আমেরিকার কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত ফাঁস হওয়া নতুন নথিগুলো বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই নথিতে প্রভাবশালীদের যৌন কেলেঙ্কারির পাশাপাশি ভারত ও ভারতীয়দের নিয়ে চরম বর্ণবাদী ও ঘৃণা ছড়ানো মন্তব্য প্রকাশ্যে আসায় বিশেষ করে ভারতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও জাতিসংঘের সাবেক নরওয়েজীয় কূটনীতিক টেরিয়ে রোড-লারসেনের একটি ই-মেইল বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে। ২০১৫ সালে এপস্টেইনকে পাঠানো ওই বার্তায় তিনি চরম বর্ণবাদ প্রকাশ করে লেখেন, "সাপ আর ভারতীয় একসঙ্গে পেলে আগে ভারতীয়কে মারো।" এই প্রবাদটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। নেটিজেনরা একে "বিকৃত রুচি" ও "ঘৃণ্য মানসিকতার পরিচয়" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নথিতে আরও দেখা যায়, খোদ জেফ্রি এপস্টেইনও ভারতের প্রতি প্রচণ্ড বিদ্বেষ পোষণ করতেন। ২০১৪ সালের একটি ই-মেইলে তিনি ভারতকে "নোংরা" এবং "বিষ্ঠার মতো গন্ধযুক্ত" বলে আখ্যা দেন। এমনকি বিল গেটসের সাবেক উপদেষ্টা বরিস নিকোলিককে পাঠানো বার্তায় তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন, "আমি ভারতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না, ভারতকে ঘৃণা করি।"
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হরদীপ সিং পুরির নাম এসব নথিতে একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে এপস্টেইন নিবন্ধিত যৌন অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও হরদীপ সিং পুরি ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে অন্তত তিনবার নিউ ইয়র্কে এপস্টেইনের ম্যানহাটনের বাসভবনে গিয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৪ সালে তাঁদের মধ্যে ই-মেইল বিনিময়ের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে পুরি এপস্টেইনকে ভারতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও মোদি সরকারের অর্থনৈতিক উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি দাবি করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল সম্পূর্ণ পেশাদার ও ব্যবসায়িক কারণে। তবে এপস্টেইন যখন ব্যক্তিগতভাবে ভারতের প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করছিলেন, সেই সময় কেন তাঁর সঙ্গে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হলো, তা নিয়ে ভারতে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে। বর্তমান মোদি সরকারের অন্যতম শীর্ষ মন্ত্রীর নাম এই নথিতে যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আমেরিকার কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত ফাঁস হওয়া নতুন নথিগুলো বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই নথিতে প্রভাবশালীদের যৌন কেলেঙ্কারির পাশাপাশি ভারত ও ভারতীয়দের নিয়ে চরম বর্ণবাদী ও ঘৃণা ছড়ানো মন্তব্য প্রকাশ্যে আসায় বিশেষ করে ভারতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও জাতিসংঘের সাবেক নরওয়েজীয় কূটনীতিক টেরিয়ে রোড-লারসেনের একটি ই-মেইল বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে। ২০১৫ সালে এপস্টেইনকে পাঠানো ওই বার্তায় তিনি চরম বর্ণবাদ প্রকাশ করে লেখেন, "সাপ আর ভারতীয় একসঙ্গে পেলে আগে ভারতীয়কে মারো।" এই প্রবাদটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। নেটিজেনরা একে "বিকৃত রুচি" ও "ঘৃণ্য মানসিকতার পরিচয়" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নথিতে আরও দেখা যায়, খোদ জেফ্রি এপস্টেইনও ভারতের প্রতি প্রচণ্ড বিদ্বেষ পোষণ করতেন। ২০১৪ সালের একটি ই-মেইলে তিনি ভারতকে "নোংরা" এবং "বিষ্ঠার মতো গন্ধযুক্ত" বলে আখ্যা দেন। এমনকি বিল গেটসের সাবেক উপদেষ্টা বরিস নিকোলিককে পাঠানো বার্তায় তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন, "আমি ভারতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না, ভারতকে ঘৃণা করি।"
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হরদীপ সিং পুরির নাম এসব নথিতে একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে এপস্টেইন নিবন্ধিত যৌন অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও হরদীপ সিং পুরি ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে অন্তত তিনবার নিউ ইয়র্কে এপস্টেইনের ম্যানহাটনের বাসভবনে গিয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৪ সালে তাঁদের মধ্যে ই-মেইল বিনিময়ের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে পুরি এপস্টেইনকে ভারতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও মোদি সরকারের অর্থনৈতিক উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি দাবি করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল সম্পূর্ণ পেশাদার ও ব্যবসায়িক কারণে। তবে এপস্টেইন যখন ব্যক্তিগতভাবে ভারতের প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করছিলেন, সেই সময় কেন তাঁর সঙ্গে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হলো, তা নিয়ে ভারতে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে। বর্তমান মোদি সরকারের অন্যতম শীর্ষ মন্ত্রীর নাম এই নথিতে যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন