ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইসলামী আন্দোলনের ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’: শরীয়াহ শাসন ও রাষ্ট্র সংস্কারে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইসলামী আন্দোলনের ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’: শরীয়াহ শাসন ও রাষ্ট্র সংস্কারে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ শিরোনামে নিজেদের বিস্তারিত নির্বাচনী রূপরেখা ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে এই ইশতেহার উপস্থাপন করেন দলটির আমির মুফতি রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। ইশতেহারে ৯০ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে ‘শরীয়াহর প্রাধান্য’ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ৩১ দফা মৌলিক এবং ২৮ দফা খাতভিত্তিক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

ইশতেহারে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়েছে, ক্ষমতার ‘চর্চা’ নয় বরং ‘দায়িত্ব পালন’ হবে মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এছাড়া নির্বাহী বিভাগের আধিপত্য কমিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং ‘ন্যায়পাল’ পদটি অবিলম্বে কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন জানিয়েছে, তাদের শাসনামলে কেউ ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত হবে না; বরং নাগরিক পরিচয়ে সবাই সমান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার ভোগ করবেন। ইশতেহারে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, নারীদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার শরীয়াহ মোতাবেক কার্যকর করা এবং পথশিশু ও বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছে।

দুর্নীতিকে ‘শূন্যের কোঠায়’ নামিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশেষ আইন ও ‘পাবলিক এক্সপেন্ডিচার রিভিউ কমিশন’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। বেকারত্ব দূর করতে ১৮-২৪ বছর বয়সী যুবকদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। এছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ডিজিটাল জবাবদিহিতা পোর্টাল চালুর কথা বলা হয়েছে। ইশতেহারের বিশেষ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে হতদরিদ্রদের জন্য মাসে ৫,০০০ টাকা নগদ সহায়তা, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার এবং সবার জন্য ‘স্বাস্থ্যকার্ড’ বা সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এছাড়া নারী পোশাক কর্মীদের জন্য আবাসন এবং কওমি সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওলামায়ে কেরামদের রাষ্ট্রীয় পদে পদায়নের পরিকল্পনাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।

খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় অর্থনীতিতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, অর্থপাচার রোধ এবং ব্যাংকিং খাতে সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে ‘কৃষিকার্ড’ ও ভর্তুকিমূল্যে কৃষি উপকরণের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। জ্বালানি খাতে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (রেন্টাল) ধাপে ধাপে বন্ধ করে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ‘বাংলাদেশ হবে বিশ্ব পর্যটনের রাজধানী’—এই লক্ষ্য নিয়ে পর্যটন শিল্পকে ঢেলে সাজানোর কথা বলা হয়েছে। ইশতেহার শেষে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কাগজ নয়, এটি জনগণের প্রতি তাঁদের পবিত্র অঙ্গীকার। ক্ষমতায় গেলে ইনশাআল্লাহ প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে তাঁরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইসলামী আন্দোলনের ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’: শরীয়াহ শাসন ও রাষ্ট্র সংস্কারে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ শিরোনামে নিজেদের বিস্তারিত নির্বাচনী রূপরেখা ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে এই ইশতেহার উপস্থাপন করেন দলটির আমির মুফতি রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। ইশতেহারে ৯০ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে ‘শরীয়াহর প্রাধান্য’ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ৩১ দফা মৌলিক এবং ২৮ দফা খাতভিত্তিক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

ইশতেহারে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়েছে, ক্ষমতার ‘চর্চা’ নয় বরং ‘দায়িত্ব পালন’ হবে মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এছাড়া নির্বাহী বিভাগের আধিপত্য কমিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং ‘ন্যায়পাল’ পদটি অবিলম্বে কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন জানিয়েছে, তাদের শাসনামলে কেউ ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত হবে না; বরং নাগরিক পরিচয়ে সবাই সমান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার ভোগ করবেন। ইশতেহারে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, নারীদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার শরীয়াহ মোতাবেক কার্যকর করা এবং পথশিশু ও বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছে।

দুর্নীতিকে ‘শূন্যের কোঠায়’ নামিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশেষ আইন ও ‘পাবলিক এক্সপেন্ডিচার রিভিউ কমিশন’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। বেকারত্ব দূর করতে ১৮-২৪ বছর বয়সী যুবকদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। এছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ডিজিটাল জবাবদিহিতা পোর্টাল চালুর কথা বলা হয়েছে। ইশতেহারের বিশেষ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে হতদরিদ্রদের জন্য মাসে ৫,০০০ টাকা নগদ সহায়তা, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার এবং সবার জন্য ‘স্বাস্থ্যকার্ড’ বা সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এছাড়া নারী পোশাক কর্মীদের জন্য আবাসন এবং কওমি সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওলামায়ে কেরামদের রাষ্ট্রীয় পদে পদায়নের পরিকল্পনাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।

খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় অর্থনীতিতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, অর্থপাচার রোধ এবং ব্যাংকিং খাতে সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে ‘কৃষিকার্ড’ ও ভর্তুকিমূল্যে কৃষি উপকরণের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। জ্বালানি খাতে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (রেন্টাল) ধাপে ধাপে বন্ধ করে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ‘বাংলাদেশ হবে বিশ্ব পর্যটনের রাজধানী’—এই লক্ষ্য নিয়ে পর্যটন শিল্পকে ঢেলে সাজানোর কথা বলা হয়েছে। ইশতেহার শেষে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কাগজ নয়, এটি জনগণের প্রতি তাঁদের পবিত্র অঙ্গীকার। ক্ষমতায় গেলে ইনশাআল্লাহ প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে তাঁরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ