ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পোস্টাল ব্যালটে গোপন ভোট প্রদান নিয়ে শঙ্কা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের


মো: শিহাব উদ্দিন শেখ
মো: শিহাব উদ্দিন শেখ
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পোস্টাল ব্যালটে গোপন ভোট প্রদান নিয়ে শঙ্কা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রবর্তিত পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় ভোটের গোপনীয়তা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মতে, বর্তমান কাঠামোতে ভোটের গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকার নিশ্চয়তা নেই, যা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উচ্চপদস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা বলেন, ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। তিনি যাকে ইচ্ছা ভোট দেবেন, কিন্তু কাকে ভোট দিয়েছেন- তা যেন কখনোই প্রকাশ না পায়, এই গোপনীয়তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ পোস্টাল ব্যালটের বর্তমান ব্যবস্থায় এমন কিছু উপাদান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাইলে খুব সহজেই নির্দিষ্ট করে শনাক্ত করা সম্ভব হবে কে কাকে কোন প্রতীকে ভোট দিয়েছেন এবং গণভোটে কী মতামত দিয়েছেন।

তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন উপলক্ষে যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের জন্য সরকার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। এ ব্যবস্থায় মোট চারটি ফরম সরবরাহ করা হয়েছে- পোস্টাল ব্যালট পেপার (ফরম-৭), ভোটদাতা কর্তৃক ঘোষণা (ফরম-৮), ভোটদাতার জন্য নির্দেশাবলী (ফরম-১১) এবং গণভোট প্রদানের জন্য একটি পৃথক ফরম।

উদ্বেগের মূল কারণ হলো, পোস্টাল ব্যালট পেপার ফরম-৭ এবং ভোটদাতা কর্তৃক ঘোষণা ফরম-৮; এই দুই ফরমেই ক্রমিক নম্বর যুক্ত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটদাতা নিজের পছন্দ অনুযায়ী ব্যালট পেপারে ভোট প্রদান করবেন এবং ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করে নির্ধারিত হলুদ খামে সিল করে নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। কিন্তু ভোটদাতা কর্তৃক ঘোষণা ফরমে ভোট প্রদানের পর ব্যালট পেপারের ক্রমিক নম্বর, ভোটদাতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং স্বাক্ষরসহ ব্যক্তিগত তথ্য পূরণের নির্দেশনা থাকায় গোপনীয়তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যখন ব্যালট পেপারের ক্রমিক নম্বরের সঙ্গে ভোটদাতার পরিচয় যুক্ত থাকে, তখন ভোটের গোপনীয়তা কার্যত থাকে না। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যদি কোনো সংস্থা বা সরকার ইচ্ছা করে, তাহলে সংরক্ষিত কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে সহজেই জানা সম্ভব হবে- কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন প্রতীকে ভোট দিয়েছেন কিংবা গণভোটে কী মত দিয়েছেন। বিষয়টি নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবস্থার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা চাইলে এসব তথ্য ব্যবহার করে বাহিনীর নির্দিষ্ট একটি অংশকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এতে বাহিনীর ভেতরে অস্থিরতা ও অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য এমন একটি ভোটদান ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যেখানে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়া সদস্যরা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। এটি শুধু ভোটের স্বাধীনতা হরণের বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ পেশাগত নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। এ কারণে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার বর্তমান কাঠামো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


পোস্টাল ব্যালটে গোপন ভোট প্রদান নিয়ে শঙ্কা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের

প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রবর্তিত পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় ভোটের গোপনীয়তা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মতে, বর্তমান কাঠামোতে ভোটের গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকার নিশ্চয়তা নেই, যা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উচ্চপদস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা বলেন, ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। তিনি যাকে ইচ্ছা ভোট দেবেন, কিন্তু কাকে ভোট দিয়েছেন- তা যেন কখনোই প্রকাশ না পায়, এই গোপনীয়তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ পোস্টাল ব্যালটের বর্তমান ব্যবস্থায় এমন কিছু উপাদান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাইলে খুব সহজেই নির্দিষ্ট করে শনাক্ত করা সম্ভব হবে কে কাকে কোন প্রতীকে ভোট দিয়েছেন এবং গণভোটে কী মতামত দিয়েছেন।

তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন উপলক্ষে যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের জন্য সরকার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। এ ব্যবস্থায় মোট চারটি ফরম সরবরাহ করা হয়েছে- পোস্টাল ব্যালট পেপার (ফরম-৭), ভোটদাতা কর্তৃক ঘোষণা (ফরম-৮), ভোটদাতার জন্য নির্দেশাবলী (ফরম-১১) এবং গণভোট প্রদানের জন্য একটি পৃথক ফরম।

উদ্বেগের মূল কারণ হলো, পোস্টাল ব্যালট পেপার ফরম-৭ এবং ভোটদাতা কর্তৃক ঘোষণা ফরম-৮; এই দুই ফরমেই ক্রমিক নম্বর যুক্ত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটদাতা নিজের পছন্দ অনুযায়ী ব্যালট পেপারে ভোট প্রদান করবেন এবং ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করে নির্ধারিত হলুদ খামে সিল করে নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। কিন্তু ভোটদাতা কর্তৃক ঘোষণা ফরমে ভোট প্রদানের পর ব্যালট পেপারের ক্রমিক নম্বর, ভোটদাতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং স্বাক্ষরসহ ব্যক্তিগত তথ্য পূরণের নির্দেশনা থাকায় গোপনীয়তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যখন ব্যালট পেপারের ক্রমিক নম্বরের সঙ্গে ভোটদাতার পরিচয় যুক্ত থাকে, তখন ভোটের গোপনীয়তা কার্যত থাকে না। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যদি কোনো সংস্থা বা সরকার ইচ্ছা করে, তাহলে সংরক্ষিত কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে সহজেই জানা সম্ভব হবে- কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন প্রতীকে ভোট দিয়েছেন কিংবা গণভোটে কী মত দিয়েছেন। বিষয়টি নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবস্থার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা চাইলে এসব তথ্য ব্যবহার করে বাহিনীর নির্দিষ্ট একটি অংশকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এতে বাহিনীর ভেতরে অস্থিরতা ও অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য এমন একটি ভোটদান ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যেখানে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়া সদস্যরা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। এটি শুধু ভোটের স্বাধীনতা হরণের বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ পেশাগত নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। এ কারণে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার বর্তমান কাঠামো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ