প্রযুক্তির বিবর্তন বরাবরই পুরাতনকে সরিয়ে নতুনের জায়গা করে দেয়। আকাশপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এখন তেমনই এক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান এআরসি অ্যারোসিস্টেম। কয়েক দশক আগের একটি বিস্মৃত প্রযুক্তিকে আধুনিক রূপ দিয়ে তারা তৈরি করেছে ‘পেগাসাস’ নামক একটি ভার্টিকাল টেক-অফ জাইরোকপ্টার, যা হেলিকপ্টারের সাশ্রয়ী ও নিরাপদ বিকল্প হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
পুরানো নকশায় আধুনিক চমক ষাট ও সত্তরের দশকের ‘অ্যাভিয়ান ২/১৮০’ মডেলের অনুপ্রেরণায় তৈরি এই যানটিতে ব্যবহার করা হয়েছে হাইব্রিড-ইলেকট্রিক ইঞ্জিন। এর বিশেষত্ব হলো, হেলিকপ্টারের মতো খাড়াভাবে ওঠানামা করতে পারলেও এর ওপরের রোটর বা পাখাটি ইঞ্জিনের সরাসরি সাহায্য ছাড়াই কেবল বাতাসের চাপের মাধ্যমে ঘোরে। ফলে যান্ত্রিক জটিলতা যেমন কমেছে, তেমনই এটি হয়ে উঠেছে পরিবেশবান্ধব। সাধারণ জাইরোকপ্টারের জন্য রানওয়ের প্রয়োজন হলেও পেগাসাস অনেকটা লাফিয়ে ওঠার মতো করে সরাসরি আকাশে উড্ডয়ন করতে পারে।
ব্যয় ও নিরাপত্তার সমীকরণ এআরসি অ্যারোসিস্টেমের প্রধান নির্বাহী ড. সাইয়্যেদ মোহসেনি জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারের তুলনায় পেগাসাসের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয় অভাবনীয়ভাবে কম। যেখানে একটি হেলিকপ্টার মিশনে হাজার হাজার ডলারের প্রয়োজন হয়, সেখানে পেগাসাসের প্রতি ঘণ্টার খরচ মাত্র কয়েকশ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এছাড়া এর অনন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা হলো—মাঝ আকাশে ইঞ্জিন বিকল হলেও এর পাখাগুলো প্যারাসুটের মতো কাজ করে যানটিকে নিরাপদে মাটিতে নামিয়ে আনে।
সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা যদিও পেগাসাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, যা সাধারণ হেলিকপ্টারের চেয়ে কিছুটা ধীরগতির, তবুও বর্তমানের ৯০ শতাংশ হেলিকপ্টার মিশন এটি দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ডগলাস থমসনের মতে, জাইরোকপ্টার আকারে বড় করা বা অধিক যাত্রী বহন করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং এবং এর পাইলটদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে। তবে জরুরি চিকিৎসা সেবা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা জরুরি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক যাত্রার অপেক্ষা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন চ্যারিটি ও চিকিৎসা সংস্থা পেগাসাসের আগাম অর্ডার দিয়ে রেখেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বড় বিনিয়োগ নিশ্চিত করে আগামী তিন বছরের মধ্যে এই যানটিকে বাণিজ্যিকভাবে আকাশে উড়ানোর পরিকল্পনা করছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। হেলিকপ্টারের প্রয়োজন পুরোপুরি না ফুরালেও সাশ্রয়ী আকাশযানের বাজারে পেগাসাস যে একটি নতুন মেরুকরণ ঘটাবে, তা এখন স্পষ্ট।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রযুক্তির বিবর্তন বরাবরই পুরাতনকে সরিয়ে নতুনের জায়গা করে দেয়। আকাশপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এখন তেমনই এক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান এআরসি অ্যারোসিস্টেম। কয়েক দশক আগের একটি বিস্মৃত প্রযুক্তিকে আধুনিক রূপ দিয়ে তারা তৈরি করেছে ‘পেগাসাস’ নামক একটি ভার্টিকাল টেক-অফ জাইরোকপ্টার, যা হেলিকপ্টারের সাশ্রয়ী ও নিরাপদ বিকল্প হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
পুরানো নকশায় আধুনিক চমক ষাট ও সত্তরের দশকের ‘অ্যাভিয়ান ২/১৮০’ মডেলের অনুপ্রেরণায় তৈরি এই যানটিতে ব্যবহার করা হয়েছে হাইব্রিড-ইলেকট্রিক ইঞ্জিন। এর বিশেষত্ব হলো, হেলিকপ্টারের মতো খাড়াভাবে ওঠানামা করতে পারলেও এর ওপরের রোটর বা পাখাটি ইঞ্জিনের সরাসরি সাহায্য ছাড়াই কেবল বাতাসের চাপের মাধ্যমে ঘোরে। ফলে যান্ত্রিক জটিলতা যেমন কমেছে, তেমনই এটি হয়ে উঠেছে পরিবেশবান্ধব। সাধারণ জাইরোকপ্টারের জন্য রানওয়ের প্রয়োজন হলেও পেগাসাস অনেকটা লাফিয়ে ওঠার মতো করে সরাসরি আকাশে উড্ডয়ন করতে পারে।
ব্যয় ও নিরাপত্তার সমীকরণ এআরসি অ্যারোসিস্টেমের প্রধান নির্বাহী ড. সাইয়্যেদ মোহসেনি জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারের তুলনায় পেগাসাসের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয় অভাবনীয়ভাবে কম। যেখানে একটি হেলিকপ্টার মিশনে হাজার হাজার ডলারের প্রয়োজন হয়, সেখানে পেগাসাসের প্রতি ঘণ্টার খরচ মাত্র কয়েকশ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এছাড়া এর অনন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা হলো—মাঝ আকাশে ইঞ্জিন বিকল হলেও এর পাখাগুলো প্যারাসুটের মতো কাজ করে যানটিকে নিরাপদে মাটিতে নামিয়ে আনে।
সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা যদিও পেগাসাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, যা সাধারণ হেলিকপ্টারের চেয়ে কিছুটা ধীরগতির, তবুও বর্তমানের ৯০ শতাংশ হেলিকপ্টার মিশন এটি দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ডগলাস থমসনের মতে, জাইরোকপ্টার আকারে বড় করা বা অধিক যাত্রী বহন করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং এবং এর পাইলটদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে। তবে জরুরি চিকিৎসা সেবা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা জরুরি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক যাত্রার অপেক্ষা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন চ্যারিটি ও চিকিৎসা সংস্থা পেগাসাসের আগাম অর্ডার দিয়ে রেখেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বড় বিনিয়োগ নিশ্চিত করে আগামী তিন বছরের মধ্যে এই যানটিকে বাণিজ্যিকভাবে আকাশে উড়ানোর পরিকল্পনা করছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। হেলিকপ্টারের প্রয়োজন পুরোপুরি না ফুরালেও সাশ্রয়ী আকাশযানের বাজারে পেগাসাস যে একটি নতুন মেরুকরণ ঘটাবে, তা এখন স্পষ্ট।

আপনার মতামত লিখুন