ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরানের ভয়ে নেতানিয়াহুর বিমান গ্রিসে পালাল


আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানের ভয়ে নেতানিয়াহুর বিমান গ্রিসে পালাল
চিত্র : সংগৃহীত

ইরানের ভয়াবহ হামলার আশঙ্কায় দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় বিমান ‘উইং অব জায়ন’ গ্রিসে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিমানটি ইসরায়েল ছেড়ে গ্রিসের ক্রেটেতে পাঠানো হয়। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ইসরায়েলের নেভাতিম বিমানঘাঁটি থেকে এটি উড্ডয়ন করে।

এর আগেও ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং দু’দফা হামলা-পাল্টা হামলার সময় এই বিমানটি নিরাপত্তার কারণে সরিয়ে নিয়েছিল ইসরায়েল। সাধারণত ‘উইং অব জায়ন’ নেভাতিম বিমানঘাঁটিতেই অবস্থান করে। যুদ্ধ চলাকালে এই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল ইরান।

বিমানটি গ্রিসের দিকে রওনা দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা-পাল্টা হামলার আশঙ্কায় এটি ইসরায়েল ছাড়ছে। অতীতে তিনবার একই কারণে বিমানটি সরিয়ে নেওয়ার নজিরের কথাও তুলে ধরা হয়।

তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তাদের মতে, প্রশিক্ষণ ও সংস্কারের উদ্দেশ্যেই বিমানটি গ্রিসে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তার বক্তব্য আরও কঠোর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে।

ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর পাল্টা আঘাত হানা হবে। এই প্রেক্ষাপটে কাতারের দোহায় অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে নিজেদের কিছু সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে—এই আশঙ্কায় দখলদার ইসরায়েলও উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সম্ভাব্য হামলার পর ইরানের পাল্টা আক্রমণের শঙ্কায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করবে কি না—এই প্রশ্নের চেয়েও এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কখন হামলা শুরু হবে। তাদের ধারণা, যে কোনো সময় মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানে আঘাত হানতে পারে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিশ্বাস করেন যে কোনো হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অবহিত করবে। কারণ ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

এই সতর্কতার অংশ হিসেবে ইসরায়েল তাদের সব সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রেখেছে। বিশেষ করে বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখা হয়েছে।

ইসরায়েলি আর্মি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামরিক করেসপন্ডেন্ট ড্যারন কাদোস বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারণা—যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে আঘাত হানে, তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।

এ ছাড়া লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেন থেকে হুতি গোষ্ঠী এবং সিরিয়া ও ইরাক থেকেও সমন্বিত হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরানের ভয়ে নেতানিয়াহুর বিমান গ্রিসে পালাল

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ইরানের ভয়াবহ হামলার আশঙ্কায় দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় বিমান ‘উইং অব জায়ন’ গ্রিসে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিমানটি ইসরায়েল ছেড়ে গ্রিসের ক্রেটেতে পাঠানো হয়। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ইসরায়েলের নেভাতিম বিমানঘাঁটি থেকে এটি উড্ডয়ন করে।


এর আগেও ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং দু’দফা হামলা-পাল্টা হামলার সময় এই বিমানটি নিরাপত্তার কারণে সরিয়ে নিয়েছিল ইসরায়েল। সাধারণত ‘উইং অব জায়ন’ নেভাতিম বিমানঘাঁটিতেই অবস্থান করে। যুদ্ধ চলাকালে এই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল ইরান।


বিমানটি গ্রিসের দিকে রওনা দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা-পাল্টা হামলার আশঙ্কায় এটি ইসরায়েল ছাড়ছে। অতীতে তিনবার একই কারণে বিমানটি সরিয়ে নেওয়ার নজিরের কথাও তুলে ধরা হয়।


তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তাদের মতে, প্রশিক্ষণ ও সংস্কারের উদ্দেশ্যেই বিমানটি গ্রিসে পাঠানো হয়েছে।


এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তার বক্তব্য আরও কঠোর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে।


ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর পাল্টা আঘাত হানা হবে। এই প্রেক্ষাপটে কাতারের দোহায় অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে নিজেদের কিছু সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।


যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে—এই আশঙ্কায় দখলদার ইসরায়েলও উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সম্ভাব্য হামলার পর ইরানের পাল্টা আক্রমণের শঙ্কায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করবে কি না—এই প্রশ্নের চেয়েও এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কখন হামলা শুরু হবে। তাদের ধারণা, যে কোনো সময় মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানে আঘাত হানতে পারে।


ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিশ্বাস করেন যে কোনো হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অবহিত করবে। কারণ ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।


এই সতর্কতার অংশ হিসেবে ইসরায়েল তাদের সব সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রেখেছে। বিশেষ করে বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখা হয়েছে।


ইসরায়েলি আর্মি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামরিক করেসপন্ডেন্ট ড্যারন কাদোস বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারণা—যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে।


তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে আঘাত হানে, তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।


এ ছাড়া লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেন থেকে হুতি গোষ্ঠী এবং সিরিয়া ও ইরাক থেকেও সমন্বিত হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ