বাংলাদেশের আলেমসমাজের বর্তমান রাজনীতি এক গভীর সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের একজন অধ্যাপক। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই রাজনীতি এখনো নিজস্ব শক্তি বা সুসংহত সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়াতে পারেনি। বরং এটি প্রায়শই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর তোষামোদ বা লেজুড়বৃত্তির ওপর নির্ভর করে চলছে যা আলেমদের একটি স্বাধীন ও মর্যাদাসম্পন্ন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠার পথে প্রধান বাধা।
বর্তমানে আলেমদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত তাৎক্ষণিক উত্তেজনা এবং খণ্ডিত আবেগের ওপর নির্ভরশীল। রাষ্ট্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চিন্তার অভাব এখানে অত্যন্ত প্রকট। জাতীয় নির্বাচনের সময় কিছু স্লোগান ও সাময়িক তৎপরতা দেখা গেলেও নীতিগত স্পষ্টতা বা গঠনমূলক কর্মসূচির ক্ষেত্রে তারা অনেক পিছিয়ে আছেন। আলেমদের ভেতরে বিদ্যমান নানামুখী বিভাজন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে ফতোয়া বা দোষারোপের সংস্কৃতি তাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে দিচ্ছে না।
ইসলাম কায়েম বা শরিয়া বাস্তবায়নের মহৎ লক্ষ্যগুলোর কথা বারবার উচ্চারিত হলেও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তারা জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেননি। আলেমদের রাজনীতির একটি বড় অংশ এখনো গঠনমূলক রাষ্ট্রচিন্তার চেয়ে সমালোচনামূলক মানসিকতায় বেশি অভ্যস্ত। নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই তাদের নেতৃত্বের নৈতিক উচ্চতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আলেমসমাজকে আবেগ ও স্লোগানসর্বস্ব রাজনীতি ত্যাগ করে সুপরিকল্পিত ও ভবিষ্যৎ-সংুখী চিন্তাধারায় আসতে হবে। কেবল অতীতের গৌরবচর্চা না করে বর্তমানের কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে কাঠামোগত সংস্কারের দৃঢ় সংকল্প প্রয়োজন। যদি তারা নিজেদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠতে না পারে তবে স্বনির্ভর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের আলেমসমাজের বর্তমান রাজনীতি এক গভীর সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের একজন অধ্যাপক। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই রাজনীতি এখনো নিজস্ব শক্তি বা সুসংহত সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়াতে পারেনি। বরং এটি প্রায়শই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর তোষামোদ বা লেজুড়বৃত্তির ওপর নির্ভর করে চলছে যা আলেমদের একটি স্বাধীন ও মর্যাদাসম্পন্ন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠার পথে প্রধান বাধা।
বর্তমানে আলেমদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত তাৎক্ষণিক উত্তেজনা এবং খণ্ডিত আবেগের ওপর নির্ভরশীল। রাষ্ট্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চিন্তার অভাব এখানে অত্যন্ত প্রকট। জাতীয় নির্বাচনের সময় কিছু স্লোগান ও সাময়িক তৎপরতা দেখা গেলেও নীতিগত স্পষ্টতা বা গঠনমূলক কর্মসূচির ক্ষেত্রে তারা অনেক পিছিয়ে আছেন। আলেমদের ভেতরে বিদ্যমান নানামুখী বিভাজন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে ফতোয়া বা দোষারোপের সংস্কৃতি তাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে দিচ্ছে না।
ইসলাম কায়েম বা শরিয়া বাস্তবায়নের মহৎ লক্ষ্যগুলোর কথা বারবার উচ্চারিত হলেও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তারা জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেননি। আলেমদের রাজনীতির একটি বড় অংশ এখনো গঠনমূলক রাষ্ট্রচিন্তার চেয়ে সমালোচনামূলক মানসিকতায় বেশি অভ্যস্ত। নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই তাদের নেতৃত্বের নৈতিক উচ্চতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আলেমসমাজকে আবেগ ও স্লোগানসর্বস্ব রাজনীতি ত্যাগ করে সুপরিকল্পিত ও ভবিষ্যৎ-সংুখী চিন্তাধারায় আসতে হবে। কেবল অতীতের গৌরবচর্চা না করে বর্তমানের কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে কাঠামোগত সংস্কারের দৃঢ় সংকল্প প্রয়োজন। যদি তারা নিজেদের এই সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠতে না পারে তবে স্বনির্ভর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন