মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) দেশটির তিন ধাপে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জনের দাবি করেছে। চলমান গৃহযুদ্ধ এবং কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর এটিই ছিল দেশটির প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে গত সপ্তাহান্তে শেষ হওয়া এই নির্বাচনে ইউএসডিপি নিম্নকক্ষে ২৬৩টি আসনের মধ্যে ২৩২টিতে এবং উচ্চকক্ষে ঘোষিত ১৫৭টি আসনের মধ্যে ১০৯টিতে জয় পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জাও মিন তুন জানিয়েছেন যে আগামী মার্চ মাসে পার্লামেন্ট অধিবেশন ডেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে এবং এপ্রিলের মধ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে।
তবে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে যে রোহিঙ্গা মুসলিমসহ বিশাল একটি জনগোষ্ঠীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ভোটের সময় বিমান হামলা, গণগ্রেপ্তার এবং বাস্তুচ্যুতির মতো ঘটনাও ঘটেছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী নির্বাচন চলাকালীন সহিংসতায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং প্রায় ৪০০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) আগেই বিলুপ্ত ঘোষণা করায় এবং অধিকাংশ বিরোধী দল অংশ না নেওয়ায় এই নির্বাচনকে সামরিক শাসন বৈধ করার একটি সাজানো প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা। উল্লেখ্য যে মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন আগে থেকেই সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) দেশটির তিন ধাপে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জনের দাবি করেছে। চলমান গৃহযুদ্ধ এবং কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর এটিই ছিল দেশটির প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে গত সপ্তাহান্তে শেষ হওয়া এই নির্বাচনে ইউএসডিপি নিম্নকক্ষে ২৬৩টি আসনের মধ্যে ২৩২টিতে এবং উচ্চকক্ষে ঘোষিত ১৫৭টি আসনের মধ্যে ১০৯টিতে জয় পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জাও মিন তুন জানিয়েছেন যে আগামী মার্চ মাসে পার্লামেন্ট অধিবেশন ডেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে এবং এপ্রিলের মধ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে।
তবে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে যে রোহিঙ্গা মুসলিমসহ বিশাল একটি জনগোষ্ঠীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ভোটের সময় বিমান হামলা, গণগ্রেপ্তার এবং বাস্তুচ্যুতির মতো ঘটনাও ঘটেছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী নির্বাচন চলাকালীন সহিংসতায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং প্রায় ৪০০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) আগেই বিলুপ্ত ঘোষণা করায় এবং অধিকাংশ বিরোধী দল অংশ না নেওয়ায় এই নির্বাচনকে সামরিক শাসন বৈধ করার একটি সাজানো প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা। উল্লেখ্য যে মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন আগে থেকেই সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকে।

আপনার মতামত লিখুন