ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

৪নং কানিহারী ইউনিয়ন: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ গ্রামীণ জীবন


মোঃ মোস্তাকিম মিয়া
মোঃ মোস্তাকিম মিয়া
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

৪নং কানিহারী ইউনিয়ন: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ গ্রামীণ জীবন

ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলায় অবস্থিত ৪নং কানিহারী ইউনিয়ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গ্রামীণ জনজীবনের এক সমৃদ্ধ জনপদ। সমতল ও অসমতল ভূমির সমন্বয়ে গঠিত এই ইউনিয়নটি ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। উত্তরে ৩নং কাঁঠাল ইউনিয়ন, দক্ষিণ-পূর্বে বালিপাড়া ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে রামপুর ইউনিয়ন এর সীমানা নির্ধারণ করেছে।

কানিহারী ইউনিয়নে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও সুবিধাজনক। ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহ সড়ক ধরে মাদানী সিএনজি পাম্পের বিপরীত পাশে মাহিন্দ্রা স্টেশন থেকে কাকচর ও বড়মা হয়ে সরাসরি আহম্মদাবাদ বাজারে পৌঁছানো যায়। ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি এই বাজারের পাশেই অবস্থিত। ব্যক্তিগত গাড়ি, টেম্পো, রিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী সড়ক যোগাযোগ এখানে বিদ্যমান।

৩৩.৯৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই ইউনিয়নে রয়েছে ৯টি ওয়ার্ড, ২৯টি গ্রাম ও ২০টি মৌজা। গ্রামগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বালিদিয়া, স্বরসতি কান্দা, রাঘববাড়ী, তালতলা, সুরিলের কান্দা, বড়মা, এলংজানী, মাদলার গোপ, কানিহারী, চাঁদবাড়ী, জিলকী, তিরখী, বারইগাঁ, সুলতানপুর, মান্দাটিয়া, বহুলী কান্দা, পলাশতলী, গড়পাড়া, বিয়াড়ত্তা, কুষ্টিয়া ১ম খন্ড বাঘাদাড়িয়া, চর বাঘাদাড়িয়া, ডাকেরচক, ডাক বাঘাদাড়িয়া, গোবিন্দপুর, দেওপাড়া, কুষ্টিয়া ২য় খন্ড থাপুন আলা ও বরকান্দা। ইউনিয়নে প্রায় ৭,৭১০টি পরিবার বসবাস করে।

কানিহারী ইউনিয়নের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। এখানকার প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া ৭ শতাংশ কৃষি শ্রমিক, ৫ শতাংশ দিনমজুর, ১২ শতাংশ ব্যবসায়ী এবং ৭ শতাংশ চাকুরিজীবী। বাকি ৭ শতাংশ মানুষ অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত। শিক্ষার হার প্রায় ৪৭ শতাংশ।

খাদ্যশস্য উৎপাদনে এই ইউনিয়ন স্বয়ংসম্পূর্ণ। বার্ষিক চাহিদা ১৯,৬৪০ মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হয় প্রায় ৩০,০০০ মেট্রিক টন, ফলে প্রায় ১০,৩৬০ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত থাকে। প্রধান ফসল হিসেবে আউশ, আমন ও বোরো ধানের চাষ হয়। মোট ২,৬৩২ হেক্টর কৃষিজমির মধ্যে ১৬২ হেক্টর এক ফসলি, ৮১০ হেক্টর দুই ফসলি এবং ১,৬৬০ হেক্টর তিন ফসলি জমি রয়েছে। সেচাধীন জমির পরিমাণও ১,৬৬০ হেক্টর।

এই ইউনিয়নে রয়েছেন ১৫০ জন বর্গাচাষী, ৪,৯৪০ জন প্রান্তিক চাষী, ৩,৫৭০ জন ক্ষুদ্র চাষী, প্রায় ৬৫ জন মাঝারি চাষী এবং ৪৮ জন বড় চাষী। কৃষি ব্যবস্থাপনায় ৩টি কৃষি ব্লক কার্যকর রয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে এখানে ৫টি ইটভাটা, ৫টি রাইস মিল ও ২টি স্থ মিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জলসুবিধার ক্ষেত্রে ইউনিয়নে রয়েছে ৪৩টি গভীর নলকূপ ও ৯১০টি সাধারণ নলকূপ। প্রায় ৮৫ শতাংশ পরিবার স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক দিক।

ধর্মীয় ও সামাজিক সহাবস্থানের ক্ষেত্রেও কানিহারী ইউনিয়ন উল্লেখযোগ্য। এখানে রয়েছে ৬৬টি মসজিদ, ১টি কওমী মাদ্রাসা ও ৮টি মন্দির। পাশাপাশি ২০টি ঈদগাহ মাঠ ও ৩টি মাজার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে রয়েছে ২টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি দাখিল মাদ্রাসা এবং ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্বাস্থ্যসেবার জন্য রয়েছে ১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও ৩টি কমিউনিটি সেন্টার। সামাজিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছে ২৫টি ক্লাব।

প্রাকৃতিক পরিবেশের দিক থেকেও কানিহারী ইউনিয়ন সমৃদ্ধ। ইউনিয়নের বুক চিরে প্রবাহিত হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ। পাশাপাশি শিমুলিয়া খাল, বড়গাঁও খাল ও পাজনখালী খাল এলাকার সৌন্দর্য ও কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এখানকার ১০টি বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

সব মিলিয়ে ৪নং কানিহারী ইউনিয়ন একটি সম্ভাবনাময়, স্বনির্ভর ও প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ জনপদ, যেখানে কৃষি, শিক্ষা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক জীবন একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


৪নং কানিহারী ইউনিয়ন: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ গ্রামীণ জীবন

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলায় অবস্থিত ৪নং কানিহারী ইউনিয়ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গ্রামীণ জনজীবনের এক সমৃদ্ধ জনপদ। সমতল ও অসমতল ভূমির সমন্বয়ে গঠিত এই ইউনিয়নটি ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। উত্তরে ৩নং কাঁঠাল ইউনিয়ন, দক্ষিণ-পূর্বে বালিপাড়া ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে রামপুর ইউনিয়ন এর সীমানা নির্ধারণ করেছে।

কানিহারী ইউনিয়নে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও সুবিধাজনক। ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহ সড়ক ধরে মাদানী সিএনজি পাম্পের বিপরীত পাশে মাহিন্দ্রা স্টেশন থেকে কাকচর ও বড়মা হয়ে সরাসরি আহম্মদাবাদ বাজারে পৌঁছানো যায়। ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি এই বাজারের পাশেই অবস্থিত। ব্যক্তিগত গাড়ি, টেম্পো, রিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী সড়ক যোগাযোগ এখানে বিদ্যমান।

৩৩.৯৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই ইউনিয়নে রয়েছে ৯টি ওয়ার্ড, ২৯টি গ্রাম ও ২০টি মৌজা। গ্রামগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বালিদিয়া, স্বরসতি কান্দা, রাঘববাড়ী, তালতলা, সুরিলের কান্দা, বড়মা, এলংজানী, মাদলার গোপ, কানিহারী, চাঁদবাড়ী, জিলকী, তিরখী, বারইগাঁ, সুলতানপুর, মান্দাটিয়া, বহুলী কান্দা, পলাশতলী, গড়পাড়া, বিয়াড়ত্তা, কুষ্টিয়া ১ম খন্ড বাঘাদাড়িয়া, চর বাঘাদাড়িয়া, ডাকেরচক, ডাক বাঘাদাড়িয়া, গোবিন্দপুর, দেওপাড়া, কুষ্টিয়া ২য় খন্ড থাপুন আলা ও বরকান্দা। ইউনিয়নে প্রায় ৭,৭১০টি পরিবার বসবাস করে।

কানিহারী ইউনিয়নের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। এখানকার প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া ৭ শতাংশ কৃষি শ্রমিক, ৫ শতাংশ দিনমজুর, ১২ শতাংশ ব্যবসায়ী এবং ৭ শতাংশ চাকুরিজীবী। বাকি ৭ শতাংশ মানুষ অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত। শিক্ষার হার প্রায় ৪৭ শতাংশ।

খাদ্যশস্য উৎপাদনে এই ইউনিয়ন স্বয়ংসম্পূর্ণ। বার্ষিক চাহিদা ১৯,৬৪০ মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হয় প্রায় ৩০,০০০ মেট্রিক টন, ফলে প্রায় ১০,৩৬০ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত থাকে। প্রধান ফসল হিসেবে আউশ, আমন ও বোরো ধানের চাষ হয়। মোট ২,৬৩২ হেক্টর কৃষিজমির মধ্যে ১৬২ হেক্টর এক ফসলি, ৮১০ হেক্টর দুই ফসলি এবং ১,৬৬০ হেক্টর তিন ফসলি জমি রয়েছে। সেচাধীন জমির পরিমাণও ১,৬৬০ হেক্টর।

এই ইউনিয়নে রয়েছেন ১৫০ জন বর্গাচাষী, ৪,৯৪০ জন প্রান্তিক চাষী, ৩,৫৭০ জন ক্ষুদ্র চাষী, প্রায় ৬৫ জন মাঝারি চাষী এবং ৪৮ জন বড় চাষী। কৃষি ব্যবস্থাপনায় ৩টি কৃষি ব্লক কার্যকর রয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে এখানে ৫টি ইটভাটা, ৫টি রাইস মিল ও ২টি স্থ মিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জলসুবিধার ক্ষেত্রে ইউনিয়নে রয়েছে ৪৩টি গভীর নলকূপ ও ৯১০টি সাধারণ নলকূপ। প্রায় ৮৫ শতাংশ পরিবার স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক দিক।

ধর্মীয় ও সামাজিক সহাবস্থানের ক্ষেত্রেও কানিহারী ইউনিয়ন উল্লেখযোগ্য। এখানে রয়েছে ৬৬টি মসজিদ, ১টি কওমী মাদ্রাসা ও ৮টি মন্দির। পাশাপাশি ২০টি ঈদগাহ মাঠ ও ৩টি মাজার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে রয়েছে ২টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি দাখিল মাদ্রাসা এবং ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্বাস্থ্যসেবার জন্য রয়েছে ১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও ৩টি কমিউনিটি সেন্টার। সামাজিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছে ২৫টি ক্লাব।

প্রাকৃতিক পরিবেশের দিক থেকেও কানিহারী ইউনিয়ন সমৃদ্ধ। ইউনিয়নের বুক চিরে প্রবাহিত হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ। পাশাপাশি শিমুলিয়া খাল, বড়গাঁও খাল ও পাজনখালী খাল এলাকার সৌন্দর্য ও কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এখানকার ১০টি বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

সব মিলিয়ে ৪নং কানিহারী ইউনিয়ন একটি সম্ভাবনাময়, স্বনির্ভর ও প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ জনপদ, যেখানে কৃষি, শিক্ষা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক জীবন একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ