একসময় গ্রামগঞ্জের বাজারগুলোতে ধর্মীয় বক্তারা মাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে মানুষকে বলতেন—‘দুনিয়ার বাজার করতে যাচ্ছেন, সঙ্গে আখিরাতের সওদাও নিয়ে যান।’ একই ধরনের ভাষা মসজিদ ও মাদরাসার ফান্ড সংগ্রহের সময়ও শোনা যেত। চারআনা-আটআনা বলে হয়তো গায়ে লাগত না, কিন্তু এখন দেখলে মনে হয়, বেহেশতের টিকিটের বেচাকেনা আরও বড় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, বেহেশতের টিকিট প্রথম বিক্রি করেছিলেন বহলুল নামের একজন পাগল, যিনি খলিফা হারুন অর রশীদের জমানায় বাগদাদে থাকতেন। তিনি হাটে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতেন—‘বেহেশতের টিকিট লাগবে, খুব সস্তা!’ লোকেরা initially হাসি পেত। কিন্তু বহলুল পাগল ধমলেন না। তিনি কাগজে লিখে দিতেন, ‘বেহেশতের টিকিটের মালিক আল্লাহর পথে দান করেছে—সে আল্লাহর রহমতের আশা করতে পারে।’ খলিফার বেগম এই টিকিট কিনে আনেন। পরে খলিফা জানতে পারলেন এবং অবাক হয়ে বের হন, কারণ টিকিটটা টাকা দিয়ে কেনা যায় না, বরং বিশ্বাসের মূল্যেই পাওয়া যায়।
লেখক এই প্রতীকী গল্পকে বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তিনি দেখাচ্ছেন, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামপন্থি দলগুলো ধর্ম বা আখিরাতের প্রলোভন ব্যবহার করে সমর্থক আকর্ষণ করছে। পশ্চিমা দেশ ও ভারতের ধর্মনির্ভর দলগুলোও রাজনীতিকে ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিচালনা করে। রাজনীতিতে ‘God, Family, Nation’ বা ‘রামরাজ্য’ এর মতো স্লোগান দিয়ে জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রভাবিত করা হয়।
লেখক বিএনপির উদাহরণ তুলে ধরেছেন। বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রচেষ্টা, ভোটারদের কাছে ‘বেহেশতের টিকিট’ হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভোটারদের অনেকাংশের মন ইহজাগতিক বা বাস্তব অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ধর্ম বা আখিরাতের ভিত্তিতে রাজনীতি করা সবসময় কার্যকর হচ্ছে না। লেখক বলেন, বিএনপির উচিত ধর্মীয় তাত্ত্বিক জটিলতায় না গিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ ও ইহজাগতিক নীতি গ্রহণ করা।
লেখক অর্থনীতির উদাহরণ দিয়ে দেখান, সরকারের আর্থিক প্রণোদনা এবং বাজারে নতুন ভোক্তার প্রবেশ অর্থনৈতিক চক্র চালাতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ২৫ লাখ পরিবারকে মাসে ২০ হাজার টাকার প্রণোদনা দিলে এক কোটি নতুন ভোক্তা তৈরি হবে। ফলে বাজারে ডিম, পোশাক, জুতা, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চাহিদা বাড়বে এবং কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ সমস্যার মূলত অর্থের অভাব নয়, বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব।
লেখক আরও বলেন, দুর্নীতি দমন ও শক্তিশালী রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন একটি স্বাধীন ও ক্ষমতাশালী ন্যায়পাল। যদি ন্যায়পাল রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে উচ্চপদস্থদের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে ব্যবস্থা নিতে পারেন, তবেই দুর্নীতি দমন সম্ভব। তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি—‘দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন’—শুধু কথার জোরে নয়, কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য।
সবমিলিয়ে, লেখকের মূল বার্তা হলো—রাজনীতি এখন শুধু ধর্মীয় প্রলোভন বা আখিরাতের ভয়ে পরিচালিত হচ্ছে না। জনগণ ইহজাগতিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সুবিধা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর ভোট দিচ্ছে। ধর্ম বা আখিরাতের প্রতিশ্রুতি কার্যকরভাবে প্রভাব ফেলতে পারে না। তাই BNP-সহ অন্য দলগুলোর উচিত বাস্তব পদক্ষেপ ও স্বচ্ছ নীতি গ্রহণ করে জনগণের আস্থা অর্জন করা।
এই প্রতিবেদনে ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতার মধ্যে সম্পর্ককে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে, কিভাবে বেহেশতের টিকিটের প্রতীক রাজনীতিতে ব্যবহার হচ্ছে এবং জনগণের মনোভাব নির্ধারণ করছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
একসময় গ্রামগঞ্জের বাজারগুলোতে ধর্মীয় বক্তারা মাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে মানুষকে বলতেন—‘দুনিয়ার বাজার করতে যাচ্ছেন, সঙ্গে আখিরাতের সওদাও নিয়ে যান।’ একই ধরনের ভাষা মসজিদ ও মাদরাসার ফান্ড সংগ্রহের সময়ও শোনা যেত। চারআনা-আটআনা বলে হয়তো গায়ে লাগত না, কিন্তু এখন দেখলে মনে হয়, বেহেশতের টিকিটের বেচাকেনা আরও বড় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, বেহেশতের টিকিট প্রথম বিক্রি করেছিলেন বহলুল নামের একজন পাগল, যিনি খলিফা হারুন অর রশীদের জমানায় বাগদাদে থাকতেন। তিনি হাটে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতেন—‘বেহেশতের টিকিট লাগবে, খুব সস্তা!’ লোকেরা initially হাসি পেত। কিন্তু বহলুল পাগল ধমলেন না। তিনি কাগজে লিখে দিতেন, ‘বেহেশতের টিকিটের মালিক আল্লাহর পথে দান করেছে—সে আল্লাহর রহমতের আশা করতে পারে।’ খলিফার বেগম এই টিকিট কিনে আনেন। পরে খলিফা জানতে পারলেন এবং অবাক হয়ে বের হন, কারণ টিকিটটা টাকা দিয়ে কেনা যায় না, বরং বিশ্বাসের মূল্যেই পাওয়া যায়।
লেখক এই প্রতীকী গল্পকে বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তিনি দেখাচ্ছেন, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামপন্থি দলগুলো ধর্ম বা আখিরাতের প্রলোভন ব্যবহার করে সমর্থক আকর্ষণ করছে। পশ্চিমা দেশ ও ভারতের ধর্মনির্ভর দলগুলোও রাজনীতিকে ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিচালনা করে। রাজনীতিতে ‘God, Family, Nation’ বা ‘রামরাজ্য’ এর মতো স্লোগান দিয়ে জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রভাবিত করা হয়।
লেখক বিএনপির উদাহরণ তুলে ধরেছেন। বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রচেষ্টা, ভোটারদের কাছে ‘বেহেশতের টিকিট’ হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভোটারদের অনেকাংশের মন ইহজাগতিক বা বাস্তব অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ধর্ম বা আখিরাতের ভিত্তিতে রাজনীতি করা সবসময় কার্যকর হচ্ছে না। লেখক বলেন, বিএনপির উচিত ধর্মীয় তাত্ত্বিক জটিলতায় না গিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ ও ইহজাগতিক নীতি গ্রহণ করা।
লেখক অর্থনীতির উদাহরণ দিয়ে দেখান, সরকারের আর্থিক প্রণোদনা এবং বাজারে নতুন ভোক্তার প্রবেশ অর্থনৈতিক চক্র চালাতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ২৫ লাখ পরিবারকে মাসে ২০ হাজার টাকার প্রণোদনা দিলে এক কোটি নতুন ভোক্তা তৈরি হবে। ফলে বাজারে ডিম, পোশাক, জুতা, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চাহিদা বাড়বে এবং কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ সমস্যার মূলত অর্থের অভাব নয়, বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব।
লেখক আরও বলেন, দুর্নীতি দমন ও শক্তিশালী রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন একটি স্বাধীন ও ক্ষমতাশালী ন্যায়পাল। যদি ন্যায়পাল রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে উচ্চপদস্থদের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে ব্যবস্থা নিতে পারেন, তবেই দুর্নীতি দমন সম্ভব। তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি—‘দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন’—শুধু কথার জোরে নয়, কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য।
সবমিলিয়ে, লেখকের মূল বার্তা হলো—রাজনীতি এখন শুধু ধর্মীয় প্রলোভন বা আখিরাতের ভয়ে পরিচালিত হচ্ছে না। জনগণ ইহজাগতিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সুবিধা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর ভোট দিচ্ছে। ধর্ম বা আখিরাতের প্রতিশ্রুতি কার্যকরভাবে প্রভাব ফেলতে পারে না। তাই BNP-সহ অন্য দলগুলোর উচিত বাস্তব পদক্ষেপ ও স্বচ্ছ নীতি গ্রহণ করে জনগণের আস্থা অর্জন করা।
এই প্রতিবেদনে ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতার মধ্যে সম্পর্ককে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে, কিভাবে বেহেশতের টিকিটের প্রতীক রাজনীতিতে ব্যবহার হচ্ছে এবং জনগণের মনোভাব নির্ধারণ করছে।

আপনার মতামত লিখুন