ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সমুদ্রগর্ভে বিলীন হচ্ছে ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকত


মোঃ ফয়সাল সিকদার
মোঃ ফয়সাল সিকদার
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সমুদ্রগর্ভে বিলীন হচ্ছে  ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকত
তিসি পয়েন্ট থেকে সংগৃহীত

বরগুনার তালতলী উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকত। এ সৈকতের প্রধান আকর্ষণ ঝাউবন। তবে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ঝাউবনসহ পুরো সৈকতই এখন অস্তিত্ব সংকটে। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সম্ভাবনাময় এই পর্যটন কেন্দ্রটি বিলীন হয়ে যেতে পারে বঙ্গোপসাগরের গর্ভে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামে পায়রা নদীর মোহনায় অবস্থিত ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকত। একদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ টেংরাগিরি বা ফাতরার বন, অন্যদিকে বিশাল বঙ্গোপসাগর ঘিরে রেখেছে এলাকাটি। ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর ২৫০ হেক্টর বনভূমি নিয়ে পর্যটন স্পট হিসেবে যাত্রা শুরু করে সৈকতটি।

২০০৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে বন বিভাগ ৬৫ হেক্টর জমিতে ঝাউগাছের চারা রোপণ করে সৈকতে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলে। এতে একসময় এলাকাটি মনোরম দৃশ্যপটে পরিণত হয়। তবে ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আট বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ২৫০ হেক্টরের মধ্যে প্রায় ১৮০ হেক্টর বনভূমি সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৭০ হেক্টর বনভূমি।

বনভূমি ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে ঝাউবনও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ৬৫ হেক্টর ঝাউবনের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হেক্টর সাগরে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে টিকে আছে মাত্র ৪০ হেক্টর ঝাউগাছ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গোপসাগরের প্রচণ্ড ঢেউ ও ভাঙনের ফলে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে বালু সরে গেছে। এতে ঝাউগাছের শিকড় উন্মুক্ত হয়ে গাছগুলো হেলে পড়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে অসংখ্য গাছের মূল ও উপড়ে যাওয়া ঝাউগাছ। এতে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সৈকতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য।

বন বিভাগের নলবুনিয়া বিট কর্মকর্তা মো. শাওন বলেন, সমসাময়িক সমস্যাগুলো নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অচিরেই এ সমস্যা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে, একটি প্রকল্পের আওতায় ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকতকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। প্রকল্পে বিলম্ব না হলে সরকারের রাজস্ব খাত থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত টেকসই বাঁধ, বনায়ন ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকত।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সমুদ্রগর্ভে বিলীন হচ্ছে ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকত

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বরগুনার তালতলী উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকত। এ সৈকতের প্রধান আকর্ষণ ঝাউবন। তবে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ঝাউবনসহ পুরো সৈকতই এখন অস্তিত্ব সংকটে। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সম্ভাবনাময় এই পর্যটন কেন্দ্রটি বিলীন হয়ে যেতে পারে বঙ্গোপসাগরের গর্ভে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামে পায়রা নদীর মোহনায় অবস্থিত ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকত। একদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ টেংরাগিরি বা ফাতরার বন, অন্যদিকে বিশাল বঙ্গোপসাগর ঘিরে রেখেছে এলাকাটি। ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর ২৫০ হেক্টর বনভূমি নিয়ে পর্যটন স্পট হিসেবে যাত্রা শুরু করে সৈকতটি।

২০০৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে বন বিভাগ ৬৫ হেক্টর জমিতে ঝাউগাছের চারা রোপণ করে সৈকতে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলে। এতে একসময় এলাকাটি মনোরম দৃশ্যপটে পরিণত হয়। তবে ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আট বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ২৫০ হেক্টরের মধ্যে প্রায় ১৮০ হেক্টর বনভূমি সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৭০ হেক্টর বনভূমি।

বনভূমি ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে ঝাউবনও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ৬৫ হেক্টর ঝাউবনের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হেক্টর সাগরে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে টিকে আছে মাত্র ৪০ হেক্টর ঝাউগাছ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গোপসাগরের প্রচণ্ড ঢেউ ও ভাঙনের ফলে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে বালু সরে গেছে। এতে ঝাউগাছের শিকড় উন্মুক্ত হয়ে গাছগুলো হেলে পড়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে অসংখ্য গাছের মূল ও উপড়ে যাওয়া ঝাউগাছ। এতে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সৈকতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য।

বন বিভাগের নলবুনিয়া বিট কর্মকর্তা মো. শাওন বলেন, সমসাময়িক সমস্যাগুলো নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অচিরেই এ সমস্যা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে, একটি প্রকল্পের আওতায় ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকতকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। প্রকল্পে বিলম্ব না হলে সরকারের রাজস্ব খাত থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত টেকসই বাঁধ, বনায়ন ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকত।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ