ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নুরের বিরুদ্ধে তৃণমূল বিএনপি ও আ. লীগের অনড় অবস্থান


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

নুরের বিরুদ্ধে তৃণমূল বিএনপি ও আ. লীগের অনড় অবস্থান

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) নির্বাচনী এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ না করায় স্থানীয় বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষেই অনড় অবস্থানে রয়েছে তৃণমূল বিএনপি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নুরের সমর্থনে কাজ না করায় পটুয়াখালী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়ার পর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। 

তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কমিটি বিলুপ্ত হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষেই তারা তাদের শক্ত অবস্থান বজায় রাখবেন। এদিকে নুরের জন্য নতুন দুঃসংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভূমিকা। নূরকে ঠেকাতে নির্বাচনের প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হাসান মামুনের পক্ষে মাঠে নেমেছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে কেন্দ্র থেকে পটুয়াখালী-৩ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। তবে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন। তৃণমূলের সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীদের কাছে হাসান মামুন অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায় কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ স্থানীয় বিএনপি। 

গত ২৮ ডিসেম্বর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে ২৯ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন হাসান মামুন। নুরের সমর্থনে কোনো নেতাকর্মীকে মাঠে না পাওয়ায় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনসহ শীর্ষ নেতারা গলাচিপা ও দশমিনায় সফর করে জরুরি বৈঠক করেন। ওই সভা চলাকালেও কার্যালয়ের বাইরে হাজার হাজার কর্মী হাসান মামুনের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মানার তাগিদ দেওয়া হলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন, যার প্রেক্ষিতে গত শনিবার গলাচিপা-দশমিনা উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

কমিটি বিলুপ্তির পর গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সত্তার হাওলাদারসহ অন্যান্য নেতারা জানান, এখন তারা কোনো দলীয় বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মুক্ত বিহঙ্গের মতো হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করতে পারবেন। 

এর আগে এক জনসভায় নুর নিজেও আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে, স্থানীয় বিএনপিকে তিনি পাশে পাচ্ছেন না এবং বিষয়টি তিনি তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছেন। এদিকে ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও এখন এলাকায় ফিরে হাসান মামুনের পক্ষে বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনা করছেন। 

আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, নুর শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা এবং দলটিকে নিষিদ্ধ করার অন্যতম কারিগর। তাই কোনো অবস্থাতেই তাকে এই আসন থেকে জয়ী হতে দেওয়া হবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে তাদের কোনো দ্বিধাবোধ নেই বলেও তারা জানান।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নুরের বিরুদ্ধে তৃণমূল বিএনপি ও আ. লীগের অনড় অবস্থান

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) নির্বাচনী এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ না করায় স্থানীয় বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষেই অনড় অবস্থানে রয়েছে তৃণমূল বিএনপি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নুরের সমর্থনে কাজ না করায় পটুয়াখালী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়ার পর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। 


তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কমিটি বিলুপ্ত হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষেই তারা তাদের শক্ত অবস্থান বজায় রাখবেন। এদিকে নুরের জন্য নতুন দুঃসংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভূমিকা। নূরকে ঠেকাতে নির্বাচনের প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হাসান মামুনের পক্ষে মাঠে নেমেছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে কেন্দ্র থেকে পটুয়াখালী-৩ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। তবে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন। তৃণমূলের সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীদের কাছে হাসান মামুন অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায় কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ স্থানীয় বিএনপি। 


গত ২৮ ডিসেম্বর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে ২৯ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন হাসান মামুন। নুরের সমর্থনে কোনো নেতাকর্মীকে মাঠে না পাওয়ায় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনসহ শীর্ষ নেতারা গলাচিপা ও দশমিনায় সফর করে জরুরি বৈঠক করেন। ওই সভা চলাকালেও কার্যালয়ের বাইরে হাজার হাজার কর্মী হাসান মামুনের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মানার তাগিদ দেওয়া হলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন, যার প্রেক্ষিতে গত শনিবার গলাচিপা-দশমিনা উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।


কমিটি বিলুপ্তির পর গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সত্তার হাওলাদারসহ অন্যান্য নেতারা জানান, এখন তারা কোনো দলীয় বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মুক্ত বিহঙ্গের মতো হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করতে পারবেন। 


এর আগে এক জনসভায় নুর নিজেও আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে, স্থানীয় বিএনপিকে তিনি পাশে পাচ্ছেন না এবং বিষয়টি তিনি তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছেন। এদিকে ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও এখন এলাকায় ফিরে হাসান মামুনের পক্ষে বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনা করছেন। 


আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, নুর শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা এবং দলটিকে নিষিদ্ধ করার অন্যতম কারিগর। তাই কোনো অবস্থাতেই তাকে এই আসন থেকে জয়ী হতে দেওয়া হবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে তাদের কোনো দ্বিধাবোধ নেই বলেও তারা জানান।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ