মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও ডেনমার্কের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিষয়টিকে পশ্চিমা বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাশিয়ার কোনো মাথাব্যথা নেই এবং এর অংশীদাররাই যেন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে নেয়।
গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক টেলিভিশন বৈঠকে পুতিন এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছে, তাতে মস্কোর কোনো স্বার্থ বা ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা নেই। পুতিন বলেন, "গ্রিনল্যান্ডের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, সেটি আমাদের উদ্বেগের কারণ নয়। আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক নিজেরা মিলেই এর সমাধান করতে সক্ষম।"
মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে এই বিতর্ক থেকে দূরে রাখলেও পুতিন ডেনমার্কের অতীত আচরণের সমালোচনা করতে ছাড়েননি। তিনি মন্তব্য করেন যে, ঐতিহাসিকভাবে ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে একটি উপনিবেশ হিসেবে গণ্য করেছে এবং সেখানকার জনগণের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে পুতিন মনে করিয়ে দেন যে, ১৯১৭ সালে ডেনমার্ক তাদের ভার্জিন আইল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করেছিল। এমনকি ১৮৬৭ সালে খোদ রাশিয়াও ৭.২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে আলাস্কাকে আমেরিকার কাছে হস্তান্তর করেছিল। তার বক্তব্যে এক ধরণের সূক্ষ্ম ইঙ্গিত ছিল যে, অতীতে এমন ভূখণ্ডগত লেনদেন সম্ভব হলে বর্তমানে তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ কোথায়।
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলো তাকে সমর্থন না দিলেও তিনি আপাতত তাদের ওপর কোনো পাল্টা শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপ করছেন না। এর ফলে আটলান্টিকের দুই পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য বড় ধরণের বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা সাময়িকভাবে প্রশমিত হয়েছে।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলের এই বিশাল দ্বীপটি ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অংশ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ট্রাম্প এটি কেনার আগ্রহ দেখালে ডেনমার্ক সরকার তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন সরাসরি কোনো পক্ষে যোগ না দিলেও এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ন্যাটো জোটের ভেতরে যে ফাটল তৈরি হয়েছে, তা ভূ-রাজনৈতিকভাবে মস্কোকে এক ধরণের সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও ডেনমার্কের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিষয়টিকে পশ্চিমা বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাশিয়ার কোনো মাথাব্যথা নেই এবং এর অংশীদাররাই যেন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে নেয়।
গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক টেলিভিশন বৈঠকে পুতিন এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছে, তাতে মস্কোর কোনো স্বার্থ বা ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা নেই। পুতিন বলেন, "গ্রিনল্যান্ডের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, সেটি আমাদের উদ্বেগের কারণ নয়। আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক নিজেরা মিলেই এর সমাধান করতে সক্ষম।"
মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে এই বিতর্ক থেকে দূরে রাখলেও পুতিন ডেনমার্কের অতীত আচরণের সমালোচনা করতে ছাড়েননি। তিনি মন্তব্য করেন যে, ঐতিহাসিকভাবে ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে একটি উপনিবেশ হিসেবে গণ্য করেছে এবং সেখানকার জনগণের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে পুতিন মনে করিয়ে দেন যে, ১৯১৭ সালে ডেনমার্ক তাদের ভার্জিন আইল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করেছিল। এমনকি ১৮৬৭ সালে খোদ রাশিয়াও ৭.২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে আলাস্কাকে আমেরিকার কাছে হস্তান্তর করেছিল। তার বক্তব্যে এক ধরণের সূক্ষ্ম ইঙ্গিত ছিল যে, অতীতে এমন ভূখণ্ডগত লেনদেন সম্ভব হলে বর্তমানে তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ কোথায়।
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলো তাকে সমর্থন না দিলেও তিনি আপাতত তাদের ওপর কোনো পাল্টা শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপ করছেন না। এর ফলে আটলান্টিকের দুই পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য বড় ধরণের বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা সাময়িকভাবে প্রশমিত হয়েছে।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলের এই বিশাল দ্বীপটি ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অংশ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ট্রাম্প এটি কেনার আগ্রহ দেখালে ডেনমার্ক সরকার তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন সরাসরি কোনো পক্ষে যোগ না দিলেও এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ন্যাটো জোটের ভেতরে যে ফাটল তৈরি হয়েছে, তা ভূ-রাজনৈতিকভাবে মস্কোকে এক ধরণের সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে।

আপনার মতামত লিখুন