ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মাদুরোর মুক্তির দাবিতে কারাকাসে হাজারো সমর্থকের বিক্ষোভ


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মাদুরোর মুক্তির দাবিতে কারাকাসে হাজারো সমর্থকের বিক্ষোভ


ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানী কারাকাসে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানে (অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ) ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক এক মাস পর তাঁর সমর্থকরা রাজপথে নেমে এলেন। বর্তমানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

“ভেনেজুয়েলার জন্য নিকোলাস প্রয়োজন”—এমন স্লোগানে মুখর বিক্ষোভকারীরা কারাকাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। সরকারি আহ্বানে আয়োজিত এই মিছিলে বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মচারী এবং শাসকদল ‘চাভিস্তা’ আন্দোলনের সমর্থকরা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী লাল পোশাকে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতেই ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের ছবি এবং মাদুরো দম্পতির পোস্টার।

মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া দেলসি রদ্রিগেজ বর্তমানে এক কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একদিকে তাঁকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে দলের ভেতর মাদুরো-অনুগত কট্টরপন্থীদের ক্ষোভ সামাল দিতে হচ্ছে। বিক্ষোভ সমাবেশে মাদুরোর ছেলে নিকোলাস ‘নিকোলাসিতো’ মাদুরো গেরা হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমরা আমেরিকার অধীন নই এবং আমাদের এই সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা কেউ দমাতে পারবে না।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৫৮ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী হোসে পেরদোমো জানান, তাঁরা একদিকে শোকাহত এবং অন্যদিকে ক্ষুব্ধ। তবে তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমর্থন দিচ্ছেন এবং আশা করছেন একদিন তাঁদের নেতা মুক্তি পাবেন। এদিকে, রদ্রিগেজ সরকার ইতিমধ্যে কিছু রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করেছে। এমনকি ভেনেজুয়েলায় নিযুক্ত মার্কিন দূত লরা ডোগু সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি ত্রি-স্তরীয় পরিকল্পনা পেশ করেছেন।

একই দিন কারাকাসের অন্য প্রান্তে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক বন্দিদের স্বজনরাও একটি মিছিল করেন। তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুত ‘সাধারণ ক্ষমা আইন’ দ্রুত পাস করার দাবি জানান। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভেনেজুয়েলা একদিকে যেমন নতুন নির্বাচনের দাবির মুখে রয়েছে, তেমনি মাদুরোপন্থীদের এই বিক্ষোভ দেশটির ভঙ্গুর স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় পরীক্ষা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মাদুরোর মুক্তির দাবিতে কারাকাসে হাজারো সমর্থকের বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানী কারাকাসে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানে (অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ) ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক এক মাস পর তাঁর সমর্থকরা রাজপথে নেমে এলেন। বর্তমানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

“ভেনেজুয়েলার জন্য নিকোলাস প্রয়োজন”—এমন স্লোগানে মুখর বিক্ষোভকারীরা কারাকাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। সরকারি আহ্বানে আয়োজিত এই মিছিলে বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মচারী এবং শাসকদল ‘চাভিস্তা’ আন্দোলনের সমর্থকরা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী লাল পোশাকে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতেই ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের ছবি এবং মাদুরো দম্পতির পোস্টার।

মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া দেলসি রদ্রিগেজ বর্তমানে এক কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একদিকে তাঁকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে দলের ভেতর মাদুরো-অনুগত কট্টরপন্থীদের ক্ষোভ সামাল দিতে হচ্ছে। বিক্ষোভ সমাবেশে মাদুরোর ছেলে নিকোলাস ‘নিকোলাসিতো’ মাদুরো গেরা হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমরা আমেরিকার অধীন নই এবং আমাদের এই সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা কেউ দমাতে পারবে না।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৫৮ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী হোসে পেরদোমো জানান, তাঁরা একদিকে শোকাহত এবং অন্যদিকে ক্ষুব্ধ। তবে তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমর্থন দিচ্ছেন এবং আশা করছেন একদিন তাঁদের নেতা মুক্তি পাবেন। এদিকে, রদ্রিগেজ সরকার ইতিমধ্যে কিছু রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করেছে। এমনকি ভেনেজুয়েলায় নিযুক্ত মার্কিন দূত লরা ডোগু সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি ত্রি-স্তরীয় পরিকল্পনা পেশ করেছেন।

একই দিন কারাকাসের অন্য প্রান্তে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক বন্দিদের স্বজনরাও একটি মিছিল করেন। তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুত ‘সাধারণ ক্ষমা আইন’ দ্রুত পাস করার দাবি জানান। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভেনেজুয়েলা একদিকে যেমন নতুন নির্বাচনের দাবির মুখে রয়েছে, তেমনি মাদুরোপন্থীদের এই বিক্ষোভ দেশটির ভঙ্গুর স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় পরীক্ষা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ