আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর) আসনের ১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক তাঁর ১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে মোহাম্মদপুরের একটি মিলনায়তনে এই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ‘ইশতেহার পাঠ ও আচরণবিধি প্রতিপালন’ অনুষ্ঠানে তিনি এই রূপরেখা তুলে ধরেন। রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মামুনুল হক তাঁর ইশতেহারে সন্ত্রাস, মাদক নির্মূল এবং কিশোর গ্যাং সংশোধনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ঢাকা-১৩ আসনকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। ইশতেহারে তিনি ভূমি সেবা, জন্ম-নিবন্ধন ও নাগরিক সেবায় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দালাল চক্র উচ্ছেদের অঙ্গীকার করেন। এছাড়াও রামচন্দ্রপুর খালসহ এলাকার সব খাল দখলমুক্ত করে জলাবদ্ধতা নিরসনে টেকসই ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মাওলানা মামুনুল হকের ১৩ দফা ইশতেহারের মূল বিষয়সমূহ:
দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন: ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে দালাল উচ্ছেদ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
নিরাপদ জনপদ: সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে সংশোধনী ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা জোরদার: ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি ও পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপন এবং বাজার ও টার্মিনালে টেন্ডারবাজি বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।
আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা: যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং মেট্রোরেল সুবিধা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা: সব খাল অবমুক্তকরণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ: ‘এক ছাতার নিচে সব সেবা’ নীতির মাধ্যমে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা হবে।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ: আধুনিক ল্যাব স্থাপন, ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু এবং বেদখল খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার করা হবে।
জ্বালানি সংকট সমাধান: গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ বণ্টনে দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করা হবে।
স্বাস্থ্য ও নাগরিক সেবা: সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জেনেভা ক্যাম্প ও বস্তিবাসীর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হবে।
ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ: সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করা হবে।
নাগরিক স্বাধীনতা: নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় দিবসসমূহ মর্যাদার সঙ্গে উদযাপন করা হবে।
নারী ও শিশুর বিকাশ: নারী নিরাপত্তায় হটলাইন ও সিসিটিভি স্থাপন এবং শিশুশ্রম বন্ধে ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি করা হবে।
জবাবদিহির রাজনীতি: জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও বীরদের সম্মান জানানো এবং জনগণের সঙ্গে নিয়মিত উন্মুক্ত সংলাপের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
ইশতেহার ঘোষণা শেষে মামুনুল হক সব প্রার্থীর প্রতি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ববি হাজ্জাজ এবং রিকশা প্রতীকে মামুনুল হকের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে স্থানীয় ভোটারদের মাঝে আলোচনা চলছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর) আসনের ১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক তাঁর ১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে মোহাম্মদপুরের একটি মিলনায়তনে এই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ‘ইশতেহার পাঠ ও আচরণবিধি প্রতিপালন’ অনুষ্ঠানে তিনি এই রূপরেখা তুলে ধরেন। রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মামুনুল হক তাঁর ইশতেহারে সন্ত্রাস, মাদক নির্মূল এবং কিশোর গ্যাং সংশোধনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ঢাকা-১৩ আসনকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। ইশতেহারে তিনি ভূমি সেবা, জন্ম-নিবন্ধন ও নাগরিক সেবায় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দালাল চক্র উচ্ছেদের অঙ্গীকার করেন। এছাড়াও রামচন্দ্রপুর খালসহ এলাকার সব খাল দখলমুক্ত করে জলাবদ্ধতা নিরসনে টেকসই ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মাওলানা মামুনুল হকের ১৩ দফা ইশতেহারের মূল বিষয়সমূহ:
দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন: ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে দালাল উচ্ছেদ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
নিরাপদ জনপদ: সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে সংশোধনী ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা জোরদার: ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি ও পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপন এবং বাজার ও টার্মিনালে টেন্ডারবাজি বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।
আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা: যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং মেট্রোরেল সুবিধা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা: সব খাল অবমুক্তকরণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ: ‘এক ছাতার নিচে সব সেবা’ নীতির মাধ্যমে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা হবে।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ: আধুনিক ল্যাব স্থাপন, ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু এবং বেদখল খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার করা হবে।
জ্বালানি সংকট সমাধান: গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ বণ্টনে দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করা হবে।
স্বাস্থ্য ও নাগরিক সেবা: সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জেনেভা ক্যাম্প ও বস্তিবাসীর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হবে।
ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ: সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করা হবে।
নাগরিক স্বাধীনতা: নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় দিবসসমূহ মর্যাদার সঙ্গে উদযাপন করা হবে।
নারী ও শিশুর বিকাশ: নারী নিরাপত্তায় হটলাইন ও সিসিটিভি স্থাপন এবং শিশুশ্রম বন্ধে ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি করা হবে।
জবাবদিহির রাজনীতি: জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও বীরদের সম্মান জানানো এবং জনগণের সঙ্গে নিয়মিত উন্মুক্ত সংলাপের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
ইশতেহার ঘোষণা শেষে মামুনুল হক সব প্রার্থীর প্রতি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ববি হাজ্জাজ এবং রিকশা প্রতীকে মামুনুল হকের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে স্থানীয় ভোটারদের মাঝে আলোচনা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন