বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) জমজমাট আসর শেষ হলেও দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে এখন বইছে অস্থিরতার হাওয়া। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে গভীর দুশ্চিন্তা ও শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। দেশের ক্রিকেটের এমন টালমাটাল পরিস্থিতি এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ফাইনাল শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানান শান্ত। তিনি সরাসরি স্বীকার করেন যে, বিশ্বকাপ খেলতে না পারার আশঙ্কা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শান্ত বলেন, “ভবিষ্যৎ কী হবে, তা আমাদের কারোরই জানা নেই। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এই অনিশ্চয়তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
মাঠের বাইরের প্রশাসনিক অস্থিরতা ও নানা প্রতিকূল পরিবেশ গত দেড় বছর ধরে ক্রিকেটের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে বলে মনে করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “সবাই যেন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করে ক্রিকেটকে সচল রাখেন। আমাদের নিয়মিত এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলাটা এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।”
যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলা সম্ভব না হয়, তবে ক্রিকেটারদের ফর্ম ও ছন্দ ধরে রাখতে বিকল্প পরিকল্পনার তাগিদ দিয়েছেন অধিনায়ক। বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরগুলো আরও গোছানো এবং আকর্ষণীয়ভাবে আয়োজনের দাবি জানান তিনি। শান্তর মতে, দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে বসে থাকা একজন খেলোয়াড়ের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তাই বোর্ড যেন কোনো বিকল্প টুর্নামেন্টের আয়োজন করে ক্রিকেটারদের ব্যস্ত রাখে।
সম্প্রতি বিশ্বকাপ ইস্যুতে ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে ক্রিকেটারদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা কাটেনি শান্তর। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এরপর আবার কবে মাঠে নামব, তা এই মুহূর্তে জানি না। এমন পরিস্থিতির মুখে আগে কখনো পড়িনি।”
এদিকে পেসার শরীফুল ইসলাম পুরো বিষয়টি বিসিবির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, বিসিবি তাদের অভিভাবক হিসেবে যে সিদ্ধান্ত নেবে, খেলোয়াড়রা তা-ই মেনে নেবেন।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ঝুলে থাকা এই সিদ্ধান্ত কেবল ক্রিকেটারদের নয়, দেশের কোটি ক্রিকেট ভক্তকেও ভাবিয়ে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, নীতিনির্ধারকরা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) জমজমাট আসর শেষ হলেও দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে এখন বইছে অস্থিরতার হাওয়া। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে গভীর দুশ্চিন্তা ও শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। দেশের ক্রিকেটের এমন টালমাটাল পরিস্থিতি এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ফাইনাল শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানান শান্ত। তিনি সরাসরি স্বীকার করেন যে, বিশ্বকাপ খেলতে না পারার আশঙ্কা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শান্ত বলেন, “ভবিষ্যৎ কী হবে, তা আমাদের কারোরই জানা নেই। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এই অনিশ্চয়তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
মাঠের বাইরের প্রশাসনিক অস্থিরতা ও নানা প্রতিকূল পরিবেশ গত দেড় বছর ধরে ক্রিকেটের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে বলে মনে করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “সবাই যেন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করে ক্রিকেটকে সচল রাখেন। আমাদের নিয়মিত এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলাটা এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।”
যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলা সম্ভব না হয়, তবে ক্রিকেটারদের ফর্ম ও ছন্দ ধরে রাখতে বিকল্প পরিকল্পনার তাগিদ দিয়েছেন অধিনায়ক। বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরগুলো আরও গোছানো এবং আকর্ষণীয়ভাবে আয়োজনের দাবি জানান তিনি। শান্তর মতে, দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে বসে থাকা একজন খেলোয়াড়ের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তাই বোর্ড যেন কোনো বিকল্প টুর্নামেন্টের আয়োজন করে ক্রিকেটারদের ব্যস্ত রাখে।
সম্প্রতি বিশ্বকাপ ইস্যুতে ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে ক্রিকেটারদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা কাটেনি শান্তর। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এরপর আবার কবে মাঠে নামব, তা এই মুহূর্তে জানি না। এমন পরিস্থিতির মুখে আগে কখনো পড়িনি।”
এদিকে পেসার শরীফুল ইসলাম পুরো বিষয়টি বিসিবির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, বিসিবি তাদের অভিভাবক হিসেবে যে সিদ্ধান্ত নেবে, খেলোয়াড়রা তা-ই মেনে নেবেন।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ঝুলে থাকা এই সিদ্ধান্ত কেবল ক্রিকেটারদের নয়, দেশের কোটি ক্রিকেট ভক্তকেও ভাবিয়ে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, নীতিনির্ধারকরা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

আপনার মতামত লিখুন