ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চিনের নতুন নৌ-রণকৌশল: বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সিস্টেম ধ্বংস’ চ্যালেঞ্জ


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চিনের নতুন নৌ-রণকৌশল: বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সিস্টেম ধ্বংস’ চ্যালেঞ্জ


চীনের সাম্প্রতিক নৌ-অস্ত্র কৌশল বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক জাহাজকে ছদ্মবেশী অস্ত্রবাহী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের উদ্ভাবনী ধারণা এবং ‘ওয়াইজে-১৮সি’ (YJ-18C) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের এই নতুন কৌশলের মূল লক্ষ্য সরাসরি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা নয়, বরং প্রতিপক্ষের সামগ্রিক ‘অপারেশনাল সিস্টেম’ বা যুদ্ধব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়া। বেইজিংয়ের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে আলাদা কোনো ইউনিট বা জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার চেয়ে কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক সাপ্লাই চেইনকে অকার্যকর করা অনেক বেশি কার্যকর।

মার্চ ২০২৩-এ প্রকাশিত ‘র‌্যান্ড করপোরেশন’-এর একটি প্রতিবেদনে গবেষক মার্ক কোজাড উল্লেখ করেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) মূলত ‘সিস্টেম ডেস্ট্রাকশন ওয়ারফেয়ার’ বা পদ্ধতিগত ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পথে এগোচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ভেঙে দিয়ে পুরো বাহিনীকে প্যারালাইজ বা অচল করে দেওয়া।

এই কৌশলের তুরুপের তাস হিসেবে দেখা হচ্ছে ‘ওয়াইজে-১৮সি’ ক্ষেপণাস্ত্রকে। এটি মূলত লজিস্টিক জাহাজ, রিফুয়েলিং প্ল্যাটফর্ম এবং রসদ সরবরাহকারী নৌযানগুলোকে আঘাত হানার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। কম উৎপাদন খরচ এবং স্টেলথ (রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা) বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি দিয়ে ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ বা একসঙ্গে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব, যা প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ‘কনটেইনারাইজড লঞ্চ সিস্টেম’। বাণিজ্যিক জাহাজের কন্টেইনারের ভেতরে এই ক্ষেপণাস্ত্র লুকিয়ে রাখার প্রযুক্তির ফলে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ ও সামরিক হুমকির মধ্যে পার্থক্য করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তবে এই কৌশলের কিছু সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরেছে ‘হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’। জানুয়ারি ২০২৬-এর এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, চীন বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সক্ষম হলেও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে সেই সক্ষমতা বজায় রাখা কঠিন হবে। কারণ তাদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো নির্দিষ্ট কিছু স্থানে কেন্দ্রীভূত এবং গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর উপকরণের জন্য তারা এখনো বিদেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বড় ধরনের পাল্টা আঘাতে এই সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তা সত্ত্বেও, চীনের এই ‘ছদ্মবেশী’ নৌ-কৌশল প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যের সামনে এক নতুন ও ভয়ংকর সমীকরণ দাঁড় করিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


চিনের নতুন নৌ-রণকৌশল: বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সিস্টেম ধ্বংস’ চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


চীনের সাম্প্রতিক নৌ-অস্ত্র কৌশল বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক জাহাজকে ছদ্মবেশী অস্ত্রবাহী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের উদ্ভাবনী ধারণা এবং ‘ওয়াইজে-১৮সি’ (YJ-18C) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের এই নতুন কৌশলের মূল লক্ষ্য সরাসরি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা নয়, বরং প্রতিপক্ষের সামগ্রিক ‘অপারেশনাল সিস্টেম’ বা যুদ্ধব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়া। বেইজিংয়ের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে আলাদা কোনো ইউনিট বা জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার চেয়ে কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক সাপ্লাই চেইনকে অকার্যকর করা অনেক বেশি কার্যকর।

মার্চ ২০২৩-এ প্রকাশিত ‘র‌্যান্ড করপোরেশন’-এর একটি প্রতিবেদনে গবেষক মার্ক কোজাড উল্লেখ করেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) মূলত ‘সিস্টেম ডেস্ট্রাকশন ওয়ারফেয়ার’ বা পদ্ধতিগত ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পথে এগোচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ভেঙে দিয়ে পুরো বাহিনীকে প্যারালাইজ বা অচল করে দেওয়া।

এই কৌশলের তুরুপের তাস হিসেবে দেখা হচ্ছে ‘ওয়াইজে-১৮সি’ ক্ষেপণাস্ত্রকে। এটি মূলত লজিস্টিক জাহাজ, রিফুয়েলিং প্ল্যাটফর্ম এবং রসদ সরবরাহকারী নৌযানগুলোকে আঘাত হানার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। কম উৎপাদন খরচ এবং স্টেলথ (রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা) বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি দিয়ে ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ বা একসঙ্গে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব, যা প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ‘কনটেইনারাইজড লঞ্চ সিস্টেম’। বাণিজ্যিক জাহাজের কন্টেইনারের ভেতরে এই ক্ষেপণাস্ত্র লুকিয়ে রাখার প্রযুক্তির ফলে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ ও সামরিক হুমকির মধ্যে পার্থক্য করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তবে এই কৌশলের কিছু সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরেছে ‘হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’। জানুয়ারি ২০২৬-এর এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, চীন বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সক্ষম হলেও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে সেই সক্ষমতা বজায় রাখা কঠিন হবে। কারণ তাদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো নির্দিষ্ট কিছু স্থানে কেন্দ্রীভূত এবং গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর উপকরণের জন্য তারা এখনো বিদেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বড় ধরনের পাল্টা আঘাতে এই সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তা সত্ত্বেও, চীনের এই ‘ছদ্মবেশী’ নৌ-কৌশল প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যের সামনে এক নতুন ও ভয়ংকর সমীকরণ দাঁড় করিয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ