ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নারী কর্মীদের ওপর হামলায় জামায়াত আমিরের কঠোর হুঁশিয়ারি

নারীদের সম্মান না করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে


বিশেষ প্রতিনিধি :
বিশেষ প্রতিনিধি :
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

নারীদের সম্মান না করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে

সারা দেশে নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘যারা মায়েদের গায়ে হাত বাড়িয়েছো, তওবা করো, ক্ষমা চাও। তবে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই—আমাদের চেয়ে আমাদের মায়েদের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। মাকে সম্মান করো, নচেৎ ভবিষ্যৎ পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মায়েদের প্রতি কোনো ধরনের অবমাননা বরদাশত করা হবে না।’

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর মনিপুর স্কুল মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের এক বিশাল মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কর্মজীবী মায়েদের কথা বিবেচনায় রেখে পর্যাপ্ত বাস সার্ভিস চালু করা হবে। পাশাপাশি ডে কেয়ার ও বেবি কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে, যাতে মায়েরা সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি সম্মানের সঙ্গে কর্মজীবন পরিচালনা করতে পারেন। এসব উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মায়েদের জন্য পাঁচ কর্মঘণ্টার প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনার জবাবে জামায়াত আমির বলেন, এই প্রস্তাব কোনোভাবেই মায়েদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্য নয়। বরং যারা সন্তান লালন-পালনের চাপে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন, তাদের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মায়ের মর্যাদা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন মানুষ প্রায় ২৮৫ দিন মায়ের গর্ভে অবস্থান করে পৃথিবীতে আসে। সন্তানের জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা পর্যন্ত মায়ের অবদান অপরিসীম। তাই প্রত্যেক পুরুষের দায়িত্ব তার মা ও স্ত্রীর সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।

ইসলামের ইতিহাস থেকে উদাহরণ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কঠিন যুদ্ধকালীন সময়েও নারীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। হযরত নুসাইবা (রা.) ও হযরত হিন্দা (রা.)-এর মতো সাহসী নারীরা ইসলামের পক্ষে আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের উত্তরসূরীদের ভয় দেখিয়ে দমন করা যাবে না। তিনি নারীদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—একটি দেশের স্বাধীনতা ও অন্যটি দেশের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে। সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবতীদের উদ্দেশে বলেন, বেকার ভাতা নয়, বরং যথাযথ শিক্ষা ও ভাষাগত দক্ষতা দিয়ে তাদের আত্মমর্যাদার সঙ্গে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির বিজয় হবে দেশের মানুষের বিজয়। আর সেই বিজয়ের মধ্য দিয়েই ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে নতুন অগ্রযাত্রা শুরু হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নারীদের সম্মান না করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

সারা দেশে নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘যারা মায়েদের গায়ে হাত বাড়িয়েছো, তওবা করো, ক্ষমা চাও। তবে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই—আমাদের চেয়ে আমাদের মায়েদের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। মাকে সম্মান করো, নচেৎ ভবিষ্যৎ পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মায়েদের প্রতি কোনো ধরনের অবমাননা বরদাশত করা হবে না।’


বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর মনিপুর স্কুল মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের এক বিশাল মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কর্মজীবী মায়েদের কথা বিবেচনায় রেখে পর্যাপ্ত বাস সার্ভিস চালু করা হবে। পাশাপাশি ডে কেয়ার ও বেবি কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে, যাতে মায়েরা সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি সম্মানের সঙ্গে কর্মজীবন পরিচালনা করতে পারেন। এসব উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


মায়েদের জন্য পাঁচ কর্মঘণ্টার প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনার জবাবে জামায়াত আমির বলেন, এই প্রস্তাব কোনোভাবেই মায়েদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্য নয়। বরং যারা সন্তান লালন-পালনের চাপে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন, তাদের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


মায়ের মর্যাদা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন মানুষ প্রায় ২৮৫ দিন মায়ের গর্ভে অবস্থান করে পৃথিবীতে আসে। সন্তানের জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা পর্যন্ত মায়ের অবদান অপরিসীম। তাই প্রত্যেক পুরুষের দায়িত্ব তার মা ও স্ত্রীর সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।


ইসলামের ইতিহাস থেকে উদাহরণ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কঠিন যুদ্ধকালীন সময়েও নারীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। হযরত নুসাইবা (রা.) ও হযরত হিন্দা (রা.)-এর মতো সাহসী নারীরা ইসলামের পক্ষে আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের উত্তরসূরীদের ভয় দেখিয়ে দমন করা যাবে না। তিনি নারীদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।


আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—একটি দেশের স্বাধীনতা ও অন্যটি দেশের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে। সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবতীদের উদ্দেশে বলেন, বেকার ভাতা নয়, বরং যথাযথ শিক্ষা ও ভাষাগত দক্ষতা দিয়ে তাদের আত্মমর্যাদার সঙ্গে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির বিজয় হবে দেশের মানুষের বিজয়। আর সেই বিজয়ের মধ্য দিয়েই ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে নতুন অগ্রযাত্রা শুরু হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ