বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি বলেন, ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি। তাই ভোটের দিন রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে ভোরে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট বাক্স পাহারা দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নওগাঁ শহরের ঐতিহ্যবাহী এটিম মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, একসময় দেশের মানুষের কাছ থেকে ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বহু মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং অনেক পরিবার আপনজন হারিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র এখনও সক্রিয় রয়েছে।
ভোটের দিনের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, সবাই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে একসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। মুসলমানরা জামাতে নামাজ আদায় করবেন এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটের প্রতিটি ধাপে নজরদারি করবেন। সকাল ৭টায় ভোটকেন্দ্র খুললেই ভোট প্রদান শুরু করতে হবে এবং কোনো ধরনের গাফিলতি চলবে না।
অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খালি ব্যালট বাক্স দেখিয়ে পরে ভরা বাক্স দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে। অনেক সময় দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন থাকলেও ভেতরে লাইন এগোয় না—এতে ভেতরে কারচুপির আশঙ্কা থাকে। এসব বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “আমি ১৭ বছর দেশে থাকতে পারিনি। তাহলে এত বছরে দেশের উন্নয়ন কী হয়েছে? যেখানে যাই মানুষ নানা বিষয়ে আবদার করে। তবে হুট করে প্লেনে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।”
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্রামীণ উন্নয়ন, নারীদের ভাগ্য পরিবর্তন এবং মানুষের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে। তিনি বলেন, ঢাকায় কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও মেগা প্রকল্পের আড়ালে মেগা দুর্নীতি হয়েছে।
কৃষকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “কৃষকদের ভালো রাখলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে।” শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে বীজ ও সার সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছানো হবে। কৃষিপণ্যের পরিবহন খরচ কমাতে রেলব্যবস্থা আরও কার্যকর করা হবে।
নারীদের জন্য তিনি ফ্যামিলি কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে মায়েদের স্বাস্থ্যসেবায় মাসিক সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। গ্রাম-গঞ্জে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথ কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে, যাতে সাধারণ রোগের চিকিৎসা ঘরেই পাওয়া যায়।
শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাইকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে—এমন নয়। খেলাধুলা ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কলকারখানায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। আইটি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং বিদেশি কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে।
এছাড়া বিএনপি সরকার গঠন করলে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্য সম্মানিভিত্তিক বেতন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
সবশেষে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। জনসভায় নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার ধানের শীষ প্রতীকের আটটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
জনসভা শেষে তারেক রহমান বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। রাতে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি বলেন, ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি। তাই ভোটের দিন রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে ভোরে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট বাক্স পাহারা দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নওগাঁ শহরের ঐতিহ্যবাহী এটিম মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, একসময় দেশের মানুষের কাছ থেকে ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বহু মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং অনেক পরিবার আপনজন হারিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র এখনও সক্রিয় রয়েছে।
ভোটের দিনের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, সবাই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে একসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। মুসলমানরা জামাতে নামাজ আদায় করবেন এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটের প্রতিটি ধাপে নজরদারি করবেন। সকাল ৭টায় ভোটকেন্দ্র খুললেই ভোট প্রদান শুরু করতে হবে এবং কোনো ধরনের গাফিলতি চলবে না।
অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খালি ব্যালট বাক্স দেখিয়ে পরে ভরা বাক্স দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে। অনেক সময় দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন থাকলেও ভেতরে লাইন এগোয় না—এতে ভেতরে কারচুপির আশঙ্কা থাকে। এসব বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “আমি ১৭ বছর দেশে থাকতে পারিনি। তাহলে এত বছরে দেশের উন্নয়ন কী হয়েছে? যেখানে যাই মানুষ নানা বিষয়ে আবদার করে। তবে হুট করে প্লেনে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।”
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্রামীণ উন্নয়ন, নারীদের ভাগ্য পরিবর্তন এবং মানুষের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে। তিনি বলেন, ঢাকায় কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও মেগা প্রকল্পের আড়ালে মেগা দুর্নীতি হয়েছে।
কৃষকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “কৃষকদের ভালো রাখলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে।” শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে বীজ ও সার সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছানো হবে। কৃষিপণ্যের পরিবহন খরচ কমাতে রেলব্যবস্থা আরও কার্যকর করা হবে।
নারীদের জন্য তিনি ফ্যামিলি কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে মায়েদের স্বাস্থ্যসেবায় মাসিক সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। গ্রাম-গঞ্জে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথ কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে, যাতে সাধারণ রোগের চিকিৎসা ঘরেই পাওয়া যায়।
শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাইকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে—এমন নয়। খেলাধুলা ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কলকারখানায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। আইটি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং বিদেশি কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে।
এছাড়া বিএনপি সরকার গঠন করলে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্য সম্মানিভিত্তিক বেতন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
সবশেষে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। জনসভায় নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার ধানের শীষ প্রতীকের আটটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
জনসভা শেষে তারেক রহমান বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। রাতে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

আপনার মতামত লিখুন