপুরের সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং কাপুর নিজেও ঢাকায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
পল কাপুরকে গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেন। পরে সেনেট ফরেন রিলেশনস কমিটিতে অনুমোদনের পর তিনি অক্টোবর ২০২৫-এ এই দায়িত্ব নিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কাপুরের ঢাকা সফরে আলোচনা হতে পারে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিস্তৃতি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা, এবং চীন কর্তৃক দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। গত বছর একটি সিনেট শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, বাংলাদেশ ভারতের পর দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা জোরদার, চীনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্ক সম্পর্কিত বিষয়গুলোও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি এবং শুল্ক বিষয়ে আলোচনার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেখানে আমেরিকায় পারস্পরিক শুল্ক (reciprocal tariff) কমানো এবং বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে ধরা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্প প্রশাসন আকর্ষণীয়ভাবে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার পাশাপাশি চীনের ভূ‑রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যদি বাস্তবে পল কাপুরের সফর নির্ধারিত হয়, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি মহত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পর্যায়, কারণ এটি নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠকের সুযোগ তৈরি করবে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার কাঠামো তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্চের প্রথম সপ্তাহে (৬–৯ মার্চ) মার্কিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুরকে ঢাকা সফরে পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
প্রধানত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কজোরক বৈঠক, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাড়ানো এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য বলা হচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত রবিবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসাইন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আলম সিয়াম-এর সঙ্গে বৈঠকে পল কাপুরের সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং কাপুর নিজেও ঢাকায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
পল কাপুরকে গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেন। পরে সেনেট ফরেন রিলেশনস কমিটিতে অনুমোদনের পর তিনি অক্টোবর ২০২৫-এ এই দায়িত্ব নিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কাপুরের ঢাকা সফরে আলোচনা হতে পারে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিস্তৃতি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা, এবং চীন কর্তৃক দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। গত বছর একটি সিনেট শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, বাংলাদেশ ভারতের পর দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা জোরদার, চীনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্ক সম্পর্কিত বিষয়গুলোও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি এবং শুল্ক বিষয়ে আলোচনার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেখানে আমেরিকায় পারস্পরিক শুল্ক (reciprocal tariff) কমানো এবং বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে ধরা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্প প্রশাসন আকর্ষণীয়ভাবে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার পাশাপাশি চীনের ভূ‑রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যদি বাস্তবে পল কাপুরের সফর নির্ধারিত হয়, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি মহত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পর্যায়, কারণ এটি নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠকের সুযোগ তৈরি করবে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার কাঠামো তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন