মহাকাশ স্টেশনের শূন্য মাধ্যাকর্ষণে কাটানো দীর্ঘ দিনগুলোর নিঃসঙ্গতা, প্রিয়জনদের জন্য চোখের জল ফেলা এবং অন্তরীক্ষ থেকে ভারতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখার এক বিরল ও আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন নাসার প্রখ্যাত নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সম্প্রতি উপস্থাপক রাজ শামানির একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে সুনীতা তাঁর মহাকাশ জীবনের অজানা দিকগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। ২৭ বছরের দীর্ঘ পেশাদার জীবন থেকে অবসর নেওয়া এই মহাকাশচারী জানান, মহাকাশে জীবন মানেই কেবল রোমাঞ্চ নয়, বরং এটি বিভিন্ন মানবিক আবেগের এক জটিল মিশ্রণ।
অশ্রু যখন ভাসমান বল সুনীতা উইলিয়ামস জানান, মহাকাশে থাকাকালীন তিনি অনেকবার কেঁদেছেন। বিশেষ করে মানুষ এবং তাঁর প্রিয় পোষা কুকুরটির কথা ভেবে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেন। শূন্য মাধ্যাকর্ষণে কান্না করার বিচিত্র অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, পৃথিবীতে চোখের পানি গড়িয়ে পড়লেও মহাকাশে তা ঘটে না। সেখানে চোখের জল ছোট ছোট বলের মতো হয়ে মুখের চারপাশে ভেসে বেড়ায়। ঠিক একইভাবে ঘামও ভাসতে থাকে। টিস্যু দিয়ে খুব সতর্কভাবে এই পানি মুছে ফেলতে হয়, নয়তো চোখের পানি চারদিকে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে মনে হয় ‘অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ’।
আট মাসের দীর্ঘ প্রবাস ২০২৪ সালের জুনে বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানে চড়ে মাত্র ১০ দিনের এক মিশনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) গিয়েছিলেন সুনীতা। তবে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সেই সফর দীর্ঘায়িত হয় এবং প্রায় ২৮৬ দিন পর ২০২৫ সালের মার্চে তিনি পৃথিবীতে ফিরে আসেন। এই দীর্ঘ সময়ে পৃথিবীতে থাকা এক বন্ধুর অসুস্থ মায়ের জন্য উদ্বেগ এবং কাউকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোও তিনি মোকাবিলা করেছেন।
মহাকাশ থেকে ভারতের রূপ মহাকাশ থেকে নিজ জন্মভূমি ভারতকে দেখার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে সুনীতা বলেন, রাতের বেলা শহরগুলোর সাদা আলো যখন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন পুরো দেশটাকে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের জালের মতো মনে হয়। দিনের আলোয় হিমালয়ের বিশালতা এবং ভারতের পূর্ব উপকূলের নদ-নদীর মোহনায় পানির ঘূর্ণি দেখে তিনি মুগ্ধ হতেন। তাঁর মতে, ওপর থেকে দেখলে বোঝা যায় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে কীভাবে এই ভূখণ্ড ও পাহাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
জীবনযাপনের চ্যালেঞ্জ মহাকাশে দৈনন্দিন জীবনের কঠিন দিকগুলো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সুনীতা বাথরুম ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি জানান, শূন্য মাধ্যাকর্ষণে কোনো কিছুই নিচে পড়ে না—এই ভয়টি আগে জয় করতে হয়। সেখানকার প্রতিকূল পরিবেশে শরীরের নির্দিষ্ট পেশিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং অভ্যস্ত হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়।
সুনীতা উইলিয়ামসের এই স্বীকারোক্তি মহাকাশ গবেষণার যান্ত্রিকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা গভীর মানবিক আবেগ ও একাকীত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
মহাকাশ স্টেশনের শূন্য মাধ্যাকর্ষণে কাটানো দীর্ঘ দিনগুলোর নিঃসঙ্গতা, প্রিয়জনদের জন্য চোখের জল ফেলা এবং অন্তরীক্ষ থেকে ভারতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখার এক বিরল ও আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন নাসার প্রখ্যাত নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সম্প্রতি উপস্থাপক রাজ শামানির একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে সুনীতা তাঁর মহাকাশ জীবনের অজানা দিকগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। ২৭ বছরের দীর্ঘ পেশাদার জীবন থেকে অবসর নেওয়া এই মহাকাশচারী জানান, মহাকাশে জীবন মানেই কেবল রোমাঞ্চ নয়, বরং এটি বিভিন্ন মানবিক আবেগের এক জটিল মিশ্রণ।
অশ্রু যখন ভাসমান বল সুনীতা উইলিয়ামস জানান, মহাকাশে থাকাকালীন তিনি অনেকবার কেঁদেছেন। বিশেষ করে মানুষ এবং তাঁর প্রিয় পোষা কুকুরটির কথা ভেবে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেন। শূন্য মাধ্যাকর্ষণে কান্না করার বিচিত্র অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, পৃথিবীতে চোখের পানি গড়িয়ে পড়লেও মহাকাশে তা ঘটে না। সেখানে চোখের জল ছোট ছোট বলের মতো হয়ে মুখের চারপাশে ভেসে বেড়ায়। ঠিক একইভাবে ঘামও ভাসতে থাকে। টিস্যু দিয়ে খুব সতর্কভাবে এই পানি মুছে ফেলতে হয়, নয়তো চোখের পানি চারদিকে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে মনে হয় ‘অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ’।
আট মাসের দীর্ঘ প্রবাস ২০২৪ সালের জুনে বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানে চড়ে মাত্র ১০ দিনের এক মিশনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) গিয়েছিলেন সুনীতা। তবে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সেই সফর দীর্ঘায়িত হয় এবং প্রায় ২৮৬ দিন পর ২০২৫ সালের মার্চে তিনি পৃথিবীতে ফিরে আসেন। এই দীর্ঘ সময়ে পৃথিবীতে থাকা এক বন্ধুর অসুস্থ মায়ের জন্য উদ্বেগ এবং কাউকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোও তিনি মোকাবিলা করেছেন।
মহাকাশ থেকে ভারতের রূপ মহাকাশ থেকে নিজ জন্মভূমি ভারতকে দেখার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে সুনীতা বলেন, রাতের বেলা শহরগুলোর সাদা আলো যখন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন পুরো দেশটাকে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের জালের মতো মনে হয়। দিনের আলোয় হিমালয়ের বিশালতা এবং ভারতের পূর্ব উপকূলের নদ-নদীর মোহনায় পানির ঘূর্ণি দেখে তিনি মুগ্ধ হতেন। তাঁর মতে, ওপর থেকে দেখলে বোঝা যায় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে কীভাবে এই ভূখণ্ড ও পাহাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
জীবনযাপনের চ্যালেঞ্জ মহাকাশে দৈনন্দিন জীবনের কঠিন দিকগুলো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সুনীতা বাথরুম ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি জানান, শূন্য মাধ্যাকর্ষণে কোনো কিছুই নিচে পড়ে না—এই ভয়টি আগে জয় করতে হয়। সেখানকার প্রতিকূল পরিবেশে শরীরের নির্দিষ্ট পেশিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং অভ্যস্ত হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়।
সুনীতা উইলিয়ামসের এই স্বীকারোক্তি মহাকাশ গবেষণার যান্ত্রিকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা গভীর মানবিক আবেগ ও একাকীত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

আপনার মতামত লিখুন