ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মস্কোতে পুতিন ও আল-শারার বৈঠক: গুরুত্ব পাচ্ছে আসাদ প্রত্যর্পণ ও সামরিক ঘাঁটি ইস্যু


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

মস্কোতে পুতিন ও আল-শারার বৈঠক: গুরুত্ব পাচ্ছে আসাদ প্রত্যর্পণ ও সামরিক ঘাঁটি ইস্যু


সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদের পতনের পর এটি তাদের মধ্যে দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। এই বৈঠকটি সিরিয়ায় রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং দুই দেশের নতুন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রূপরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

বাশার আল-আসাদের প্রত্যর্পণ ইস্যু ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাশার আল-আসাদ ও তার পরিবার বর্তমানে রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। আল-শারা সরকার বারবার আসাদকে সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারের মুখোমুখি করতে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। রাশিয়া এখন পর্যন্ত মানবিক কারণে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসলেও, আজকের বৈঠকে আল-শারা পুনরায় এই বিষয়ে চাপ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে রাশিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে— হামেইমিম বিমানঘাঁটি এবং তারতুস নৌঘাঁটি। ক্রেমলিন এই ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে আল-শারা সরকারের সঙ্গে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। সিরিয়া থেকে রাশিয়ার প্রভাব হ্রাসের আশঙ্কায় পুতিন এই সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

ট্রাম্প ও নতুন ভূ-রাজনীতি আল-শারা সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন, যা মস্কোর জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ট্রাম্প আল-শারাকে "অত্যন্ত সম্মানিত" নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাশিয়া চাইছে সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃসংজ্ঞায়িত করে এই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান অটুট রাখতে।

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়ার পুনর্গঠনে রাশিয়ার ভূমিকা কী হবে, সেটিও এই আলোচনার একটি বড় অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের ফলাফল নির্ধারণ করবে সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কটি বন্ধুত্বের থাকবে নাকি কেবল কৌশলগত স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মস্কোতে পুতিন ও আল-শারার বৈঠক: গুরুত্ব পাচ্ছে আসাদ প্রত্যর্পণ ও সামরিক ঘাঁটি ইস্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদের পতনের পর এটি তাদের মধ্যে দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। এই বৈঠকটি সিরিয়ায় রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং দুই দেশের নতুন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রূপরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

বাশার আল-আসাদের প্রত্যর্পণ ইস্যু ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাশার আল-আসাদ ও তার পরিবার বর্তমানে রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। আল-শারা সরকার বারবার আসাদকে সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারের মুখোমুখি করতে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। রাশিয়া এখন পর্যন্ত মানবিক কারণে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসলেও, আজকের বৈঠকে আল-শারা পুনরায় এই বিষয়ে চাপ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে রাশিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে— হামেইমিম বিমানঘাঁটি এবং তারতুস নৌঘাঁটি। ক্রেমলিন এই ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে আল-শারা সরকারের সঙ্গে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। সিরিয়া থেকে রাশিয়ার প্রভাব হ্রাসের আশঙ্কায় পুতিন এই সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

ট্রাম্প ও নতুন ভূ-রাজনীতি আল-শারা সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন, যা মস্কোর জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ট্রাম্প আল-শারাকে "অত্যন্ত সম্মানিত" নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাশিয়া চাইছে সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃসংজ্ঞায়িত করে এই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান অটুট রাখতে।

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়ার পুনর্গঠনে রাশিয়ার ভূমিকা কী হবে, সেটিও এই আলোচনার একটি বড় অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের ফলাফল নির্ধারণ করবে সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কটি বন্ধুত্বের থাকবে নাকি কেবল কৌশলগত স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ