ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শেখ হাসিনা সহ ১৭০ পলাতক আ'সামি অভিযুক্ত


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

শেখ হাসিনা সহ ১৭০ পলাতক আ'সামি অভিযুক্ত
চিত্র : সংগৃহীত

ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কলেজ শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুম (২৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় আদালত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছে। এতে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ মোট ১৭০ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

ফেনী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান বুধবার এই আদেশ দেন। মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মাহবুবুল মাসুমকে মাথায় গুলি লাগে। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৭ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। মামলার বাদী তার ভাই মো. মাহমুদুল হাসান ১৬২ জনকে এজাহারনামীয়, আরও ৪০০–৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে ১২ জন এজাহারনামীয় ও ৩৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মোট অভিযুক্ত ২২১ জন, যার মধ্যে ১৭০ জন পলাতক। পলাতকদের মধ্যে চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাদের বিচার হবে শিশু আদালতে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আগামী ২২ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। আদালত চার্জশিট গ্রহণ ও শুনানি করতে সাড়ে পাঁচ মাস সময় নিয়েছে।

উল্লেখযোগ্য পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সদর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভূঞা উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, সোনাগাজী উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন এবং যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম পিটু।

মাহবুবুল মাসুম সোনাগাজীর চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তরাব পাটোয়ারী বাড়ির মৃত মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক হয়েছেন।

মাহমুদুল হাসান বলেছেন, “আমার ভাই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক।”

মহিপালে সহিংসতার ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় ২৪টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৭টি হত্যা এবং ১৭টি হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শেখ হাসিনা সহ ১৭০ পলাতক আ'সামি অভিযুক্ত

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কলেজ শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুম (২৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় আদালত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছে। এতে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ মোট ১৭০ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।


ফেনী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান বুধবার এই আদেশ দেন। মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মাহবুবুল মাসুমকে মাথায় গুলি লাগে। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৭ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। মামলার বাদী তার ভাই মো. মাহমুদুল হাসান ১৬২ জনকে এজাহারনামীয়, আরও ৪০০–৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।


মামলার তদন্তে ১২ জন এজাহারনামীয় ও ৩৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মোট অভিযুক্ত ২২১ জন, যার মধ্যে ১৭০ জন পলাতক। পলাতকদের মধ্যে চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাদের বিচার হবে শিশু আদালতে।


মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আগামী ২২ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। আদালত চার্জশিট গ্রহণ ও শুনানি করতে সাড়ে পাঁচ মাস সময় নিয়েছে।


উল্লেখযোগ্য পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সদর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভূঞা উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, সোনাগাজী উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন এবং যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম পিটু।


মাহবুবুল মাসুম সোনাগাজীর চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তরাব পাটোয়ারী বাড়ির মৃত মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক হয়েছেন।


মাহমুদুল হাসান বলেছেন, “আমার ভাই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক।”


মহিপালে সহিংসতার ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় ২৪টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৭টি হত্যা এবং ১৭টি হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ