ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

এইচআরএএনএ'এর তথ্য, দাবী এএফপির

ইরান বিক্ষোভে নিহত অন্তত ৬ হাজার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

ইরান বিক্ষোভে নিহত অন্তত ৬ হাজার

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা। সোমবার হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে এএফপি। এদিকে তেহরান ওয়াশিংটনকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে সারাদেশে বিক্ষোভ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ রেখে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়ে নজিরবিহীন দমন অভিযান চালিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভের সময় শুরু হওয়া ইন্টারনেট শাটডাউন এখন পর্যন্ত চলছে। টানা ১৮ দিন ধরে দেশটির ইন্টারনেটবিহীন অবস্থাকে অনেকে নজিরবিহীন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ দমনের পরও টিকে আছে। দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরোধিতাকারীরা এখনও বাইরের হস্তক্ষেপকে পরিবর্তনের সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে জোর দিয়ে বলেছেন, এটি এখনো একটি বিকল্প। তিনি সম্প্রতি ওই অঞ্চলে বিশাল নৌবহর পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানান।

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে তারা পুরোপুরি ও দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় হতাহতের পরিসংখ্যান সংগ্রহের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, নিশ্চিত তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকৃত হতাহতের তুলনায় কম হতে পারে।

এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে; যার মধ্যে ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া আরও ১৭ হাজার ৯১ জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলমান আছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অন্তত ৪১ হাজার ২৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে প্রথম সরকারি হিসাব প্রকাশ করে বলেছিল, ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই নিরাপত্তা বাহিনী অথবা ‌‌দাঙ্গাবাজদের হাতে নিহত নিরীহ পথচারী।

নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানে এখনও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট রয়েছে। এই শাটডাউন বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে চালানো প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে।

গত সপ্তাহে ইরানের বাইরে অবস্থিত ফার্সি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছিল, ৮–৯ জানুয়ারির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৬ হাজার ৫০০-এর বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিবেদন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরান বিক্ষোভে নিহত অন্তত ৬ হাজার

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা। সোমবার হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে এএফপি। এদিকে তেহরান ওয়াশিংটনকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।


গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে সারাদেশে বিক্ষোভ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে।


আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ রেখে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়ে নজিরবিহীন দমন অভিযান চালিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভের সময় শুরু হওয়া ইন্টারনেট শাটডাউন এখন পর্যন্ত চলছে। টানা ১৮ দিন ধরে দেশটির ইন্টারনেটবিহীন অবস্থাকে অনেকে নজিরবিহীন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ দমনের পরও টিকে আছে। দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরোধিতাকারীরা এখনও বাইরের হস্তক্ষেপকে পরিবর্তনের সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে জোর দিয়ে বলেছেন, এটি এখনো একটি বিকল্প। তিনি সম্প্রতি ওই অঞ্চলে বিশাল নৌবহর পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানান।


সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে তারা পুরোপুরি ও দাঁতভাঙা জবাব দেবে।


বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় হতাহতের পরিসংখ্যান সংগ্রহের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, নিশ্চিত তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকৃত হতাহতের তুলনায় কম হতে পারে।


এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে; যার মধ্যে ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া আরও ১৭ হাজার ৯১ জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলমান আছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অন্তত ৪১ হাজার ২৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে প্রথম সরকারি হিসাব প্রকাশ করে বলেছিল, ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই নিরাপত্তা বাহিনী অথবা ‌‌দাঙ্গাবাজদের হাতে নিহত নিরীহ পথচারী।


নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানে এখনও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট রয়েছে। এই শাটডাউন বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে চালানো প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে।


গত সপ্তাহে ইরানের বাইরে অবস্থিত ফার্সি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছিল, ৮–৯ জানুয়ারির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৬ হাজার ৫০০-এর বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিবেদন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ