ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ত্রিশালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘গণভোট’ নিয়ে বিভ্রান্তি


মোঃ মোস্তাকিম মিয়া
মোঃ মোস্তাকিম মিয়া
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

ত্রিশালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘গণভোট’ নিয়ে বিভ্রান্তি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ–৭ (ত্রিশাল) আসনের গ্রামাঞ্চলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ‘গণভোট’ নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। গণভোটের অর্থ, উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, কৌতূহল ও ভুল বোঝাবুঝি।

ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ভোটারই জানেন না গণভোট কী, কখন এটি অনুষ্ঠিত হয় এবং এর মাধ্যমে কী ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কেউ কেউ গণভোটকে সাধারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে আলাদা ভোটের ব্যবস্থা।

স্থানীয় একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা ব্যালট পেপার ও প্রতীকের মাধ্যমে ভোট প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা রাখলেও গণভোট বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত প্রচার বা স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাননি। ফলে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই গ্রাম পর্যায়ে বিভ্রান্তি বাড়ছে।

একজন বয়স্ক ভোটার বলেন, “ভোট তো আমরা আগেও দিয়েছি, কিন্তু গণভোট কী জিনিস সেটা কেউ বুঝায় নাই। টিভিতে শুনি, কিন্তু ঠিক বুঝি না।”

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া হলেও তৃণমূল পর্যায়ে এর যথাযথ ব্যাখ্যা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এখনও পর্যাপ্ত নয়। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে, যা গণভোটের সার্বিক অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত গ্রাম পর্যায়ে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ কার্যক্রম আরও জোরদার করা। এতে গণভোট সম্পর্কে জনগণের স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে এবং ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে ত্রিশাল উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ভোটের আমেজ তৈরি হলেও গণভোট বিষয়ে এই অজ্ঞতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “গণভোটের বিষয়ে ইতোমধ্যেই পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সম্মেলনের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সহায়তায় জনগণকে গণভোটের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহিলা সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে, যাতে সাধারণ ভোটাররা গণভোট বিষয়ে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারেন।”

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ত্রিশালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘গণভোট’ নিয়ে বিভ্রান্তি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ–৭ (ত্রিশাল) আসনের গ্রামাঞ্চলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ‘গণভোট’ নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। গণভোটের অর্থ, উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, কৌতূহল ও ভুল বোঝাবুঝি।

ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ভোটারই জানেন না গণভোট কী, কখন এটি অনুষ্ঠিত হয় এবং এর মাধ্যমে কী ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কেউ কেউ গণভোটকে সাধারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে আলাদা ভোটের ব্যবস্থা।

স্থানীয় একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা ব্যালট পেপার ও প্রতীকের মাধ্যমে ভোট প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা রাখলেও গণভোট বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত প্রচার বা স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাননি। ফলে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই গ্রাম পর্যায়ে বিভ্রান্তি বাড়ছে।

একজন বয়স্ক ভোটার বলেন, “ভোট তো আমরা আগেও দিয়েছি, কিন্তু গণভোট কী জিনিস সেটা কেউ বুঝায় নাই। টিভিতে শুনি, কিন্তু ঠিক বুঝি না।”

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া হলেও তৃণমূল পর্যায়ে এর যথাযথ ব্যাখ্যা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এখনও পর্যাপ্ত নয়। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে, যা গণভোটের সার্বিক অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত গ্রাম পর্যায়ে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ কার্যক্রম আরও জোরদার করা। এতে গণভোট সম্পর্কে জনগণের স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে এবং ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে ত্রিশাল উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ভোটের আমেজ তৈরি হলেও গণভোট বিষয়ে এই অজ্ঞতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “গণভোটের বিষয়ে ইতোমধ্যেই পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সম্মেলনের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সহায়তায় জনগণকে গণভোটের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহিলা সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে, যাতে সাধারণ ভোটাররা গণভোট বিষয়ে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারেন।”


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ