যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির রেশ কাটতে না কাটতেই ওয়াশিংটনের এই ঘোষণা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বর্তমানে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর কার্যকর শুল্ক ২০ শতাংশ থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে শুল্ক ব্যবধান এখন স্পষ্ট।
শুল্ক কাঠামোর বৈষম্য ও বাজার সক্ষমতা বিকেএমইএ-র নির্বাহী সভাপতি ফজলে ইহসান শামীমের তথ্যমতে, বর্তমানে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মোট ৩৩ শতাংশ (১৫% কাস্টমস + ১৮% পাল্টা শুল্ক) কর দিতে হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের দিতে হচ্ছে ৩৫ শতাংশ (১৫% কাস্টমস + ২০% পাল্টা শুল্ক)। এই ২ শতাংশের শুল্ক ব্যবধান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশাল প্রভাব ফেলে। এর ফলে মার্কিন ক্রেতারা এখন বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারত থেকে কম দামে বেসিক টি-শার্ট, নিটওয়্যার ও ক্যাজুয়াল পোশাক সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।
ভারতের কৌশলী অবস্থান বনাম বাংলাদেশের বাস্তবতা বিজিএমইএ-র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, গত পাঁচ বছরে ভারত অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ৯টি দেশের সঙ্গে বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ কেবল ভুটানের সঙ্গেই একটি কার্যকর চুক্তি করতে পেরেছে। ভারতের এই সাফল্য কেবল শুল্ক সুবিধায় নয়, বরং তাদের শক্তিশালী কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা (Backyard Linkage), উন্নত অবকাঠামো এবং দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বিত পরিকল্পনার ফল। যেখানে বাংলাদেশ এখনো গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং উচ্চ উৎপাদন খরচের সঙ্গে লড়াই করছে।
ভবিষ্যৎ শঙ্কা ও জরুরি করণীয় রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন যে, ২০২৬ সালের পর যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি প্লাস সুবিধা নিশ্চিত করা না যায়, তবে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান দুই বাজারেই বড় ধরনের ধস নামতে পারে। বর্তমানে তিন মাস ধরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমতির দিকে থাকায় এই শুল্ক বৈষম্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন: ১. কূটনৈতিক তৎপরতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে দ্রুত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করা। ২. বাজার বহুমুখীকরণ: জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করা এবং অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়ানো। ৩. নীতি সহায়তা: অভ্যন্তরীণ গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন খরচ কমানো এবং রপ্তানিকারকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
পোশাক খাতের নেতারা মনে করেন, টিকে থাকতে হলে কারখানাগুলোকে এখন লাভের পরিমাণ কমিয়ে পণ্য সরবরাহ করতে হতে পারে, যা অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। সরকার যদি দ্রুত বাণিজ্য কৌশল জোরদার না করে, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এই খাতটি দীর্ঘস্থায়ী সংকটে পড়তে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির রেশ কাটতে না কাটতেই ওয়াশিংটনের এই ঘোষণা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বর্তমানে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর কার্যকর শুল্ক ২০ শতাংশ থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে শুল্ক ব্যবধান এখন স্পষ্ট।
শুল্ক কাঠামোর বৈষম্য ও বাজার সক্ষমতা বিকেএমইএ-র নির্বাহী সভাপতি ফজলে ইহসান শামীমের তথ্যমতে, বর্তমানে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মোট ৩৩ শতাংশ (১৫% কাস্টমস + ১৮% পাল্টা শুল্ক) কর দিতে হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের দিতে হচ্ছে ৩৫ শতাংশ (১৫% কাস্টমস + ২০% পাল্টা শুল্ক)। এই ২ শতাংশের শুল্ক ব্যবধান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশাল প্রভাব ফেলে। এর ফলে মার্কিন ক্রেতারা এখন বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারত থেকে কম দামে বেসিক টি-শার্ট, নিটওয়্যার ও ক্যাজুয়াল পোশাক সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।
ভারতের কৌশলী অবস্থান বনাম বাংলাদেশের বাস্তবতা বিজিএমইএ-র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, গত পাঁচ বছরে ভারত অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ৯টি দেশের সঙ্গে বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ কেবল ভুটানের সঙ্গেই একটি কার্যকর চুক্তি করতে পেরেছে। ভারতের এই সাফল্য কেবল শুল্ক সুবিধায় নয়, বরং তাদের শক্তিশালী কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা (Backyard Linkage), উন্নত অবকাঠামো এবং দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বিত পরিকল্পনার ফল। যেখানে বাংলাদেশ এখনো গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং উচ্চ উৎপাদন খরচের সঙ্গে লড়াই করছে।
ভবিষ্যৎ শঙ্কা ও জরুরি করণীয় রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন যে, ২০২৬ সালের পর যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি প্লাস সুবিধা নিশ্চিত করা না যায়, তবে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান দুই বাজারেই বড় ধরনের ধস নামতে পারে। বর্তমানে তিন মাস ধরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমতির দিকে থাকায় এই শুল্ক বৈষম্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন: ১. কূটনৈতিক তৎপরতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে দ্রুত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করা। ২. বাজার বহুমুখীকরণ: জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করা এবং অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়ানো। ৩. নীতি সহায়তা: অভ্যন্তরীণ গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন খরচ কমানো এবং রপ্তানিকারকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
পোশাক খাতের নেতারা মনে করেন, টিকে থাকতে হলে কারখানাগুলোকে এখন লাভের পরিমাণ কমিয়ে পণ্য সরবরাহ করতে হতে পারে, যা অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। সরকার যদি দ্রুত বাণিজ্য কৌশল জোরদার না করে, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এই খাতটি দীর্ঘস্থায়ী সংকটে পড়তে পারে।

আপনার মতামত লিখুন