ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সিরিয়া পুনর্গঠনে সৌদি আরবের বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সিরিয়া পুনর্গঠনে সৌদি আরবের বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি


দীর্ঘ দেড় দশকের গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সিরিয়া পুনর্গঠনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। অর্থনীতিকে চাঙা করতে সৌদি আরবের সাথে আবাসন, জ্বালানি, বিমান চলাচল ও টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের একাধিক বিনিয়োগ চুক্তিতে পৌঁছেছে সিরিয়া।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সিরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির প্রধান তালাল আল-হিলালি এই চুক্তিগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প

চুক্তির অধীনে আলেপ্পোতে একটি অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং ‘সিল্কলিংক’ নামক একটি বৃহৎ টেলিযোগাযোগ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিরিয়াকে আঞ্চলিক সংযোগস্থলে রূপান্তরের লক্ষ্যে সিরিয়া-সৌদি যৌথ মালিকানায় একটি সাশ্রয়ী বিমান পরিবহন সংস্থা (এয়ারলাইন) চালু করা হবে।

সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ জানিয়েছেন, নবগঠিত ‘এলাফ ফান্ড’-এর মাধ্যমে আলেপ্পোর দুটি বিমানবন্দরের উন্নয়নে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হবে। এই তহবিলের লক্ষ্য মূলত অবকাঠামো খাতে সৌদি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

টেলিযোগাযোগ ও বিমান চলাচল খাতে উন্নয়ন

সিরিয়ার যোগাযোগ ও তথ্যপ্রুক্তি মন্ত্রী আবদুলসালাম হায়কাল জানান, টেলিযোগাযোগ খাতে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ বাড়াতে হাজার হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক কেবল স্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে, বিমান চলাচল খাতে সৌদি আরবের ‘ফ্লাইনাস’ ও সিরিয়ার সিভিল এভিয়েশন অথরিটির যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্লাইনাস সিরিয়া’ নামে নতুন এয়ারলাইন গঠিত হবে। এতে সিরিয়ার ৫১ শতাংশ মালিকানা থাকবে এবং ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এটি ডানা মেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব ও বিশ্বপ্রতিক্রিয়া

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর নতুন নেতৃত্বের সাথে সৌদি আরবের এই সমঝোতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সিরিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, "বিমান চলাচল ও অবকাঠামো খাতে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব সিরিয়ার পুনর্গঠনে বড় অবদান রাখবে।"

তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। গবেষণা বিশ্লেষক বেঞ্জামিন ফেভ মনে করেন, এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই এই চুক্তির গুরুত্ব বেশি। কারণ, গত এক বছরে সিরিয়া সরকার অনেক বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিলেও তার সবকটি এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সিরিয়া পুনর্গঠনে সৌদি আরবের বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


দীর্ঘ দেড় দশকের গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সিরিয়া পুনর্গঠনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। অর্থনীতিকে চাঙা করতে সৌদি আরবের সাথে আবাসন, জ্বালানি, বিমান চলাচল ও টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের একাধিক বিনিয়োগ চুক্তিতে পৌঁছেছে সিরিয়া।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সিরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির প্রধান তালাল আল-হিলালি এই চুক্তিগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প

চুক্তির অধীনে আলেপ্পোতে একটি অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং ‘সিল্কলিংক’ নামক একটি বৃহৎ টেলিযোগাযোগ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিরিয়াকে আঞ্চলিক সংযোগস্থলে রূপান্তরের লক্ষ্যে সিরিয়া-সৌদি যৌথ মালিকানায় একটি সাশ্রয়ী বিমান পরিবহন সংস্থা (এয়ারলাইন) চালু করা হবে।

সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ জানিয়েছেন, নবগঠিত ‘এলাফ ফান্ড’-এর মাধ্যমে আলেপ্পোর দুটি বিমানবন্দরের উন্নয়নে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হবে। এই তহবিলের লক্ষ্য মূলত অবকাঠামো খাতে সৌদি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

টেলিযোগাযোগ ও বিমান চলাচল খাতে উন্নয়ন

সিরিয়ার যোগাযোগ ও তথ্যপ্রুক্তি মন্ত্রী আবদুলসালাম হায়কাল জানান, টেলিযোগাযোগ খাতে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ বাড়াতে হাজার হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক কেবল স্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে, বিমান চলাচল খাতে সৌদি আরবের ‘ফ্লাইনাস’ ও সিরিয়ার সিভিল এভিয়েশন অথরিটির যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্লাইনাস সিরিয়া’ নামে নতুন এয়ারলাইন গঠিত হবে। এতে সিরিয়ার ৫১ শতাংশ মালিকানা থাকবে এবং ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এটি ডানা মেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব ও বিশ্বপ্রতিক্রিয়া

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর নতুন নেতৃত্বের সাথে সৌদি আরবের এই সমঝোতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সিরিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, "বিমান চলাচল ও অবকাঠামো খাতে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব সিরিয়ার পুনর্গঠনে বড় অবদান রাখবে।"

তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। গবেষণা বিশ্লেষক বেঞ্জামিন ফেভ মনে করেন, এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই এই চুক্তির গুরুত্ব বেশি। কারণ, গত এক বছরে সিরিয়া সরকার অনেক বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিলেও তার সবকটি এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ