ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সিরিয়া–জর্ডানের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ চুক্তি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সিরিয়া–জর্ডানের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ চুক্তি


মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানি ও জর্ডানের ন্যাশনাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির মধ্যে এই গ্যাস সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, জর্ডান প্রতিদিন সিরিয়াকে প্রায় ১৪ কোটি ঘনফুট (১৪০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট) বা আনুমানিক ৪০ লাখ ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করবে। এর উদ্দেশ্য হলো সিরিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশটির চলমান বিদ্যুৎ সংকট হ্রাস করা।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-ইখবারিয়াহ টিভি জানিয়েছে, সারা দেশে বিদ্যুৎ সেবার মান উন্নত করতে জর্ডানের কাছ থেকে এই গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বাশির এবং জর্ডানের জ্বালানিমন্ত্রী সালেহ খারাবশেহ।

জর্ডানের জ্বালানিমন্ত্রী সালেহ খারাবশেহ বলেন, এই গ্যাস সরবরাহ সিরিয়ার বিদ্যুৎ গ্রিডকে স্থিতিশীল রাখতে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে জর্ডান ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সিরিয়ায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দৈনিক ৩ কোটি থেকে ৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রকল্পটি জর্ডানের বিদ্যমান জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে আকাবা বন্দরের একটি ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ), যা বৈশ্বিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) গ্রহণ করে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে আরব গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে সিরিয়ায় পাঠাবে।

তবে সিরিয়ার অবকাঠামো এখনও সরাসরি এ ধরনের গ্যাস আমদানি গ্রহণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খারাবশেহ আরও বলেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে জর্ডানের ভূমিকা, সিরিয়াকে সহায়তা এবং আরব অর্থনৈতিক সংহতি জোরদারে দেশটির অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এটি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেও বাস্তবায়িত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষদিকে বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর সিরিয়ার নতুন প্রশাসন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সামাজিক সংহতি জোরদার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সিরিয়া–জর্ডানের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ চুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানি ও জর্ডানের ন্যাশনাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির মধ্যে এই গ্যাস সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, জর্ডান প্রতিদিন সিরিয়াকে প্রায় ১৪ কোটি ঘনফুট (১৪০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট) বা আনুমানিক ৪০ লাখ ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করবে। এর উদ্দেশ্য হলো সিরিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশটির চলমান বিদ্যুৎ সংকট হ্রাস করা।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-ইখবারিয়াহ টিভি জানিয়েছে, সারা দেশে বিদ্যুৎ সেবার মান উন্নত করতে জর্ডানের কাছ থেকে এই গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বাশির এবং জর্ডানের জ্বালানিমন্ত্রী সালেহ খারাবশেহ।

জর্ডানের জ্বালানিমন্ত্রী সালেহ খারাবশেহ বলেন, এই গ্যাস সরবরাহ সিরিয়ার বিদ্যুৎ গ্রিডকে স্থিতিশীল রাখতে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে জর্ডান ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সিরিয়ায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দৈনিক ৩ কোটি থেকে ৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রকল্পটি জর্ডানের বিদ্যমান জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে আকাবা বন্দরের একটি ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ), যা বৈশ্বিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) গ্রহণ করে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে আরব গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে সিরিয়ায় পাঠাবে।

তবে সিরিয়ার অবকাঠামো এখনও সরাসরি এ ধরনের গ্যাস আমদানি গ্রহণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খারাবশেহ আরও বলেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে জর্ডানের ভূমিকা, সিরিয়াকে সহায়তা এবং আরব অর্থনৈতিক সংহতি জোরদারে দেশটির অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এটি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেও বাস্তবায়িত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষদিকে বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর সিরিয়ার নতুন প্রশাসন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সামাজিক সংহতি জোরদার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ