যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘নিউ স্টার্ট’ (New START) চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় যোগ দিতে সাফ মানা করে দিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এই অবস্থান পরিষ্কার করেন। বেইজিংয়ের মতে, ওয়াশিংটন ও মস্কোর অস্ত্রাগারের তুলনায় চীনের সক্ষমতা অনেক কম হওয়ায় এই পর্যায়ে তাদের নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় অংশগ্রহণের প্রশ্নই আসে না।
নিউ স্টার্ট চুক্তির সমাপ্তি ও বিশ্ব উত্তেজনা ২০১০ সালে বারাক ওবামা ও দিমিত্রি মেদভেদেভের স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ তাদের মোতায়েনকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ১,৫৫০-এ সীমাবদ্ধ রেখেছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুসরণ না করায় এটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার (Arms Race) আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লিন জিয়ান এই পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক’ অভিহিত করে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ওয়াশিংটন-মস্কোকে বেইজিংয়ের আহ্বান চীন সরাসরি আলোচনায় না বসলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ রক্ষায় রাশিয়ার সঙ্গে পুনরায় সংলাপে বসে। মুখপাত্র লিন জিয়ান জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রধান দায়ভার বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রক যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ওপরই বর্তায়। রাশিয়া জানিয়েছে তারা আলোচনার জন্য উন্মুক্ত, তবে যেকোনো নতুন ‘হুমকি’ মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত—মস্কোর এই অবস্থানকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টা ব্যর্থ দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন দাবি করে আসছে যে, নতুন যেকোনো পারমাণবিক চুক্তিতে চীনকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে বেইজিং এই প্রচেষ্টাকে ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার প্রয়াস’ হিসেবে দেখছে। চীনের যুক্তি হলো, তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার ওয়াশিংটন বা মস্কোর তুলনায় অনেক ছোট, তাই বড় দুই শক্তির সাথে সমান্তরালে তাদের নামিয়ে আনা অযৌক্তিক।
প্রেক্ষাপট ও সক্ষমতা নিউ স্টার্ট চুক্তিটি প্রতিটি পক্ষকে অন্য পক্ষের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি দিত, যা কোভিড-১৯ মহামারীর সময় থেকে স্থবির হয়ে পড়েছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন আর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকছে না। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম দুই পারমাণবিক শক্তির হাতে এখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে অস্ত্র বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হলো, যা শীতল যুদ্ধের সময়কার ভীতিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘নিউ স্টার্ট’ (New START) চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় যোগ দিতে সাফ মানা করে দিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এই অবস্থান পরিষ্কার করেন। বেইজিংয়ের মতে, ওয়াশিংটন ও মস্কোর অস্ত্রাগারের তুলনায় চীনের সক্ষমতা অনেক কম হওয়ায় এই পর্যায়ে তাদের নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় অংশগ্রহণের প্রশ্নই আসে না।
নিউ স্টার্ট চুক্তির সমাপ্তি ও বিশ্ব উত্তেজনা ২০১০ সালে বারাক ওবামা ও দিমিত্রি মেদভেদেভের স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ তাদের মোতায়েনকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ১,৫৫০-এ সীমাবদ্ধ রেখেছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুসরণ না করায় এটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার (Arms Race) আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লিন জিয়ান এই পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক’ অভিহিত করে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ওয়াশিংটন-মস্কোকে বেইজিংয়ের আহ্বান চীন সরাসরি আলোচনায় না বসলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ রক্ষায় রাশিয়ার সঙ্গে পুনরায় সংলাপে বসে। মুখপাত্র লিন জিয়ান জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রধান দায়ভার বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রক যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ওপরই বর্তায়। রাশিয়া জানিয়েছে তারা আলোচনার জন্য উন্মুক্ত, তবে যেকোনো নতুন ‘হুমকি’ মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত—মস্কোর এই অবস্থানকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টা ব্যর্থ দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন দাবি করে আসছে যে, নতুন যেকোনো পারমাণবিক চুক্তিতে চীনকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে বেইজিং এই প্রচেষ্টাকে ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার প্রয়াস’ হিসেবে দেখছে। চীনের যুক্তি হলো, তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার ওয়াশিংটন বা মস্কোর তুলনায় অনেক ছোট, তাই বড় দুই শক্তির সাথে সমান্তরালে তাদের নামিয়ে আনা অযৌক্তিক।
প্রেক্ষাপট ও সক্ষমতা নিউ স্টার্ট চুক্তিটি প্রতিটি পক্ষকে অন্য পক্ষের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি দিত, যা কোভিড-১৯ মহামারীর সময় থেকে স্থবির হয়ে পড়েছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন আর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকছে না। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম দুই পারমাণবিক শক্তির হাতে এখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে অস্ত্র বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হলো, যা শীতল যুদ্ধের সময়কার ভীতিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলছে।

আপনার মতামত লিখুন