ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রাত হলেই মহাসড়ক যেন মৃত্যুকূপ,

রাত হলেই মহাসড়ক যেন মৃত্যুকূপ, পুলিশের নিরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ



রাত হলেই মহাসড়ক যেন মৃত্যুকূপ, পুলিশের নিরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ

রাত হলেই মহাসড়ক যেন মৃত্যুকূপ, পুলিশের নিরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জ: দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন যাত্রী ও চালকদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের সাইনবোর্ড থেকে চিটাগাংরোড (শিমরাইল) এলাকা, মুন্সিগঞ্জ ও কুমিল্লা সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা এখন ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের অভয়ারণ্য। সন্ধ্যা নামার পর থেকেই এই চক্রের তাণ্ডব শুরু হয়।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের সক্রিয়তা না থাকায় অপরাধীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাইনবোর্ড থেকে চিটাগাংরোড পর্যন্ত মহাসড়কের ফ্লাইওভারের নিচ ও যাত্রী ছাউনিগুলোতে রাতে ঘাপটি মারে সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা। দূরপাল্লার বাস থেকে নামা যাত্রী বা বাসের জন্য অপেক্ষারত শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছেন। এমনকি অনেক সময় ‘হ্যালো চেক’ বা ‘শর্ট ট্রিপ’ এর নামে সিএনজি বা প্রাইভেটকারে যাত্রী তুলে নিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।


মহাসড়কের মদনপুর, মোগরাপাড়া ও গজারিয়া অংশে ডাকাত দলগুলো চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়া বা রাস্তায় কৃত্রিম ব্যারিকেড তৈরি করে ডাকাতি করছে। গত কয়েক সপ্তাহে এই রুটে একাধিক বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন,

"সাইনবোর্ডে পুলিশের সামনেই অনেক সময় পকেটমার বা ছিনতাইকারীরা ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু পুলিশ তাদের চেনেও ধরে না। রাত ১২টার পর মহাসড়ক পুরোটা ডাকাতদের দখলে চলে যায়।"

পণ্যবাহী ট্রাক চালকরা জানান, কাঁচপুর থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত এলাকায় রাতে গাড়ি চালানো ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতিরোধক বা অন্ধকার বাঁকগুলোতে ডাকাতরা গাছ ফেলে বা দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে গাড়ি থামিয়ে চালক-হেলপারদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে।


সমাধান কোন পথে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইনবোর্ড ও চিটাগাংরোড এলাকায় পুলিশি টহল দ্বিগুণ করতে হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্ট সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং অন্ধকার এলাকায় ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করতে হবে।


এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান,

"অপরাধ দমনে আমাদের তৎপরতা চলছে। তবে জনবল সংকটের কারণে কিছু কিছু জায়গায় সমস্যা হচ্ছে, যা দ্রুতই সমাধানের চেষ্টা করা হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রাত হলেই মহাসড়ক যেন মৃত্যুকূপ, পুলিশের নিরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাত হলেই মহাসড়ক যেন মৃত্যুকূপ, পুলিশের নিরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জ: দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন যাত্রী ও চালকদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের সাইনবোর্ড থেকে চিটাগাংরোড (শিমরাইল) এলাকা, মুন্সিগঞ্জ ও কুমিল্লা সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা এখন ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের অভয়ারণ্য। সন্ধ্যা নামার পর থেকেই এই চক্রের তাণ্ডব শুরু হয়।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের সক্রিয়তা না থাকায় অপরাধীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাইনবোর্ড থেকে চিটাগাংরোড পর্যন্ত মহাসড়কের ফ্লাইওভারের নিচ ও যাত্রী ছাউনিগুলোতে রাতে ঘাপটি মারে সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা। দূরপাল্লার বাস থেকে নামা যাত্রী বা বাসের জন্য অপেক্ষারত শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছেন। এমনকি অনেক সময় ‘হ্যালো চেক’ বা ‘শর্ট ট্রিপ’ এর নামে সিএনজি বা প্রাইভেটকারে যাত্রী তুলে নিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।


মহাসড়কের মদনপুর, মোগরাপাড়া ও গজারিয়া অংশে ডাকাত দলগুলো চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়া বা রাস্তায় কৃত্রিম ব্যারিকেড তৈরি করে ডাকাতি করছে। গত কয়েক সপ্তাহে এই রুটে একাধিক বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন,

"সাইনবোর্ডে পুলিশের সামনেই অনেক সময় পকেটমার বা ছিনতাইকারীরা ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু পুলিশ তাদের চেনেও ধরে না। রাত ১২টার পর মহাসড়ক পুরোটা ডাকাতদের দখলে চলে যায়।"

পণ্যবাহী ট্রাক চালকরা জানান, কাঁচপুর থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত এলাকায় রাতে গাড়ি চালানো ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতিরোধক বা অন্ধকার বাঁকগুলোতে ডাকাতরা গাছ ফেলে বা দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে গাড়ি থামিয়ে চালক-হেলপারদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে।


সমাধান কোন পথে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইনবোর্ড ও চিটাগাংরোড এলাকায় পুলিশি টহল দ্বিগুণ করতে হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্ট সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং অন্ধকার এলাকায় ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করতে হবে।


এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান,

"অপরাধ দমনে আমাদের তৎপরতা চলছে। তবে জনবল সংকটের কারণে কিছু কিছু জায়গায় সমস্যা হচ্ছে, যা দ্রুতই সমাধানের চেষ্টা করা হবে।"


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ