ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিদ্রোহী ভোটে ঝুঁকিতে ধানের শীষ

বিএনপির ভেতরের বিভক্তিতে দোলাচলে সোনারগাঁও



বিএনপির ভেতরের বিভক্তিতে দোলাচলে সোনারগাঁও

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কঠোর সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই কঠোর বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে তৈরি করেছে ভয়, দ্বিধা ও দ্বিমুখী রাজনীতির বাস্তবতা।

এর স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে। এখানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে প্রকাশ্য সমর্থন থাকলেও মাঠপর্যায়ে ভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে।

স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বহিষ্কারের আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে মান্নানের পক্ষে থাকলেও গোপনে সমর্থন দিচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিমকে। পাশাপাশি কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াসউদ্দিন ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়ার পক্ষেও নীরবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, এই দ্বৈত ভূমিকা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনী রাজনীতিতে শুধু ভোটার সমর্থন নয়, দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যও জয়-পরাজয়ের অন্যতম নির্ধারক হিসেবে কাজ করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক বড় হলেও অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে তা দুই থেকে তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, যদি বিএনপির মোট ভোটের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিদ্রোহী প্রার্থীদের দিকে চলে যায়, তাহলে ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের জয় ঝুঁকির মুখে পড়বে। আর ভোট বিভাজন ২০ শতাংশ ছাড়ালে তিনি দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় অবস্থানেও নেমে যেতে পারেন। তবে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা গেলে মান্নানের জয় প্রায় নিশ্চিত বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই প্রেক্ষাপটে সোনারগাঁওয়ের নির্বাচনী লড়াই কার্যত বিএনপির ভেতরের দ্বন্দ্বের ওপরই নির্ভর করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোনারগাঁও বিএনপির বিভক্তির পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ রয়েছে—

স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

সোনারগাঁও বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে অন্তর্কোন্দল ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব চলে আসছে, যা নির্বাচনের সময় প্রকাশ্যে এসেছে।

নির্বাচনের পর স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্তৃত্ব কে পাবে—এ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতা চলছে।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য হওয়ায় নেতাকর্মীদের একাংশ তাদের প্রতি ঝুঁকছেন। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিমের মাঠপর্যায়ের অবস্থান আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আজহারুল ইসলাম মান্নানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিরোধী দল নয়, বরং নিজের দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি। এই সংকট মোকাবিলায় তারা কয়েকটি কৌশলের কথা বলছেন—

শুধু বহিষ্কারের ভয় নয়, রাজনৈতিক সমঝোতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করে বিদ্রোহী নেতাকর্মীদের ফিরিয়ে আনা, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় নতুন করে সমন্বয় গড়া, তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ বাড়ানো এবং স্থানীয় সমস্যাভিত্তিক রাজনীতি জোরদার করা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সক্রিয় হস্তক্ষেপ ছাড়া সোনারগাঁওয়ে দলীয় ঐক্য পুনর্গঠন কঠিন হবে বলেও মত বিশ্লেষকদের।

সোনারগাঁওয়ের এই রাজনৈতিক বাস্তবতা শুধু একটি আসনের গল্প নয়; এটি বিএনপির সামগ্রিক রাজনীতির প্রতীকী চিত্র হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। দলীয় ঐক্য ছাড়া বড় রাজনৈতিক শক্তির জয় যে কতটা অনিশ্চিত, সোনারগাঁও তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বিএনপির ভেতরের বিভক্তিতে দোলাচলে সোনারগাঁও

প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কঠোর সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই কঠোর বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে তৈরি করেছে ভয়, দ্বিধা ও দ্বিমুখী রাজনীতির বাস্তবতা।

এর স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে। এখানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে প্রকাশ্য সমর্থন থাকলেও মাঠপর্যায়ে ভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে।

স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বহিষ্কারের আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে মান্নানের পক্ষে থাকলেও গোপনে সমর্থন দিচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিমকে। পাশাপাশি কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াসউদ্দিন ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়ার পক্ষেও নীরবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, এই দ্বৈত ভূমিকা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনী রাজনীতিতে শুধু ভোটার সমর্থন নয়, দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যও জয়-পরাজয়ের অন্যতম নির্ধারক হিসেবে কাজ করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক বড় হলেও অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে তা দুই থেকে তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, যদি বিএনপির মোট ভোটের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিদ্রোহী প্রার্থীদের দিকে চলে যায়, তাহলে ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের জয় ঝুঁকির মুখে পড়বে। আর ভোট বিভাজন ২০ শতাংশ ছাড়ালে তিনি দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় অবস্থানেও নেমে যেতে পারেন। তবে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা গেলে মান্নানের জয় প্রায় নিশ্চিত বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই প্রেক্ষাপটে সোনারগাঁওয়ের নির্বাচনী লড়াই কার্যত বিএনপির ভেতরের দ্বন্দ্বের ওপরই নির্ভর করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোনারগাঁও বিএনপির বিভক্তির পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ রয়েছে—

স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

সোনারগাঁও বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে অন্তর্কোন্দল ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব চলে আসছে, যা নির্বাচনের সময় প্রকাশ্যে এসেছে।

নির্বাচনের পর স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্তৃত্ব কে পাবে—এ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতা চলছে।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য হওয়ায় নেতাকর্মীদের একাংশ তাদের প্রতি ঝুঁকছেন। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিমের মাঠপর্যায়ের অবস্থান আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আজহারুল ইসলাম মান্নানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিরোধী দল নয়, বরং নিজের দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি। এই সংকট মোকাবিলায় তারা কয়েকটি কৌশলের কথা বলছেন—

শুধু বহিষ্কারের ভয় নয়, রাজনৈতিক সমঝোতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করে বিদ্রোহী নেতাকর্মীদের ফিরিয়ে আনা, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় নতুন করে সমন্বয় গড়া, তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ বাড়ানো এবং স্থানীয় সমস্যাভিত্তিক রাজনীতি জোরদার করা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সক্রিয় হস্তক্ষেপ ছাড়া সোনারগাঁওয়ে দলীয় ঐক্য পুনর্গঠন কঠিন হবে বলেও মত বিশ্লেষকদের।

সোনারগাঁওয়ের এই রাজনৈতিক বাস্তবতা শুধু একটি আসনের গল্প নয়; এটি বিএনপির সামগ্রিক রাজনীতির প্রতীকী চিত্র হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। দলীয় ঐক্য ছাড়া বড় রাজনৈতিক শক্তির জয় যে কতটা অনিশ্চিত, সোনারগাঁও তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ