রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপকে ট্রাম্প ‘চমৎকার’ এবং ‘সবকিছুই ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেছেন। বাণিজ্য যুদ্ধ ও তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা থাকলেও, ব্যক্তিগত সম্পর্কের রসায়নকে কাজে লাগিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন দুই নেতাই।
বাণিজ্য ও সয়াবিন কূটনীতি ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় মার্কিন কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সুখবর এসেছে। চীন চলতি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির পরিমাণ ১ কোটি ২০ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি টনে নিতে সম্মত হয়েছে। শুধু তাই নয়, পরবর্তী মৌসুমে ২ কোটি ৫০ লাখ টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বেইজিং। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বিবৃতিতে এই সয়াবিন ক্রয়ের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা সম্পর্কটি এখনও অত্যন্ত ‘ট্রানজ্যাকশনাল’ বা লেনদেনভিত্তিক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
তাইওয়ান ও ইরানের ওপর কড়া বার্তা ফোনালাপে সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ ছিল তাইওয়ান। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটিই বেইজিংয়ের ‘মূল স্বার্থ’ (Core Interest)। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ‘চরম সতর্কতা’ অবলম্বনের আহ্বান জানান। অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প বেইজিং ও অন্যান্য শক্তিকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এপ্রিলে ট্রাম্পের চীন সফর আলোচনার একটি বড় প্রাপ্তি হলো আগামী এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফর। ২০২৫ সালের অক্টোবরে বুসানে সরাসরি সাক্ষাতের পর এটিই হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বেইজিং সফর। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী, যা দুই দেশের জন্যই জরুরি।” শি জিনপিংও সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে মতপার্থক্য সামলানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন ও পরমাণু নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই নেতা কথা বলেছেন। ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে নতুন কোনো পরমাণু চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার যে ইচ্ছা আগে পোষণ করেছিলেন, সেই প্রসঙ্গের প্রতিফলন এই আলোচনায় থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপকে ট্রাম্প ‘চমৎকার’ এবং ‘সবকিছুই ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেছেন। বাণিজ্য যুদ্ধ ও তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা থাকলেও, ব্যক্তিগত সম্পর্কের রসায়নকে কাজে লাগিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন দুই নেতাই।
বাণিজ্য ও সয়াবিন কূটনীতি ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় মার্কিন কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সুখবর এসেছে। চীন চলতি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির পরিমাণ ১ কোটি ২০ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি টনে নিতে সম্মত হয়েছে। শুধু তাই নয়, পরবর্তী মৌসুমে ২ কোটি ৫০ লাখ টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বেইজিং। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বিবৃতিতে এই সয়াবিন ক্রয়ের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা সম্পর্কটি এখনও অত্যন্ত ‘ট্রানজ্যাকশনাল’ বা লেনদেনভিত্তিক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
তাইওয়ান ও ইরানের ওপর কড়া বার্তা ফোনালাপে সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ ছিল তাইওয়ান। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটিই বেইজিংয়ের ‘মূল স্বার্থ’ (Core Interest)। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ‘চরম সতর্কতা’ অবলম্বনের আহ্বান জানান। অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প বেইজিং ও অন্যান্য শক্তিকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এপ্রিলে ট্রাম্পের চীন সফর আলোচনার একটি বড় প্রাপ্তি হলো আগামী এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফর। ২০২৫ সালের অক্টোবরে বুসানে সরাসরি সাক্ষাতের পর এটিই হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বেইজিং সফর। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী, যা দুই দেশের জন্যই জরুরি।” শি জিনপিংও সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে মতপার্থক্য সামলানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন ও পরমাণু নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই নেতা কথা বলেছেন। ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে নতুন কোনো পরমাণু চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার যে ইচ্ছা আগে পোষণ করেছিলেন, সেই প্রসঙ্গের প্রতিফলন এই আলোচনায় থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন